শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:১১

ধ্বংসের পথে চারআনি রাজপরগনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

ধ্বংসের পথে চারআনি রাজপরগনা

রাজশাহীর পুঠিয়ায় চারআনি রাজ পরগনার মূল ফটক ভেঙে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এ ফটকের পাশাপাশি চারআনি রাজপরগনার মূল ফটকসহ ভবনের কিছু অংশ ভেঙে পড়ে। রাজবাড়ির দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা ভেঙে পড়া অংশ অপসারণ করেছেন।

নাট্যকার ও গবেষক কাজী সাঈদ হোসেন দুলাল বলেন, বারো ভূঁইয়ার ইতিহাস ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে এ রাজপরগনায়। পরগনার কয়েকটি স্থান প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর সংরক্ষণ করলেও নানা কারণে চারআনি রাজবাড়িটি বাইরে রয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চারআনি রাজবাড়ি ধ্বংসের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত পরগনার সংরক্ষণ কাজ শুরু না করলে আগামী প্রজন্ম রাজপরগনার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের শেষ স্মৃতিটুকুও দেখতে পাবে না।

জানা যায়, বৎসাচার্যের পুত্র পিতাম্বর ১৫৫০ সালে রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবংশের গোড়াপত্তন করেন। আর পিতাম্বরের অনুজ নীলাম্বর পুঠিয়া রাজবংশের প্রথম রাজা হন। চতুর্থ ধনপতি চাঁদ সওদাগর থেকে শুরু করে পরেশ নারায়ণ ও নরেশ নারায়ণ বাহাদুর পুঠিয়া রাজবংশ প্রায় ৪০০ বছর শাসন করেন। এরপর ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে রাজপ্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর রাজপরগনার উত্তরাধিকারীরা সপরিবারে ভারতবর্ষে গমন করেন।

বর্তমানে পুঠিয়া পরগনায় রাজা নেই, রাজ্যও নেই। রাজপরগনাজুড়ে আছে তাদের স্মৃতিবিজড়িত পুরাকীর্তি। বর্তমানে কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চারআনি রাজবাড়ি প্রায় বিলুপ্তের পথে। স্থানীয়দের দাবি, কর্তৃপক্ষ পুরাকীর্তি সংবলিত রাজবাড়িটি সংরক্ষণ না করলে রাজপরগনার ইতিহাস ঐতিহ্যের শেষ অংশটুকু বিলীন হয়ে যাবে। স্থানীয়দের তথ্য মতে, রাজপ্রথা বিলুপ্তির পর চারআনি রাজবাড়ি মামলা জটিলতায় এক প্রকার পরিত্যক্ত হিসেবে ছিল। সেখানে গত কয়েক দশক ধরে পুঠিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। চারআনি রাজবাড়ি বাদে পুঠিয়া রাজপরগণার বেশির ভাগ অংশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের অধীনে। সেগুলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর রক্ষণাবেক্ষণ করছে। আর চারআনি রাজবাড়িটি প্রত্নতত্ত্বের নিয়ন্ত্রণে না থাকায় সেখানে এখনো পর্যন্ত সংস্কারের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। ফলে পর্যায়ক্রমে রাজবাড়ির বেশিরভাগ অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আঞ্চলিক প্রকৌশলী নাহিদ সুলতানা বলেন, ‘চারআনি রাজবাড়িটির মালিকানা দাবি করে বেগমের মেয়ে মামলা করেছিলেন। যা এখনো বিচারাধীন। এ কারণে চারআনি রাজবাড়িটি আমরা সংরক্ষণ ও সংস্কার কাজ করতে পারিনি। তারপরও চেষ্টা করছি যেন রাজবাড়ির শেষ অংশটুকু সংরক্ষণ করা যায়।’

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুল হাই মো. আনাস বলেন, বর্তমানে পরগণার এক অংশে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কার্যক্রম চলে। এটা আগের মতো পুরাকীর্তিযুক্ত পুনঃসংস্কার করার মতো সামর্থ্য ভূমি অফিসের নেই। আমরা প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরকে বিষয়টি জানাব।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর