রবিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ টা

নানা সংকটে নগর পরিবহন

♦ যুক্ত হয়নি নতুন বাস ♦ অন্য পরিবহন বন্ধ ♦ ভোগান্তিতে যাত্রীরা

হাসান ইমন

নানা সংকটে নগর পরিবহন

রাজধানীর বিশৃঙ্খল গণপরিবহন খাত শৃঙ্খলায় আনতে ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর রুটে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ নামে বাস চালু করেছিল বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি। কিন্তু উদ্বোধনের আট মাসের মাথায় নানা সংকটের মুখে পড়েছে এই সেবা কার্যক্রম। ৫০টি বাস নিয়ে চালু হওয়া এই রুটে এখন বাস চলছে ৪০টির মতো। বাসের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে ১০০ হওয়ার কথা থাকলেও উল্টো কমেছে। একই রুটে চলা অন্য পরিবহনগুলো অভিযানে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। এতে যাত্রীসেবার বদলে বেড়েছে দুর্ভোগ।

যাত্রীদের অভিযোগ, এই রুটে ক্রমান্বয়ে বাসের সংখ্যা বাড়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন উল্টো বাস কমছে। আগে যে বাসগুলো এই রুটে চলাচল করত, সেগুলোর রুট পারমিটও বাতিল করা হয়েছে। ফলে যাত্রীর তুলনায় কমেছে বাসের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে বাসের জন্য কাউন্টারে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেকে বেশি ভাড়া দিয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ বিষয়ে ডিটিসিএর ডেপুটি ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানার ধ্রুব আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এখন যে রুটে নগর পরিবহন চলছে, আপাতত সে বিষয়টা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না। আমাদের লক্ষ্য নতুন তিন রুট নিয়ে। এই তিন রুটের কার্যক্রম সফল করার জন্য কাজ করছি। তিনি আরও বলেন, নতুন তিন রুটে বাস নামানোর পর ২১ নম্বর রুটের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে। তবে চালু হওয়া রুটে নগর পরিবহন ছাড়া পারমিটবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও রেশনালাইজেশন কমিটির সদস্য খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ২১ নম্বর রুটে নতুন বাস কেন যুক্ত হয়নি এবং বাস কেন কমছে বা সংকট কী আছে সে বিষয়ে আমি জানি না। এগুলো ডিটিসিএ বলতে পারবে। নতুন তিন রুটে বাস নামবে কিনা, সেটা ডিটিসিএ ও সিটি করপোরেশন জানে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কমিটির সদস্য সেটা ঠিক আছে। সে জন্য মিটিংয়ে অংশ নেই, এই টুকুই আমার কাজ। কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে রাজধানী হয়ে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর রুটের দূরত্ব ২১ কিলোমিটার। ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর এই পথে ৫০টি বাস নিয়ে চালু হয় ঢাকা নগর পরিবহন। এর মধ্যে ৩০টি দ্বিতল বাস দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ও ২০টি বাস দিয়েছিল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রান্সসিলভা। তখন বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছিলেন, এই রুটে পর্যায়ক্রমে ১০০টি বাস নামবে। ২০২৩ সালের মধ্যে পুরো ঢাকায় এই সেবা চালু হবে।

ঘাটারচর থেকে বছিলা, মোহাম্মদপুর, শংকর, ঝিগাতলা, সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, প্রেস ক্লাব, মতিঝিল, হাটখোলা, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, মাতুয়াইল, সাইনবোর্ড, সানারপাড় হয়ে কাঁচপুর পর্যন্ত চলে নগর পরিবহন। সম্প্রতি এই এলাকাগুলো ঘুরে ঢাকা নগর পরিবহনের বাস তেমন একটা চোখে পড়েনি। অনেকক্ষণ পরপর এক-দুটি বাস যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। যে কয়েকটা বাস দেখা গেছে, সেগুলো আবার যাত্রী পরিপূর্ণ। ধানমন্ডির ঝিগাতলা থেকে মতিঝিল নিয়মিত যাতায়াত করেন বেসরকারি চাকরিজীবী হারুনুর রশীদ। সকালে নগর পরিবহনের বাসে তিনি অফিসে যান। আলাপকালে বলেন, আগে এই রুটে রজনীগন্ধা, সিটি লিংকের কয়েক শ (১৬১টি) বাস যাত্রী পরিবহন করত। ঢাকা নগর পরিবহন চালু হওয়ার পর ওই বাসগুলোর রুট পারমিট বাতিল করা হয়। তখন নগর পরিবহনের বাসে যাত্রী বাড়ে। বাসগুলো নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে যাত্রী নেওয়ায় কারও কোনো অভিযোগ ছিল না। কিন্তু এখন রুটে বাস কমে যাওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। অফিস সময়ে ঠিকমতো বাস পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অন্য পরিবহনের কোনো বাস এই রুটে চলাচল করতেও দেখা যাচ্ছে না।

আট মাসের মাথায় ঢাকা নগর পরিবহনের দুরবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাহতাব উদ্দিন নামে এক যাত্রী। তিনি বলেন, এই বাসগুলো চালুর পর এই রুটে শৃঙ্খলা এসেছিল। কাউকে বাসে দৌড়-ঝাঁপ করে উঠতে হতো না। এক বাসের সঙ্গে অন্য বাসচালকের প্রতিযোগিতা ছিল না। যাত্রা অনেকটা নিরাপদ ছিল। এখন বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির তদারকির অভাবে এমন বিশৃঙ্খলা ঘটেছে।

কাঁচপুর যাত্রী ছাউনিতে দায়িত্বরত টিকিট বিক্রেতা জামান হোসেন বলেন, গত জুনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বেসরকারি পরিবহনের বাসগুলো যাত্রী পরিবহন করেছিল। কিন্তু এরপর লোকসানের অজুহাতে ক্রমান্বয়ে তারা বাস সরিয়ে নেয়। অথচ এই রুটে প্রচুর যাত্রী রয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা নগর পরিবহন যে গতিতে কাজ শুরু করেছিল, এখন বাস সংকটে তা অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। ঠিকমতো যাত্রীদের সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কাউন্টারে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বাস না পেয়ে চলে যাচ্ছেন যাত্রীরা।

 

এই রকম আরও টপিক

সর্বশেষ খবর