শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩১ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৫০

বিজিএমইএতে এবারও ভোট হচ্ছে না

সভাপতি হচ্ছেন ফারুক হাসান

রুহুল আমিন রাসেল

এবারও ভোট হচ্ছে না প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএতে। সংগঠনটির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও জায়ান্ট গ্রুপের কর্ণধার ফারুক হাসান পরবর্তী সভাপতি হচ্ছেন- এ কথা মালিকদের মুখে মুখে। আগামী মার্চের শেষ সপ্তাহে এ নির্বাচন ঘিরে ফারুক হাসানের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ ব্যাপক তৎপর। তার প্যানেলের সঙ্গে সমঝোতার পথ খুঁজছে মালিকদের আরেক পক্ষ আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজের নেতৃত্বাধীন ফোরাম। তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রের। জানা গেছে, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সভাপতি ড. রুবানা হকের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী এপ্রিলে। তিনি সভাপতি হয়েছিলেন মালিকদের দুই পক্ষ সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের সমঝোতায়। এর আগে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানও সমঝোতার মাধ্যমেই সভাপতি হন। এতে ভোটবঞ্চিত হন মালিকরা। তবে সমঝোতা অব্যাহত থাকায় মালিকদের তৃতীয় পক্ষ স্বাধীনতা পরিষদের সৃষ্টি হয় গত নির্বাচনে। এ পরিষদকে মোকাবিলা করেই জয় পায় সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরামের যৌথ প্রার্থী ড. রুবানা হকের নেতৃত্বাধীন বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ। বিজিএমইএতে দীর্ঘদিন পরিচালনা পর্ষদে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম। বর্তমানে সম্মিলিত পরিষদের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি। আর ফোরামের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন সংগঠনটির আরেক সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ। তৃতীয় পক্ষ স্বাধীনতা পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। তিন পক্ষ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও চূড়ান্তভাবে ভোটের বদলে আবারও সমঝোতার আভাস মিলেছে নেতাদের কথায়। জানা গেছে, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ আরও ছয় মাস থাকতেই পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সংগঠনটির বড় নির্বাচনী জোট ‘সম্মিলিত পরিষদ’। ২৪ অক্টোবর উত্তরায় জায়ান্ট গ্রুপের কার্যালয়ে সম্মিলিত পরিষদের মতবিনিময় সভায় ফারুক হাসানকে সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি টিপু মুনশি, কুতুবউদ্দিন আহমেদ, মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস, আবদুস সালাম মুর্শেদী, শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন প্রমুখ। জানা গেছে, ওই সভায় বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ওপর ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেন সম্মিলিত পরিষদের শীর্ষ নেতারা। তারা বর্তমান নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেন। তবু ফোরামের পক্ষ থেকে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। সমঝোতা না হলে বর্তমান সভাপতি রুবানা হককে আবারও প্যানেল লিডার করতে চায় ফোরাম। তার বিকল্প হিসেবে আছেন বর্তমান সহসভাপতি ফয়সাল সামাদ। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফোরাম সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে সমঝোতার ধারাবাহিকতা রক্ষার উদ্যোগ আছে। এটা আগামী দু-এক সপ্তাহের মধ্যে সাবেক সভাপতিরা মিলে চূড়ান্ত করব।’ তবে সম্মিলিত পরিষদের সভাপতি প্রার্থী ফারুক হাসান গতকাল বলেন, ‘আমি চাই নির্বাচন হোক সুন্দরভাবে। ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নেতৃত্বের দায়িত্বশীলতা থাকে। আমার প্যানেলে দ্বিতীয় প্রজম্মের তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেব।’ সমঝোতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের লোকজন বিরক্ত। একচেটিয়া নেতৃত্ব ঠিক নয়। তাই আমরা মনে করি নির্বাচন হওয়া উচিত।’ তবে পরে সমঝোতা হয় কিনা তাও দেখার বিষয় বলে মনে করেন এই নেতা। সম্মিলিত পরিষদের আরেক নেতা, বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি শহিদুল আজিম গতকাল বলেন, ‘আগামী বছর মার্চের শেষ সপ্তাহ কিংবা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন হওয়ার কথা। আমরা নির্বাচনের পক্ষে। নির্বাচন ছাড়া জিতলে কেউ দাম দেয় না।’


আপনার মন্তব্য