শনিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ টা
কৃষি

দার্জিলিং জাতের কমলা চাষ

আবদুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও

দার্জিলিং জাতের কমলা চাষ

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার কোষারানীগঞ্জ ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামে দার্জিলিং জাতের কমলাবাগান করে লাভবান হয়েছেন আবু জাহিদ ইবনুল ইরাম জুয়েল নামে এক কৃষক। বাগানের প্রতিটি গাছে প্রচুর কমলা ধরেছে। ভারতীয় জাতের এ ফল মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে চাহিদাও বেশি। বাগানটি দেখার জন্য প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থী ভিড় করছেন।

১০ বছর আগে হর্টিকালচার থেকে কয়েকটি চারা ক্রয় করে রোপণ করেন জুয়েল। এখন বাগানে ৩০০টি গাছ। বাগানের এসব ফল স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন জেলায়। প্রতি বছর বাগানের পরিধি বাড়ায় কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে অনেকের। নভেম্বর থেকে কমলা বিক্রি শুরু করেন তিনি। প্রতিটি গাছে ৮০০ থেকে ৯০০ কমলা ধরেছে। প্রতি কেজি কমলা বিক্রি করছেন ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।

দর্শনার্থীরা জানান, শহর থেকে এসেছি কমলাবাগান দেখতে। আমরা দার্জিলিংয়ে বাগান দেখেছি। কিন্তু এখানে কমলাবাগান যে সুন্দর তা দার্জিলিংয়ের বাগানকেও হার মানায়। পুরো বাগানে কমলা ঝুলে রয়েছে। দেখতে সুন্দর লাগছে। কমলা খেয়ে মনে হলো না যে আমার দেশের মাটিতে উৎপাদিত কমলা খাচ্ছি।

বাগান মালিক জুয়েল বলেন, এ বাগান থেকেই এবার ১০ হাজার মেট্রিকটন কমলা উৎপাদন হবে আশা করছি। আমার বাগানের বয়স প্রায় ১০ বছর। তিন বছর পর থেকেই ফলন শুরু হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বাগান দেখতে আসে। তবে কৃষকরা যদি এভাবে কমলার বাগান করতে এগিয়ে আসে তাহলে কৃষিতে একটা বিপ্লব ঘটবে। আর কমলা বিদেশ থেকে আনতে হবে না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আবু হোসেন জানান, বছর দশেক আগে সরকার একটি প্রকল্প নেয়। সেটাই ঠাকুরগাঁওয়ে কমলা চাষের শুরু। জুয়েল কৃষি দফতর থেকে সবসময় পরামর্শ নিয়েছেন। তার দার্জিলিং জাতের বাগানটি বেশ সুন্দর এবং বাগানে প্রচুর কমলা ধরেছে। তা দেখে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন বাগান করার।

সর্বশেষ খবর