শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:৩০

মেয়র আইভীর পরিবারের বিরুদ্ধে দেবোত্তর সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগে অনশন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

মেয়র আইভীর পরিবারের বিরুদ্ধে দেবোত্তর সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগে অনশন
মেয়র আইভীর পরিবারের বিরুদ্ধে দেবোত্তর সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগে গতকাল অনশন -বাংলাদেশ প্রতিদিন

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ এনে প্রতীকী অনশন করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে এ অনশন কর্মসূচি পালিত হয়। গতকাল দুপুরে নগরীর শহীদ মিনারে এই প্রতীকী অনশন শুরু হয়ে বিকাল ৫টায় শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীদের অনশন ভাঙান বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা।

অনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের দেড় ডজন কাউন্সিলর, চারটি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা আইনজীবী সমিতি, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ), বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নসহ ৬টি সাংবাদিক সংগঠন, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি, জেলা ও মহানগর জাসদ, ’৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ নানা শ্রেণি পেশার সংগঠন।

এ কর্মসূচিতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল বলেন, আওয়ামী লীগের লেবাস লাগিয়ে হিন্দু সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা করে মেয়র আইভী দলকে কলঙ্কিত করেছেন। তাকে অবশ্যই জনতার বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বলেন, বড় কষ্ট হয়, যখন দেখি আমাদের সরকার আমলে আমাদেরই দলের মেয়র আইভী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্পত্তি দখলের অভিযোগ ওঠে। কর্মী-সমর্থকদের কাছে তখন লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যায় আমাদের। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মহসিন মিয়া বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং গর্হিত কাজ। ব্রিটিশ পর্চাতেই এই সম্পত্তিটি দেবোত্তর হিসেবে উল্লেখ আছে। প্রচলিত আইনে বা হিন্দু আইনেও দেবোত্তর সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তরযোগ্য নয়। ’৭১-এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা সভাপতি চন্দন শীল বলেন, যে শহরের জন্ম থেকে কবরস্থান, শ্মশান আর খ্রিস্টানদের সমাধিস্থল একসঙ্গে, সেই শহর অসাম্প্রদায়িকতার স্বাক্ষর বহন করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যারা দলের আর অসাম্প্রদায়িকতার লেবাস লাগিয়ে মন্দিরের সম্পত্তি দখল করে, মসজিদ-মাদ্রাসার সম্পত্তি দখল করে তারা এই নারায়ণগঞ্জে বসবাসেরই যোগ্য নয়। মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক সানাউল্লাহ সানু বলেন, এ ধরনের অপচেষ্টা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থেকে তা প্রতিহত করব। 

কর্মসূচিতে জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি দীপক কুমার সাহা ও সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার জানান, ‘লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর বিগ্রহ মন্দিরের নিজস্ব সম্পত্তি জিউশ পুকুরটি গিলে খেতে চাচ্ছে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর পরিবার।’ 

এর আগে গত ১১ নভেম্বর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা।


আপনার মন্তব্য