শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:২৯

পাহাড় হ্রদে পাখির মেলা

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

পাহাড় হ্রদে পাখির মেলা

শীতের প্রকোপ যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে পাখির সংখ্যা। অতিথি পাখির আগমনে মুখরিত এখন রাঙামাটির হ্রদ-পাহাড়। এরই মধ্যে শীতপ্রধান দেশ থেকে এসেছে রং-বেরংয়ের নানা প্রজাতির পাখি।

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের ডুবোচরে এসব পাখির আস্তানা। দল বেঁধে হ্রদের মাছ শিকারে ব্যস্ত এসব পাখির দল। ভোর হলে কাপ্তাই হ্রদের স্বচ্ছ জলে দেখা যায় পাখির বিরল মেলা। কখনো এরা হ্রদের বুকে ডুবসাঁতার, আবার কখনো ঝাঁক বেঁধে আকাশের নীলে ওড়াওড়ি করছে। এ নিত্য দিনের রুটিন। সন্ধ্যার আকাশে গোধূলির রং ছড়ালে শুরু হয় পাখির মিছিল। কিচির-মিচির ছন্দের তালে সারি বেঁধে তখন ফিরে যায় ওরা পাহাড়, বন ও বাঁশঝাড়ের অস্থায়ী নিড়ে। এমন বিস্ময়কর সৌন্দর্য এখন শুধু পাহাড়েই দৃশ্যমান। রাঙামাটির হ্রদ-পাহাড় ঘুরে দেখা গেছে, সুদূর সাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন শীতপ্রধান দেশ থেকে পাহাড়ে এসেছে ফ্লাইফেচার, জলকুট, পর্চাড, জলপিপি, পাতারী, গার্নিগি, পাস্তামুখী, নর্দানপিন্টেলসহ নানা প্রজাতির পাখি। অতিথি পাখির সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশীয় সরালি, ডাহুক, পানকৌরি, বক, বালিহাঁসসহ নাম না জানা হাজারো প্রজাতির পাখি।

শুধু রাঙামাটি শহর এলাকা নয়, অতিথি পাখির দেখা মিলছে জেলার সুবলং, লংগদু, কাট্টলী, মাইনিমুখ, সাজেক, বাঘাইছড়ি, হরিণা, বিলাইছড়ি ও বরকলে। এসব উপজেলায় পাখির কলরবে কানায় কানায় ভরে  গেছে হ্রদের তীর ও জলে ভাসা চরগুলো। খুব ভোর বেলা আর সন্ধ্যায় কাপ্তাই হ্রদে দেখা মেলে পাতিহাস, ডাহোক, কালাম, বক, ছোট সরালি, বড় সরালি, টিকি হাঁস, মাথা মোটা টিটি, চোখাচোখি, গাঙচিল, গাঙ কবুতর, চ্যাগা ও জলমোরগ, বইধর। এদিকে অভিযোগ রয়েছে, প্রতি বছর শুধু শীত মৌসুমের জন্য পার্বত্যাঞ্চলে বিভিন্ন দেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি এলেও তাদের নিরাপত্তার জন্য নেই দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ। তাই সক্রিয় থাকে পাখি শিকারিরা। তবে রাঙামাটি পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বন কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান শাহ জানান, সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল ও হিমালয়ের উত্তরে শীত ও তুষারপাত শুরু হলে অতিথি পাখিরা বাংলাদেশের নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে চলে আসে। দেশের হাতে গোনা যে কয়েকটি এলাকায় এরা ক্ষণস্থায়ী আবাস গড়ে, তার মধ্যে অন্যতম পার্বত্যাঞ্চল। তাই পাখিদের সুরক্ষায় আমরা সজাগ। পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতেও সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে কেউ পাখি শিকার না করে। পাখি শিকার আইনত অপরাধ। কেউ এ অপরাধ করলে বন্য প্রাণী সুরক্ষা আইনে তাদের শাস্তি পেতে হবে। পাখি নিধনের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর