শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৩৯

প্রকৃতি

মহাবিপন্ন প্রাণী মসৃণ উদবিড়াল

দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল

মহাবিপন্ন প্রাণী মসৃণ উদবিড়াল
Google News

মহাবিপন্ন প্রাণী উদবিড়াল। একসময় গ্রামাঞ্চলে খুব বেশি দেখা যেত। অঞ্চলভেদে ভোঁদর, উদ, ডেউরা বা ধারিয়া নামেও পরিচিত। তবে অন্যসব নামের চেয়ে ভোঁদর নামে বেশি পরিচিত। আগেকার দিনে সন্তানদের বাগে আনতে মায়েদের মুখে মুখে ছিল এই ভোঁদরের ছড়া। ‘আয় রে আয় টিয়ে, নায়ে ভরা দিয়ে। নাও নিয়ে গেল বোয়াল মাছে, তাই না দেখে ভোঁদর নাচে। ওরে ভোঁদর ফিরে চা, খোকার নাচন দেখে যা।’ ছোটকালে এই ছড়া শুনেননি এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। কিন্তু এখন আর সেই    ছড়াও শোনা যায় না, ভোঁদরও দেখা যায় না। বাংলাদেশে তিন প্রজাতির ভোঁদর আছে। এর মধ্যে বড় ভোঁদর এখনো কিছুটা দেখা গেলেও নখহীন ভোঁদর আর মসৃণ ভোঁদর একেবারে দেখা যায় না। এই দুটি প্রজাতি এখন মহাবিপন্ন। স¤প্রতি শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা বাগানের লেক থেকে এই মহাবিপন্ন মসৃণ উদবিড়ালের ছবি তুলেছেন ফটোগ্রাফার কাজল হাজরা। প্রাণীবিশারদরা জানান, ভোঁদরের ইংরেজি নাম  smooth-coated otter. আর বৈজ্ঞানিক নাম Lutrogale perspicillata. এরা মুস্টিলিডি গোত্রের আধা জলচর মৎস্যভুক্ত স্তন্যপ্রাণী। এদের আঙুলগুলো হাঁসের পায়ের মতো পাতলা পর্দা দিয়ে জোড়া লাগানো। লেজ মোটা। মাথা থেকে  লেজ পর্যন্ত লম্বা ১৮ থেকে ২২ ইঞ্চি। শরীর লম্বাটে গড়নের। সাঁতার কাটার সময় নাক ও কানের ফুটো বন্ধ থাকে। নাকের ডগায় লম্বা গোঁফের মতো খাড়া লোম থাকে। হাত-পায়ের পাতাও খুব স্পর্শকাতর। কাদায় লুকানো ঝিনুক, শামুক, চিংড়ি, কাঁকড়া এদের হাত থেকে রক্ষা পায় না। দাঁত খুব শক্ত। মাড়ি পিচ্ছিল। এরা লিপ্তপদী বলে জলের নিচে খুব ভালো সাঁতার কাটতে পারে। এরা দল বেঁধে থাকে। প্রধান খাদ্য মাছ হলেও শিকারের তালিকায় আছে জলজ অমেরুদন্ড প্রাণীরাও।  বেশির ভাগ ভোঁদরই জলাশয়ের কিনারে গর্তে বাস করে। বছরে একবার এদের প্রজনন সময়। জলাশয়ের পাড়ে উঁচুতে বড় গাছের তলায় গর্ত করে থাকে। দুই থেকে তিনটি বাচ্চা দেয়। জন্মের ১০ দিন পরে বাচ্চারা চোখ  খোলে। বড় হতে এক বছর সময় লাগে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ মোস্তফা জানান, মসৃণ উদবিড়াল বা ভোঁদর মহাবিপন্ন প্রাণী। জলাশয় ও বনজঙ্গল কমে যাওয়ায় ভোঁদর কমে যাচ্ছে। এদের টিকিয়ে রাখতে হলে জলাশয় ও পরিবেশ সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি জানান, নড়াইলের চিত্রা নদীর পারের ভোগড়া ও পঙ্কবিলা গ্রামের মালু জেলেরা ভোঁদর দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে।

এই বিভাগের আরও খবর