রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

কৃষি ও উৎপাদনশীল শিল্প খাত সচল রাখতে হবে

-আবদুল আউয়াল মিন্টু

কৃষি ও উৎপাদনশীল শিল্প খাত সচল রাখতে হবে

কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে ঘোষিত আগামী লকডাউন ভালো চিন্তা করে জীবন ও জীবিকার সমন্বয় করা হয়নি বলে মনে করেন এফবিসিসিআইর সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল আউয়াল মিন্টু। কৃষি খাতের এই অন্যতম উদ্যোক্তা বলেন, সবকিছু চাইলেও বন্ধ করা যাবে না। ক্ষেত্রবিশেষ খোলা রাখতে হবে। জরুরি উৎপাদনশীল শিল্প খাত সচল রাখতে হবে। কৃষি উন্নয়ন ও উপকরণ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনেক প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবেই পরিচালনা সম্ভব। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখতে হবে।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন এফবিসিসিআইর সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল আউয়াল মিন্টু। তার মতে, লকডাউন নিয়ে উৎকণ্ঠা কাটছে না ব্যবসায়ীদের। মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে টিকা সংগ্রহ ও জনসচেতনতা কর্মকান্ডে জোর না দিয়ে আমলাদের সমন্বয়হীনতার মুখে বারবার লকডাউন ঘোষণা সঠিক হয়নি। এখন সংকট উত্তরণে টিকা জরুরি। ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প ধ্বংস হচ্ছে। পর্যটন, পরিবহন, লঞ্চসহ সেবা খাতের ব্যবসায়ীরা দেউলিয়া হওয়ার পথে। বাড়ছে সুদের চাপ। বেতন-বোনাস পরিশোধের চাপ। গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পানিসহ অন্যান্য বিল পরিশোধের হাত থেকে রেহাই নেই। হুমকিতে বিনিয়োগ। এ পরিস্থিতি উত্তরণে প্রয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জীবন ও জীবিকা সচল রাখতে হবে।

এফবিসিসিআইর সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা টিকার ব্যবস্থা না করতে পারা। দেড় বছর ধরে লকডাউনে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। সমন্বয়হীনতার কারণে দেশে লকডাউন কার্যকর হয় না। বরং ব্যবসায়ীরা একের পর এক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। অথচ সরকার টিকা সংগ্রহ করতে পারেনি। পরিবহন, লঞ্চ, পর্যটন-ব্যবসা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। আবারও লকডাউনে দেশের ব্যবসা- বাণিজ্য ও শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ধ্বংস হয়ে গেছেন। সংকট উত্তরণে টিকা জরুরি। একই সঙ্গে করোনাকালে ব্যাংক ঋণের সুদ স্থগিত করতে হবে। এটা না করলে ব্যবসা বাঁচবে না।

আবদুল আউয়াল মিন্টু মনে করেন, করোনাকালে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সেবা খাতের। কোথাও কোনো ব্যবসা নেই। কিন্তু ব্যাংকগুলো ঋণের সুদ আদায়ে অব্যাহতভাবে চাপ দিয়ে যাচ্ছে। সুদ মওকুফের জোর দাবি জানাই। করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব বিরাজমান। অধিকাংশ শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধে বেকায়দায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সুবিধাসমূহের মেয়াদ বাড়ানো না হলে অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অনিচ্ছাকৃত খেলাপি গ্রাহকে পরিণত হবে, যা ব্যাংকিং খাতসহ পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ অবস্থায় দেশের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট সব খাতের ঋণ বিরূপমান শ্রেণিকরণ প্রক্রিয়া আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখতে হবে।