শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৩৯

ফের অস্থির বাজার

বেড়েছে চাল ও তেলের দাম, কমেছে পিঁয়াজ-সবজির

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফের অস্থির বাজার
বাজার দর

ফের অস্থির হয়ে উঠেছে ভোগ্যপণ্যের বাজার। রাজধানীর নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের বাজারগুলোতে বেড়েছে চাল ও তেলের দাম। বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে চিনি। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির। কমেছে পিঁয়াজ-সবজির। অপরিবর্তিত রয়েছে আলু, ডিম, চাল এবং গরু ও খাসির মাংসসহ অন্যান্য পণ্যের দাম।

গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মিরপুরের মুসলিম বাজার, মিরপুর-১ নম্বর বাজার, ২ নম্বর বাজার, ৬ নম্বর বাজার, ১১ নম্বর বাজার, মিরপুর কলোনি বাজার, কালশী বাজার ও পল্লবী এলাকা ঘুরে এসব চিত্র উঠে এসেছে। এসব বাজারে প্রতি কেজি আটাশ চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, স্বর্ণা ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা, পাইজাম ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, মিনিকেট ৬২ থেকে ৬৪ টাকা, নাজিরশাইল ৬৫-৬৮ টাকা ও পোলাওয়ের চাল ৯০-১০০ টাকায়।

এ প্রসঙ্গে নবাবগঞ্জের আড়তদার মোহাম্মদ মিলন বলেন, এখন মৌসুমের শেষ। এ জন্য চালের দাম বাড়ছে।

তবে চালের সংকট রয়েছে এমনও নয়। একটা গোষ্ঠী সিন্ডিকেট করে বাজার অস্থির করছে। সরকার এখানে নজর দিলেই দাম কমে যাবে।

নিউ মার্কেটের খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। গত সপ্তাহে সয়াবিনের দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। ১২০ থেকে কমে পামঅয়েল বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেল ব্যান্ডভেদে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়ই বিক্রি হচ্ছে। নিউমার্কেটের আরেক বিক্রেতা শওকত হোসেন বলেন, সয়াবিনের দাম এক জায়গায় স্থির হচ্ছে না। গেল সপ্তাহে বাজার ছিল উঠতি। আবার এই সপ্তাহে বাজার পড়ছে।

কালশী বাজারের খুচরা তেল বিক্রেতা শাহাদাত হোসেন বলেন, ভোজ্যতেলের ব্যারেলপ্রতি দাম বেড়েছে। এ কারণে সপ্তাহের ব্যবধানে আবার খুচরা বাজারে লিটারপ্রতি ২ টাকা থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। তেলের দাম আবার বাড়বে।

রাজধানীর বাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত দাম কমে প্রতি কেজি মুলা বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা, শালগম বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, গাজর ৩০ থেকে ৪০ টাকা, শিম ৩০-৪০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, করলা ৩০-৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পাকা ও কাঁচা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, বরবটি ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৪০ টাকা, ১০ টাকা কমে বাঁধাকপি ও ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকার মধ্যে। মিষ্টি কুমড়া আকারভেদে ২০-৩০ টাকা পিস, প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। হালিতে ৫ টাকা কমে কলা বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়, জালি কুমড়া ৩০ টাকায়, কেজিতে ৫ টাকা কমে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়, নতুন পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০/৯০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া আদা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, রসুনের কেজি ১২০ টাকা। 

কমেছে ডিমের দাম। ডজনপ্রতি লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা, হাঁসের ডিম ১৫০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ৬০ টাকা, ডজন বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। ২০ টাকা দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি ২১০ টাকায় ও ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা।

মিরপুর-১১ নম্বর বড় বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. ফয়েজ বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম আরও বাড়তে পারে। পোলট্রি ফার্মে মুরগির উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বাড়তে শুরু করেছে। এসব বাজারে অপরিবর্তিত আছে গরু ও খাসির মাংস, মসলাসহ অন্যান্য পণ্যের দাম। বাজারে প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, বকরির মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা, মহিষ ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকা।

মাছের সরবরাহ বেড়ে দাম কিছুটা সহনীয়। বাজারে প্রতি কেজি শিং মাছ (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাগুর মাছ ৬০০ টাকা, মৃগেল ১১০ থেকে ১৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, ইলিশ প্রতি কেজি (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ১০০০ টাকা, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, কাতলা ১৭০ থেকে ২৮০ টাকা, ফোলি মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, পোয়া মাছ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা মাছ ২৫০ টাকা, টেংরা মাছ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, টাটকিনি মাছ ১০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৪০ টাকা, সিলভার কার্প ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, কৈ দেশি মাছ ১৫০ থেকে ৭০০ টাকা, কাঁচকি ও মলা বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা, ছোট বেলে ১২০ টাকা, রূপচাঁদা মাছ কেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, আইড় মাছ ৫০০ টাকা, রিঠা মাছ ২২০ টাকা ও কোরাল ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিরপুর-১১ নম্বর বাজারে আসা ক্রেতা ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন আহমেদ রিজু বলেন, বাজার ঘুরে দেখলাম সবজির দাম অনেক কমেছে। কিন্তু বেড়েছে ভোজ্যতেল আর চিনির দাম। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম আমাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকলে ভালো হয়।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর