শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৪৬

১১ হাজার অবৈধ বিদেশিকে ফেরত পাঠাবে সরকার

বিশেষ প্রতিনিধি

১১ হাজার অবৈধ বিদেশিকে ফেরত পাঠাবে সরকার

বাংলাদেশে ১১ হাজার বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে রয়েছেন। সরকারি অর্থে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এ কথা জানান মন্ত্রী।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, অনেক বিদেশি নাগরিক এ দেশের ভিসা নিয়ে আসে। পরবর্তীকালে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে অনেকেই ফেরত যান না। তারা মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় আছেন। আমাদের গত সভায় সিদ্ধান্ত ছিল তাদের চিহ্নিত করা। অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা তাদের চিহ্নিত করেছে। তিনি বলেন, এখন সমস্যা দেখা দিয়েছে, ওরা যে ফেরত যাবে তাদের কাছে টাকাও নেই। ওদের আমরা কী করব? আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সরকারের কাছে অনুরোধ করব কিছু টাকা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য। যাতে ওইসব অবৈধভাবে বসবাসকারী লোকদের তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া যায়। জেলে দিয়ে তো সমাধান হচ্ছে না। ওরা যে টাইপের লোক ওদের সম্বন্ধে জানেন, জেলখানায় গিয়েও একটা ঝালেমা সৃষ্টি করবে। কী সংখ্যক অবৈধ বিদেশি বাংলাদেশে আছে- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ১১ হাজারের মতো এমন বিদেশি নাগরিক আছেন। তারা কোন দেশের- এ বিষয়ে তিনি বলেন, তারা বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে আফ্রিকার দেশগুলোরই বেশি, নাইজেরিয়া, তানজেনিয়া- এসব দেশের নাগরিক। মূলত ক্রিমিনাল টাইপের লোকই থেকে যায় জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ভালো নাগরিকরা তো থাকেন না। এ বিষয়ে পাশে বসা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, যারা অবৈধভাবে এখানে অবস্থান করছেন, তারা ভিসা নিয়ে ঠিকই ঢুকেছিলেন। তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে কিংবা তারা অবৈধভাবে রয়েছেন, কিংবা কোনো ক্রাইমে জড়িত হয়েছেন। তারাই আমাদের জেলখানায় রয়েছেন। আসাদুজ্জামান খান বলেন, জেলখানায় তাদের সাজার মেয়াদ শেষ হলেও দূতাবাসগুলোতে যোগাযোগ করার পরও নিয়ে যাচ্ছে না। যারা অবৈধভাবে আছে তারা ক্রাইমের সঙ্গেও জড়িত হচ্ছে। এই সংখ্যা শুধু যে ক্রাইমের সঙ্গে জড়িত ও তারা কারাগারে রয়েছে তা নয়। যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে আসে  তাদের হয়তো অজান্তেই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এমন সংখ্যাও আছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রত্যাহার করা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিষয়ে তদন্ত করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক সভায় সভাপতিত্ব করেন। গত বুধবার আপনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে একজন সাংবাদিক বলতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় এ প্রসঙ্গটি থাক। এটা তো আমাদের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ব্যাপার, এটা নিয়ে আপনাতের জিজ্ঞাসা করার দরকার কী? উনার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছে যে, উনি চাঁদাবাজি করছিলেন, একজনকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিনা- এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেখুন, তিনি উঠিয়ে নিয়ে গেছেন নাকি কী করেছেন, এটা তো তদন্তের ব্যাপার। তদন্তের আগে আমরা কী বলব তিনি অপরাধ করেছেন? তদন্তের পরই আমরা এগুলো খোলাসা করে বলতে পারব। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মন্তব্য