শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৫ আগস্ট, ২০১৯ ২৩:২৭

হজের সময় পকেট কাটার জন্য তারা যায় সৌদি আরব

মাহবুব মমতাজী

হজের সময় পকেট কাটার জন্য তারা যায় সৌদি আরব

দেশে তাদের পেশা চুরি আর ছিনতাই। হজ মৌসুমে তারা দুই মাসের জন্য সৌদি আরবে পাড়ি জমায়। তবে হজ পালনের নিয়তে নয়। হজ পালন করতে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষের ডলার, পাউন্ড হাতিয়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য।  রাজধানীর বিমানবন্দরে এমন একটি চক্রের ৬ সদস্যকে গত ২৭ জুলাই গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি উত্তর)। গ্রেফতার হওয়া রুহুল কুদ্দুস, মাসুদুল হক আপেল, লাবু মিয়া, সুমন ভুইয়া সুমা, জাহিদুল ইসলাম ও দুলাল মোল্লাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই মিলেছে হজে গিয়ে পকেট মারার তথ্য।

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা জানান, এ চক্র রাজধানীতে বিশেষ করে বিমানবন্দরে আসা যাত্রীদের আত্মীয়-স্বজনদের টার্গেট করে চুরি, ছিনতাই ও পকেট মারত। দেশে ১০ মাস চুরি-ছিনতাই করলেও হজের সময় এলেই আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ করে সৌদি চলে যায়। এর আগে মাসুদুল হক আপেলসহ তার ৮ সহযোগী ২০০৮ সালে সৌদি আরবে গিয়ে হাজীদের পকেট মারার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়।

 তিন মাস পর সৌদি জেল থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশে ফিরে আবারও একই কাজ শুরু করে। ১৫ বছর ধরে প্রতিবছরই তারা দুই মাসের জন্য সৌদি আরবে যাচ্ছে বলে স্বীকার করে। এ বছরও তারা সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। দলের হোতা আপেলের নেতৃত্বে ১২ জনের সংঘবদ্ধ চক্রের প্রত্যেকের পাসপোর্ট রয়েছে। হজে গিয়ে হাজীদের পকেট কেটে প্রত্যেকে ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে দেশে ফিরে আসত।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-উত্তর) উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, ঢিলেঢালা পোশাক যারা পরেন তাদের সবার বেশি সতর্ক থাকা উচিত। কারণ এদেরই খুব সহজেই টার্গেট করত এই প্রতারকরা। তবে তারা হজ, ঈদ এলেই বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এদের আছে সাম্বু নামের একজন গুরু যার নেতৃত্বে এরা হজে গিয়ে মক্কা, মদিনায় হাজীদের পকেট কাটায় ব্যস্ত হয়ে ওঠে।

ডিবি সূত্র জানায়, গত ২৭ জুলাই বিমানবন্দর গোল চত্বর এলাকার ফুটওভার ব্রিজ থেকে চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় পকেট কাটার জন্য অত্যাধুনিকভাবে তৈরি পিতলের বাট দিয়ে আটকানো একটি ব্লেড ও দুই পাতা চেতনাশক ট্যাবলেট, ঘুমের ওষুধের গুঁড়ার ৭টি পুরিয়া, ৩ পিস খুরমা খেজুর, দুটি মলম জব্দ করা হয়। হজের মৌসুম ছাড়া অন্যান্য সময়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা যাত্রীদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে অত্যন্ত সুকৌশলে মিষ্টি কথাবার্তায় মিশে যেত। দ্রুত সময়ে সম্পর্ক তৈরি করে বিভিন্ন কৌশলে চা, পানি, জুস, ডাব, শরবত বা খুরমা খেজুরের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়াত। এরপর বিমানযাত্রীদের স্বজনরা অজ্ঞান হয়ে গেলে তাদের সর্বস্ব লুট করে নিত। এ ছাড়া সুকৌশলে পথচারীদের চোখেও মলম লাগিয়ে তাদের সর্বস্ব হাতিয়ে নিত।

ডিবি-উত্তরের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মহরম আলী জানান, চক্রটি বিমানবন্দরে যাত্রীদের সঙ্গে আসা সব স্বজনকে টার্গেট করে না। তারা মূলত সঙ্গে আসা স্বজনদের মধ্য থেকে মাত্র একজনকে টার্গেট করে অজ্ঞান করে তার সবকিছু নিয়ে নিত।


আপনার মন্তব্য