Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০৭

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাজে ভাটা

রফিকুল ইসলাম রনি

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাজে ভাটা

ভাটা পড়েছে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাজ। ঘোষণা দিয়েও শুরু করা হয়নি সদস্য সংগ্রহ অভিযান। উপজেলা পরিষদের গত নির্বাচনে দলের ‘নৌকাবিরোধী’ নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নও আটকে আছে। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলার কমিটি গঠনের পরিকল্পনা থাকলেও অনেক জেলা ও উপজেলায় এ সংক্রান্ত এখন কার্যক্রম নেই। বর্ধিত সভাই ডাকা হয়নি অনেক জেলায়। অবশ্য আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো ও মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু ও গুজব মোকাবিলার কারণেই ভাটা পড়েছে সাংগঠনিক কাজে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা আবার জেলা সফর শুরু করবেন। দলের একাধিক নেতা জানান, রাজনীতির মাঠে বেশ নির্ভার থাকলেও বন্যা ও ডেঙ্গুর মতো দুর্যোগ আওয়ামী লীগকে চাপে ফেলেছে। এরই মধ্যে সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও নির্মাণরত পদ্মা সেতু জোড়া লাগাতে এক লাখ মানুষের কথিত কাটা মাথা লাগার গুজব ক্ষমতাসীনদের ভিতরে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি রাজনীতির মাঠে না থাকলেও ডেঙ্গু, বন্যা ও গুজব নিয়ে সামাজিক অসন্তোষ যেন দেখা দিতে না পারে, সে জন্য দলীয় কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রেখে জনগণকে দ্রুত দুর্ভোগমুক্ত করতে সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগও আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দলীয় কোনো ব্যর্থতার সুযোগ যেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নিতে না পারেন, এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান  নিয়েছেন ক্ষমতাসীনরা। সে কারণে সংগঠনের কাজে কিছুটা ভাটা পড়েছে। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের সামনে একের পর এক ইস্যু চলে আসছে। ইস্যুগুলো মোকাবিলা করেই সাংগঠনিক কাজ করতে হচ্ছে। সে কারণে হয়তো যথাসময়ে কাজগুলো করা যাচ্ছে না। তবে সংগঠনের কাজে মনোযোগ নেই এমন নয়। আমরা তো কাজ করছি। আওয়ামী লীগ এমন একটি দল, মাত্র সাত দিনের নোটিসে কেন্দ্রীয় সম্মেলন করার ক্ষমতা রাখে।’ জানা গেছে, আগামী ২৩ অক্টোবর শেষ হচ্ছে আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ। যথাসময়েই দলের কাউন্সিল করার নির্দেশনা থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রস্তুতি নেই। দলের রীতি অনুসারে জাতীয় সম্মেলনের আগে তৃণমূল তথা ইউনিয়ন, থানা, জেলা পর্যায়ের সম্মেলন শেষ করে এরপর কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত জেলা সম্মেলন তো দূরে থাক, দু-একটি ছাড়া কোনো উপজেলায় সম্মেলন হয়নি। তৃণমূল নেতারা বলছেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের উদাসীনতার কারণেই থমকে আছে জেলা-উপজেলা সম্মেলন। এ ছাড়া জেলা সফরে এসে লোক দেখানো কাজ করেই চলে যান তারা। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সাংগঠনিক কাজে ভাটা পড়েছে, কথাটি সঠিক নয়। আমরা বসে নেই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা নির্বাচনে কাজ করলাম। এরপর আমার বিভাগের ১০টি জেলায় বর্ধিত সভা করেছি। অনেক উপজেলায় সম্মেলনের তারিখ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুজব, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের মাঠে থাকতে হচ্ছে।’ এ প্রসঙ্গে রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে ‘দীর্ঘদিন পর রংপুর, নীলফামারীতে বর্ধিত সভা করেছি। আগামী সেপ্টেম্বর রংপুরের ছয়টি উপজেলায় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। আমরা তো কাজ করছি।’

জানা গেছে, গত মাসের ২৭ তারিখে উপজেলা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের মদদদাতা এমপি-মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বহিষ্কার ও সতর্ক করার চিঠি ইস্যু করার কথা ছিল। কিন্তু বন্যা ও ডেঙ্গুর কারণে তা বাতিল করা হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ১২৬ উপজেলা বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হবে। একই সঙ্গে নোটিস দেওয়া হবে তাদের ইন্ধনদাতাদের। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে বিদ্রোহীদের মদদদাতা ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের চিহ্নিত করেছি। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই শোকজ করব। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাব।’ তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তদের ছাড় দিতে নারাজ দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারণ এখন থেকে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে দলের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছিল আওয়ামী লীগ। তখন শুরুতে কিছুটা উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও কিছু দিন পরই নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলে ঢিলেঢালাভাবে। ফলে তখন সে কাজ আর শেষ হয়নি। এরপর গত জুনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ১ জুলাই থেকে সারা দেশে এই কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে সে তারিখও পেছানো হয়। ৩০ জুন সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, ২১ জুলাই থেকে সারা দেশে নতুন ভোটারদের আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির কার্যক্রম শুরু হবে। কিন্তু পরে সে তারিখও পেছানো হয়। ফলে ঘোষণা দেওয়ার পরও পুরনো সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান কার্যক্রম পেছানো হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে আবারও এই কার্যক্রম শুরু করবে দলটি। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সদস্য সংগ্রহ অভিযান দলের একটি নিয়মিত কাজ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সদস্য সংগ্রহ করতে হবে এমন নয়। যারা প্রথমবার ভোটার হয়েছেন, যাদের কোনো বির্তক নেই ও নারী ভোটারদের প্রাধান্য দিয়ে আমরা সদস্য সংগ্রহ করছি। এটা চলতে থাকবে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর