শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১১ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ জুন, ২০২১ ২৩:৪২

পেছাল তিন উপনির্বাচন

ভোট স্থগিত ৯ পৌরসভা ও ১৬৩ ইউপির, লক্ষ্মীপুর-২ আসন ২০৪ ইউপি ও দুই পৌরসভায় ভোট হবে ২১ জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

পেছাল তিন উপনির্বাচন
Google News

করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের কারণে ৯ পৌরসভা এবং খুলনা-চট্টগ্রাম বিভাগের ১৬৩ ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ ছাড়া পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন। এই তিন আসনের ভোট গ্রহণ আগামী ১৪ জুলাইর পরিবর্তে ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। আগের তফসিল অনুযায়ী বাকি ২০৪ ইউপি, দুই পৌরসভা এবং লক্ষ্মীপুর-২ আসনের উপনির্বাচন ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল কমিশন সভা শেষে বিকালে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে বসে কমিশন সভা, চলে দুপুর পর্যন্ত। ইসি সচিব জানান, করোনাভাইরাস মহামারীতে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে আইইডিসিআর এর সুপারিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভোট স্থগিত করা হলেও এসব নির্বাচন কবে নাগাদ অনুষ্ঠিত হতে পারে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি সচিব। করোনা সংক্রমণ বাড়ার মধ্যে এ নিয়ে দুই দফা ভোট পেছানো হলো। প্রথম দফায় ১১ এপ্রিল এই সব ভোটের তারিখ ছিল। ঢাকা-১৪, কুমিল্লা-৫ ও সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচন ১০ দিন পিছিয়ে ২৮ জুলাই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। তবে মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখ ঠিক থাকবে। এই দিনের নির্বাচন পেছানোর জন্য জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও দাবি ছিল। ১৪ জুলাই দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে ভোট না রাখার দাবি জানিয়েছিল জাতীয় পার্টি। ইউনিয়ন পরিষদ : আগের ঘোষণা অনুযায়ী, ৩৬৭ ইউপির মধ্যে খুলনা বিভাগের সব ইউপি, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার ইউপিসহ ১৬৩ ইউপির নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাগেরহাটের ৬৮টি, খুলনার ৩৪টি, সাতক্ষীরার ২১টি, নোয়াখালীর ১৩টি, চট্টগ্রামের ১২টি ও কক্সবাজার জেলার ১৫টি ইউপি রয়েছে। পৌরসভা : ১১টি পৌরসভার মধ্যে দিনাজপুর জেলার সেতাবগঞ্জ ও ঝালকাঠির সদর পৌরসভার নির্বাচন যথাসময়ে ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকির কারণে স্থগিত করা হয়েছে বাকি ৯ পৌরসভার নির্বাচন। সেই ৯ পৌরসভা হলো- কুমিল্লার নাঙ্গলকোট পৌরসভা, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, ফেনীর সোনাগাজী, নোয়াখালীর কবিরহাট, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ, চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, যশোরের নওয়াপাড়া (অভয়নগর), কক্সবাজারের মহেষখালী ও চকরিয়া। আইইডিসিআর অধিকতর উচ্চঝুঁকি জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রাজশাহী, কক্সবাজার, খুলনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিলেট, সাতক্ষীরা, যশোর, দিনাজপুর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মৌলভীবাজার, বাগেরহাট, ফেনী, গোপালগঞ্জ ও মেহেরপুরকে চিহ্নিত করেছে। বৈঠক শেষে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এসব নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। অন্যান্য বিভাগের তুলনায় বরিশাল বিভাগে সংক্রমণ সহনীয় পর্যায়ে থাকায় ভোট নির্ধারিত সময়ে হবে। তাই আইইডিসিআর-এর উল্লিখিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর বাইরে বরিশালসহ সবখানে নির্ধারিত সময়ে ভোট হবে। এ বৈঠকে দ্বিতীয় ধাপের ইউপি ভোট নিয়েও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এখনো অনেক সময় রয়েছে। অনেক এলাকায় ঝুঁকিও রয়েছে। তাই দ্বিতীয় পর্যায়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। যেসব স্থানীয় সরকারের ভোট আটকে আছে, সেখানে বর্তমান চেয়ারম্যানসহ অন্য জনপ্রতিনিধিরা বহাল থাকবেন কিনা জানতে চাইলে সচিব বলেন, এটা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিষয়। স্থানীয় সরকারের ইউপি আইন অনুযায়ী ৯০ দিন দায়িত্ব দেওয়ার বিধান রয়েছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয় দেখবে কাকে দায়িত্ব দেবেন।