শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৭

স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ কক্সবাজারে

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ কক্সবাজারে

দেশের বৃহত্তম শুঁটকিপল্লী খ্যাত কক্সবাজারের নাজিরার টেকসহ বিভিন্ন শুঁটকিমহালে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণে জড়িত শ্রমিকরা স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। ৫ শতাধিক শুঁটকিমহালে এ অঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ শুঁটকি উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত। কার্যকর মনিটরিং ও সুরক্ষা উপকরণের অভাবে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন তারা। শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণে জড়িতদের ওপর ‘কমপ্রিহেনসিভ স্টাডি অন চাইল্ড লেবার ইন ড্রাই ফিশ সেক্টর’ শীর্ষক এক জরিপে এ তথ্য জানা যায়। উন্নয়ন সংস্থা উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় জরিপটি পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. নূর নবী।

জরিপে বলা হয়, কক্সবাজার নাজিরার টেক এলাকার শুঁটকিমহালগুলোর ৫৩ শতাংশ শ্রমিক ব্যবহার করেন ধারালো উপকরণ। মাস্ক ব্যবহার করে ৬ শতাংশ শিশু, হাতমোজা ব্যবহার করে ২৫ শতাংশ। দীর্ঘ সময় পানির ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করেন ৪৪ শতাংশ শ্রমিক। সার্বক্ষণিক রোদে এবং বাঁশের স্থাপনার ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করেন ৩২ শতাংশ। বিভিন্ন ক্ষতিকর দ্রব্যের সংস্পর্শে কাজ করেন ৩১ শতাংশ এবং ভারী মালামাল বহন করেন ৮৬ শতাংশ শ্রমিক।

কক্সবাজারের খুরুশকুল সোনাদিয়া দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ, শাপলাপুর, টেকনাফ, উখিয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, বাঁশখালী, আনোয়ারা ও সীতাকুন্ডে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ হয়।

চবি অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. নূর নবী বলেন, ‘নাজিরার টেকসহ কয়েকটি এলাকার শুঁটকিমহালে নারী ও শিশু শ্রমিকরা ঝুঁকি নিয়েই কাজ করেন। তাদের সুরক্ষায় কিছু সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে আছে শুঁটকিপল্লীর কাজকে বিপজ্জনক তালিকাভুক্ত করা, শুঁটকিপল্লীর মালিকদের দেশীয় আইন ও কাজের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা, সরকারি উদ্যোগে স্বাস্থ্য ও পয়ঃনিষ্কাশনব্যবস্থায় ভূমিকা রাখা, ঝরে পড়া শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফিরিয়ে আনা ও প্রয়োজনে বৃত্তির ব্যবস্থা করা, শুঁটকিপল্লী এলাকায় কারিগরি শিক্ষা ও শিশু শ্রম বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া।

জানা যায়, নাজিরের টেকসহ আশপাশে ৫৬১টি শুঁটকিমহাল আছে। এর মধ্যে বড় ২৩ শতাংশ, মাঝারি ৫৩ শতাংশ ও ছোট ২৪ শতাংশ। এসব মহালে শ্রমিক আছে ১৪ হাজার ৩৬৬ জন। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা ৬৩, পুরুষ ১৭ আর শিশু ২০ শতাংশ। শিশু শ্রমিকের মধ্যে মেয়েশিশু ২ হাজার ৮৭৬ ও ছেলেশিশু ২ হাজার ৮০। এর মধ্যে ১৪ বছরের নিচে ৪১ শতাংশ। এর মধ্যে মেয়ে ৭১, ছেলে ২৯ শতাংশ। ১৪-১৭ বছরের ওপরে ৫৯ শতাংশ। এর মধ্যে মেয়ে ৭৩, ছেলে ২৭ শতাংশ। কর্মরত শিশুদের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ স্কুলে অধ্যয়নরত। শিশুরা সপ্তাহে ৪২ ঘণ্টার ওপর কাজ করে। শ্রমিকদের মধ্যে ৯২ শতাংশ বাঙালি, ৮ শতাংশ রোহিঙ্গা। তা ছাড়া শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ ইতিবাচক না হওয়ায় লেগে থাকে স্বাস্থ্যগত সমস্যা। হাত-পা কেটে যাওয়া, জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষতচিহ্নের সৃষ্টি হওয়া, ডায়রিয়া, কোমর ব্যথা/মাসেলে ব্যথা, দুর্বলতা/অবসাদ, চোখের ইনফেকশন, চর্মসহ নানা রোগ সৃষ্টি হয়।

শুঁটকি প্রকিয়াকরণ শিল্পটি কক্সবাজার শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত হলেও এখানে নেই সরকারি কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। পক্ষান্তরে শ্রমিকরাও অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার বলে অভিযোগ আছে। এর মধ্যে নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য, শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা না থাকা, স্যানিটেশন সংকট, উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকা, নিরাপদ পানির অভাব, শ্রমিকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা না থাকা, অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের বাড়তি মজুরি না থাকা, স্থানীয় কোনো চিকিৎসাব্যবস্থা না থাকা এবং নারীদের নানা ধরনের শারীরিক জটিলতায় ভোগা।

 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর