শিরোনাম
বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা
স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি

১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন

বিশেষ প্রতিনিধি

পুরান ঢাকার আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে সাত ডাক্তারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

আসামিদের মধ্যে সাত ডাক্তার হলেন মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ইসরাত জাহান, সাবেক জুনিয়র কনসালটেন্ট মাহফুজা খাতুন, সাবেক সহকারী কো-অর্ডিনেটর (ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্স) চিন্ময় কান্তি দাস, মেডিকেল অফিসার বেগম মাহফুজা দিলারা আখতার, নাজরীনা বেগম, সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম ও পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ পারভীন হক চৌধুরী। অন্য চার আসামি হলেন মেসার্স মনার্ক এস্টাবিøশমেন্টের স্বত্বাধিকারী ফাতে নূর ইসলাম, নাফিসা বিজনেস কর্নারের স্বত্বাধিকারী শেখ ইদ্রিস উদ্দিন ওরফে চঞ্চল ও সান্ত্বনা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী নিজামুর রহমান চৌধুরী। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্ধারিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী ওষুধ ও সরঞ্জামাদি না কিনে মনগড়া দরে জিনিসপত্র ক্রয় করেছেন। অর্থাৎ বাজারদরের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে ওষুধ, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ও প্যাথলজিসামগ্রী কেনাকাটায় সোয়া ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। গতকাল দুপুরে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সংস্থার সচিব ড. মু. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

 তিনি বলেন, আসামিরা একে অপরের সহায়তায় অসৎ উদ্দেশ্যে লাভবান হওয়ার জন্য অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মেডিসিন অ্যান্ড ইকুইপমেন্ট টেন্ডারের মাধ্যমে ক্রয়ের ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা-২০১৮ লংঘন করেছেন।

তিনি জানান, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের নির্ধারিত মূল্যতালিকা মোতাবেক মেডিসিন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক প্রকাশিত মেডিকেল অ্যান্ড সার্কিটের মূল্যতালিকা মোতাবেক সার্জিক্যাল আইটেম ক্রয়ের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বর্তমান বাজারদর আমলে না নিয়ে গঠিত বাজার কমিটির প্রথম মনগড়া ও ভিত্তিহীন দরকে বিবেচনায় নিয়ে মালামাল ক্রয় করে মোট ১ কোটি ২৮ লাখ ৬৩ হাজার ২৪১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দন্ডবিধি ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের সুপারিশ করা হয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে এ চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। এর আগে ২০১৯ সালের শেষে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কেনাকাটায় দুর্নীতির প্রমাণ পেয়ে ২৫ জনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করে দুদক। সংস্থাটির ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক মামলাগুলো করেন। মামলায় বাজারদরের চেয়ে দু-তিনগুণ বেশি দামে ওষুধ, সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতি ও প্যাথলজিসামগ্রী কেনাকাটায় প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।