শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৪ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:২৪

গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্য

স্বামী শ্বশুর শাশুড়ি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে ঝিলিক নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী সাকিব আলম মিশু, শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম ও শাশুড়ি সায়িদা আলমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে, শনিবারের এ ঘটনায় ঝিলিককে হত্যার অভিযোগ এনে গুলশান থানায় মামলা করেন তার মা তহমিনা হোসেন আসমা। মামলায় নিহত ঝিলিকের স্বামী সাকিব আলম মিশু, দেবর ফাহিম আলম, শাশুড়ি সায়িদা আলম, শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম এবং বাসার ম্যানেজার আশিষকে আসামি করা হয়।

মা তহমিনা হোসেন আসমা অভিযোগ করেন, বিয়ের পর মিশুর বাবা-মা ও ভাইবোন নির্যাতন শুরু করেন। উঠতে-বসতে তারা ঝিলিককে ‘গরিবের মেয়ে’ বলে গালমন্দ করতেন। নির্যাতনও করা হতো। তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি জানান তিনি। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, শনিবার নিহতের মা বাদী হয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বেলা ১২টার দিকে পুলিশ গুলশানের ৩৬ নম্বর সড়কের ২৩/সি নম্বর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এ সময় তার ছোট ভাই ফাহিমসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জব্দ করে। সেখানে দেখা যায়, সকাল ৯টা ৯ মিনিটের দিকে দুই নারী ও দুই পুরুষ ঝিলিককে নিথর অবস্থায় সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে গাড়িতে তুলছেন। তখন পেছন পেছন হেঁটে যান সাকিব। শনিবার ঘটনার পর সাকিব বলেন, সকালে গুলশানের বাসা থেকে বের হলে চাকা ফেটে গাড়ি ফুটপাতে উঠে যায়। এরপর ঝিলিক মারা যায়। ঝিলিকের শরীরে দুর্ঘটনার আঘাতের চিহ্ন নেই, কীভাবে মারা গেলেন? জানতে চাইলে তিনি রেগে গিয়ে বলেন, আমি কি জানি। এরপর তিনি উপস্থিত কারোর কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। জানা গেছে, ২০১৮ সালের প্রথমদিকে সাকিব আলম মিশুর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় নিহত ঝিলিক আলমের। পরে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় তারা। মিশু বাবা-মায়ের কাছে পছন্দের বিষয়টি জানালে তারা ঝিলিকের পরিবার সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে বিয়েতে অমত দেন। কারণ, ঝিলিক নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। মিশুর পরিবার গুলশান-২ এর স্থায়ী বাসিন্দা। আর ঝিলিকের পরিবার মোহাম্মদপুরের তাজমহল এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে পারিবারিকভাবেই বিয়ে হয় তাদের। বিয়ের পর মিশুদের বাড়িতেই ওঠেন ঝিলিক। কয়েক মাস তারা ভালোই ছিলেন। ২০২০ সালের শুরুর দিক থেকে শুরু হয় অশান্তি।