শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:২০

ফেব্রুয়ারির চেয়ে দ্বিগুণ মৃত্যু এপ্রিলের ৯ দিনে

তীব্র আইসিইউ সংকট, শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি ঢাকার দুই হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারির চেয়ে দ্বিগুণ মৃত্যু এপ্রিলের ৯ দিনে
Google News

ফের ভয়াবহ হয়ে উঠেছে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি।  চারদিন ধরে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ষাটের ওপরে রয়েছে। প্রতিদিন শনাক্ত হচ্ছে ৭ হাজারের ওপরে নতুন রোগী। একদিনের ব্যবধানে গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ হার বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ। গত  ফেব্রুয়ারির পুরো মাসে করোনায় মৃত্যু হয় ২৮১ জনের। এপ্রিলের ৯ দিনেই মৃত্যু হয়েছে ৫৩৮ জনের। এর মধ্যে ৮ এপ্রিল সর্বোচ্চ ৭৪ জনের মৃত্যুর তথ্য জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩১ হাজার ৬৫৪টি নমুনা পরীক্ষায় ৭ হাজার ৪৬২ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অথচ, আগের ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ২০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। একদিনের ব্যবধানে সংক্রমণ বেড়েছে প্রায় ৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৬৩ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৫১১ জন। গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯৪ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৯ হাজার ৫৮৪ জন। সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৫৪১ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ৪০ শতাংশ ও মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪২ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হলেও ৭১০ জনের আইসোলেশন নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এদিকে করোনার এবারের ঢেউয়ে সংক্রমণের পাশাপাশি বাড়ছে সংকটাপন্ন রোগী। হাহাকার পড়ে গেছে আইসিইউ শয্যা নিয়ে। হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ঘুরেও মিলছে না আইসিইউ শয্যা। গতকাল ঢাকার ১০টি সরকারি হাসপাতালের ১৩২টি আইসিইউর মধ্যে ফাঁকা ছিল মাত্র ৩টি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বার্ণ ইউনিটে ২০টি আইসিইউ শয্যা থাকলেও সংকটাপন্ন রোগী ভর্তি ছিলেন ২১ জন। ঢাকার ৯টি বেসরকারি হাসপাতালের ৩০৫টি আইসিইউ শয্যার মধ্যে ফাঁকা ছিল ১৭টি। সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে দরিদ্র রোগীরা। সারা দেশেই আইসিইউ শয্যা নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক জেলায় একটি শয্যাও ফাঁকা নেই। গতকাল সারা দেশের ৬০০টি আইসিইউর মধ্যে ফাঁকা ছিল মাত্র ১৫৫টি। এ ছাড়া ঢাকার দুটি হাসপাতালে মোট শয্যার চেয়ে ১১২ জন করোনা রোগী বেশি ভর্তি ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের ৪৩ জন ছিলেন পুরুষ ও ২০ জন নারী। সবার মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে। বয়স বিবেচনায় মৃতদের মধ্যে ৩৬ জন ছিলেন ষাটোর্ধ্ব, ১৬ জন পঞ্চাশোর্ধ্ব, ৪ জন চল্লিশোর্ধ্ব, ৫ জন ত্রিশোর্ধ্ব ও ২ জনের বয়স ছিল ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। এর মধ্যে ৪২ জন ঢাকা, ১০ জন চট্টগ্রাম, ২ জন রাজশাহী, ৩ জন খুলনা, ৪ জন বরিশাল এবং ১ জন করে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। বাংলাদেশে গত বছরের ৮মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্তের তথ্য জানানো হয় ও ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এই বিভাগের আরও খবর