Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ৮ মে, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ মে, ২০১৯ ২৩:০৫

সিলেটে হঠাৎ আলোচনায় তিন নেতা

শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

সিলেটে হঠাৎ আলোচনায় তিন নেতা

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, ড. রেজা কিবরিয়া ও মোকাব্বির খান। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনীতিতে আলোচিত হয়ে উঠেছে এ তিন নাম। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে শুরু হয়েছিল তাদের নিয়ে আলোচনা। নির্বাচনে তাদের জয়-পরাজয়, রাজনীতিতে তাদের ভবিষ্যৎ আর বিজয়ীদের সংসদে যোগদান নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা- সব মিলিয়ে কয়েক মাস ধরেই রাজনৈতিক সচেতন মহলের চোখ ছিল তাদের ওপর। এরপর দল ও জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খানের সংসদে শপথ গ্রহণ আলোচনায় নতুন করে হাওয়া লাগে। আর সবশেষ গণফোরামের সম্মেলনে ড. রেজা কিবরিয়ার সাধারণ সম্পাদক পদে আসীন ও দলীয় ‘প্যাড চুরির’ দায়ে অভিযুক্ত মোকাব্বির খানের সভাপতিম-লীতে ঠাঁই পাওয়া এখন সিলেটের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম বিষয়বস্তু। এ ছাড়া বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়ে গেলে সুলতান মোহাম্মদ মনসুরও শেষ পর্যন্ত গণফোরামের ছাতার নিচে ফিরে যাচ্ছেন কি না তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে সৃষ্টি হয়েছে আগ্রহ।

ড. রেজা কিবরিয়া : সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও তার কর্মকা- ছিল আওয়ামী লীগের রাজনীতি ঘিরে। বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে  হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ারও দাবি উঠেছিল জোরেশোরে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের গুডলিস্টে ঠাঁই হয়নি রেজা কিবরিয়ার নাম। সবাইকে চমকে দিয়ে ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর রেজা কিবরিয়া যোগ দেন গণফোরামে। ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তার বাবা শাহ এ এম এস কিবরিয়া নিহত হয়েছিলেন। সেই বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে নির্বাচন করা প্রসঙ্গে ড. রেজা কিবরিয়া ওই সময় জানিয়েছিলেন, বাবার হত্যার বিচার না পেয়ে ক্ষোভ থেকে তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন। নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনীতিতে কিছুটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও রবিবার সম্মেলনে ড. রেজা কিবরিয়াকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করেছে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক দল গণফোরাম। দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বসিত ড. রেজা কিবরিয়াও। প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, ‘ড. কামাল স্যারের নেতৃত্বে আমি এ দায়িত্ব পেয়ে খুবই খুশি, কৃতজ্ঞ। আমি সবার জন্য কাজ করব।’ গণফোরামে যোগ দেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় দলটির সাধারণ সম্পাদক বনে যাওয়া রেজা কিবরিয়া তাই নতুন করে সিলেটজুড়ে আলোচিত হচ্ছেন।

সুলতান মোহাম্মদ মনসুর : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর যোগ দেন গণফোরামে। এরপর নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে বিজয়ী হন তিনি। নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শপথ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করেই শপথ নেন সুলতান। এরপর গণফোরাম থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। সেই বহিষ্কারাদেশ এখনো বহাল রয়েছে। তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শপথ গ্রহণ না করার সেই পরিস্থিতি বদলে গেছে। শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপির পাঁচ এমপিও। এ রকম অবস্থায় যে শপথের জন্য সুলতান মনসুরকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার হয় কি না, এ নিয়ে সিলেটে আলোচনা আছে। তবে গণফোরামের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই হয়নি সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের। অবশ্য গণফোরামের নতুন সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া জানিয়েছেন, সুলতান মনসুর যদি বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন, তবে তা বিবেচনা করা হবে। আর সুলতান মনসুর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আপাতত তিনি ‘এলাকার মানুষের জন্য কাজ করার কথাই ভাবছেন’।

মোকাব্বির খান : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে সবেচেয়ে বেশি আলোচিত নাম মোকাব্বির খান। নির্বাচনের আগে তো দূরের কথা, ভোটের মাঠেও তেমন কোনো পরিচিতি ছিল না তার। নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা। শেষ মুহূর্তে লুনার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় তড়িঘড়ি করে ‘অপরিচিত’ মোকাব্বিরকে প্রার্থী করা হয়। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ভোটে মোকাব্বির বিজয়ী হন। সেই থেকে তিনি ‘গুডলাক এমপি’ হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছেন। নির্বাচনের পর সুলতান মনসুরের মতো মোকাব্বিরও দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ওই সময় দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে, গণফোরামের দলীয় প্যাড ‘চুরি করে’ শপথ নিয়েছেন তিনি। ২ এপ্রিল শপথের দুই দিন পর চেম্বারে দেখা করতে গেলে তাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে বলেছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। ঘটনার পরিক্রমায় মোকাব্বিরকে শোকজ করে গণফোরাম। তাকে বহিষ্কারের চিন্তাভাবনাও ছিল দলটির। তবে বিএনপির পাঁচ এমপি শপথ গ্রহণ করায় গণফোরাম সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। আর সর্বশেষ তাকে দলের সভাপতিম-লীর সদস্য করা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য