শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:১১

কৃষি সংবাদ

পুষ্টিগুণে কালো মুরগি কাদাকনাথ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

পুষ্টিগুণে কালো মুরগি কাদাকনাথ

কুচকুচে কালো মুরগি কাদাকনাথ। শুধু পালকই নয়, চামড়া, ডিম, মাংস, হাড়, কলিজা-সবই কালো। কিন্তু এর পুষ্টিগুণ অন্য জাতের মুরগির চেয়ে বহুগুণ বেশি। এসব কারণে এই মুরগি ‘কালো হীরা’ নামে পরিচিত। ভারতের মধ্যপ্রদেশের এই মুরগি পাওয়া যাচ্ছে রাজশাহীতে। মহানগরীর উপকণ্ঠ মাসকাটাদীঘির সরকার শরীফুল ইসলামের নিজস্ব খামারে এই মুরগি বড় হচ্ছে। খামারের তত্ত্বাবধায়ক মাসুদুর রহমান সুইট জানালেন, বছরখানেক আগে খামারে এই মুরগির বাচ্চা আনা হয়। এখন দুই কেজি ওজনের প্রতিটি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। আর বাচ্চা ফোটানোর উপযোগী ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৩০ টাকা করে। তিনি জানান, দেশি মুরগির মতো কাদাকনাথ মুরগিও উন্মুক্ত স্থানে ছেড়ে পালন করা যায়। এর মাংস দেশি, ব্রয়লার, লেয়ার বা পাকিস্তানি ক্রস মুরগির চেয়ে সুস্বাদু এবং নিরাপদ। রোগীদের পথ্য হিসেবেও অনেকে এই মুরগির মাংস এবং ডিম খান। ঔষধি গুণের কারণেই খামারের মালিক এই মুরগির পালন শুরু করেছেন। তবে সেভাবে প্রচার না হওয়ার কারণে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, যৌন দুর্বলতা এমনকি ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য কাদাকনাথ মুরগির মাংস এবং ডিম খুব উপকারী। এই মুরগির মাংসে আমিষের পরিমাণ ২৫ শতাংশের বেশি। অথচ অন্যান্য মুরগিতে এর পরিমাণ ২০ শতাংশ। গবেষণায় দেখা গেছে, এই মুরগির মাংসে কোলেস্টরেল শূন্য দশমিক ৭৩ থেকে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। যা অন্য মুরগিতে ১৩ থেকে ২৫ শতাংশ।

শুধু তাই নয়, এর মাংসে রয়েছে ১৮ ধরনের হরমোন সমৃদ্ধ এমাইনো অ্যাসিড। যার মধ্যে আটটি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া কাদাকনাথ মুরগির মাংসে আছে পরিমিত ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৬, বি-১২, সি, ই, নিয়াসিন, প্রোটিন, সামান্য চর্বি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ ও নিকোটিন অ্যাসিড। এগুলোর সবই মানবদেহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর যারা উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন তাদের জন্য এর ডিম খুবই উপকারী। ডিমে খুবই সামান্য পরিমাণে ফ্যাট ও কোলেস্টেরল রয়েছে। কাদাকনাথ মুরগির ডিম মারাত্মক মাথা ব্যথারও নিরাময়ক হিসেবে কাজ করে। তাদের দাবি, নানা উপকারিতা রয়েছে এই ‘কালো হীরা’ মুরগির। রাজশাহীর সাবেক পশুপালন বিশেষজ্ঞ ডা. আহসান হাবীব বাবু জানান, ‘সহজলভ্য নয় বলে এই মুরগি রাজশাহীতে এখনো জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এটি অত্যন্ত মূল্যবান। যারা শারীরিক নানা সমস্যায় ভোগেন তারা এই মুরগির মাংস খেলে খুব উপকার পাবেন।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর