শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১২ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ মে, ২০২১ ২২:৫৫

হৃদয়হীন প্রেমের বলি

মির্জা মেহেদী তমাল

হৃদয়হীন প্রেমের বলি
Google News

রাতভর ঝড় বৃষ্টির পর সকালটা খুব ঝকঝকে। লোকজন ঘর থেকে বেরিয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ছুটছে। প্রকৃতির ঝড় বৃষ্টি শেষ হলেও জিয়াউর রহমানের জীবনে শুরু হয়েছে নতুন এক ঝড়। সকালে ঘুম থেকে উঠেই তিনি জানতে পারলেন তার দুই সন্তান আর এক ভাগ্নের মৃত্যুর খবর। রাতে খাবার খেয়ে একসঙ্গে ঘুমিয়ে যাওয়ার পর সেই তিনজনের ঘুম আর ভাঙেনি। কিন্তু শরীরে তাদের নেই কোনো আঘাতের চিহ্ন। তাহলে কীভাবে তাদের মৃত্যু হলো? এমন প্রশ্ন তখন সামনে চলে এসেছে। রাজধানীর অদূরে সাভারে একসঙ্গে তিনটি লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ে। শত শত মানুষ ছুটতে থাকে ঘটনাস্থলে। অনেকের ধারণা, রাতে ঝড় বৃষ্টির সময় বজ্রপাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ আসে। কিন্তু পুলিশ কিছুই খুঁজে পায় না। হতদরিদ্র দিনমজুর জিয়াউর রহমান থানায় মামলাও করতে যায় না। সাভার থানা পুলিশও এ নিয়ে আর এগোয় না। বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলেই সবার বিশ্বাস। এ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটিও কেউ করেনি।

কিন্তু পুলিশের আরেক সংস্থার সন্দেহ থেকে যায়। নিজেদের মতো করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে এক হƒদয়হীন প্রেম কাহিনি। পরকীয়ায় জড়িয়ে নিজের দুই সন্তানসহ তিনজনকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে নাসরিন বেগম। স্বামী জিয়াউর রহমানকেও হত্যার পরিকল্পনা ছিল তাদের। রাতে খাবার খাওয়া হয়নি বলে প্রাণ বাঁচে জিয়াউরের। হঠাৎ করে তিনি বাসা থেকে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে আটক করতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ঘটনার দুই মাস পর পুলিশ সাভারের নবীনগর থেকে নাসরিনকে গ্রেফতার করে। পুলিশি জেরায় স্বীকার করে সেই খুনের কাহিনি।

যে কারণে হত্যা করা হয় তিন কিশোরকে : জিজ্ঞাসাবাদে নাসরিন আক্তার               জানান, সাভারের জয়নাবাড়ী এলাকায় ভাড়া থাকা অবস্থায় প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া কেরু মানিকের সঙ্গে পরিচয় হয় তাদের। তখন নাসরিন বেগমের সঙ্গে কেরু মানিকের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে উঠলে তার স্বামী জিয়াউর রহমান জানতে পারলে কেরুকে তাড়িয়ে দিলে সে মিরপুরে গিয়ে বসবাস শুরু করে। আর নাসরিন ও তার পরিবার হেমায়েতপুরের প্রান্ত ডেইরি ফার্মে বসবাস শুরু করে। কিন্তু কেরু মানিক ও নাসরিনের অবৈধ সম্পর্ক চলতেই থাকে। তার স্বামীর অবর্তমানে কেরু ডেইরি ফার্মের ওই বাসায় যেত। একদিন নাসরিনের বড় ছেলে জীবন তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে এবং কেরু মানিককে তাদের বাসা থেকে বের করে দেয়। এরপর মানিক নাসরিনের সঙ্গে মিলে ছেলেদের ও স্বামী জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে নিজেরা বিয়ে করার পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক ঘটনার রাতে কেরু মানিক হেমায়েতপুরে যায় এবং মেহমান সেজে মেয়ের বিয়ের দাওয়াত নিয়ে জিয়াউরের বাসায় আসে এবং নাসরিনের কাছে একটি বিষের শিশি লুকিয়ে রাখতে দেয়। জিয়াউরের সঙ্গে ঘরের বাইরে গিয়ে কেরু সিগারেট খেয়ে আবার ঘরে প্রবেশ করে। ঘরে এসে নিজে নাসরিনের নিকট থেকে ভাত চেয়ে খায়। পরে আরও ভাত নিয়ে ও বিষের শিশি ফেরত নিয়ে ভাতের সঙ্গে সেই বিষ মেশায়। তখন নাসরিন সাবধানে কাজ করার জন্য পরামর্শ দেয়। কেরু মানিক সেই বিষ মেশানো ভাত খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে পাশের রুমে যায় এবং নাসির, জীবন ও শাহাদতকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। নাসরিন বাইরে থেকে ভাত খাওয়াতে দেখে ঘুমাতে ঘরে চলে যায়। পরদিন তাদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নাসরিনের স্বীকারোক্তির পর জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ৩০২/৩৪ ধারায় নাসরিন ও তার প্রেমিক কেরু মানিকের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা (নং-২৫) দায়ের করে। পরে র‌্যাব-৪ কেরু ডাকাতকে আমিনবাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করে।

এই বিভাগের আরও খবর