শিরোনাম
শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা

ছিনতাইকারীদের হাতে প্রাণ গেছে ২১৬ ইজিবাইক চালকের

মাহবুব মমতাজী

ছিনতাই ও খুনের ঘটনা বেশি ঘটছে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতে। রাজধানীর বাইরে ছিনতাইকারীদের প্রধান টার্গেট থাকে অটোরিকশা ও ইজিবাইক। কারণ কাগজপত্র নাই বলে এসব গাড়ি ছিনতাই করে সহজে স্থানান্তরসহ পুরো গাড়ি বা যন্ত্রাংশ আলাদা করেও বিক্রি করা যায়। তবে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িতরা তাদের চিনে ফেললে বা ছিনতাইয়ে বাধা দিলে তারা হত্যা করছে চালকদের। একটি দুটি করে এসব খুন বাড়তে বাড়তে ছিনতাইকারীদের হাতে গত আট বছরে প্রাণ হারিয়েছেন ২১৬ জন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকচালক।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সারা দেশে খুনের এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে। এতে ২০১৫ থেকে গত বছর পর্যন্ত ২ শতাধিক চালক খুনের তথ্য উঠে এসেছে। ক্লুলেস মামলা তদন্তে নেমে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট থেকে অটোরিকশা ও ইজিবাইকচালক ছিনতাই ও খুনের এসব ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারে পিআইবি। সারা দেশের ক্লুলেস ৮৩টির বেশি মামলার তদন্তভার পেয়েছে তারা। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে অটোরিকশা ও ইজিবাইক ছিনতাইকারীদের হাতে সবচেয়ে বেশি ৯৩টি খুনের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন উপজেলাসহ কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মুন্সীগঞ্জ এলাকায় খুনের ঘটনা বেশি।  এ বিষয়ে পিবিআইয়ের প্রধান পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার এই প্রতিবেদককে বলেন, ছিনতাইকারীদের প্রধান টার্গেট থাকে অটোরিকশার ব্যাটারি। এসব গাড়ি ছিনতাই করে অন্যত্র সহজে বিক্রি করা যায়। কারণ এটার কাগজপত্র না থাকায় মালিকানা  বোঝার কোনো উপায় নেই। এ ছাড়া এর চালকগুলো গরিব পরিবারের। সহজেই এগুলো ভাড়া নিয়ে সুবিধাজনকস্থানে নিয়ে যাওয়া যায়। রাজধানীর দয়াগঞ্জে এসব ব্যাটারি বিক্রি হয় অর্ধেক দামে। কিন্তু জানলেও কাগজপত্রের অভাবে কিছু করতে পারে না। পুলিশ। জানা যায়, একটি ছোট অটোরিকশার নতুন চারটি ব্যাটারির দাম ২৪ হাজার টাকা। দয়াগঞ্জের ব্যবসায়ীরা তা কেনেন ১০ হাজার টাকায়। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দয়াগঞ্জে চুরি ও ছিনতাই করার ইজিবাইকের ব্যাটারি বিক্রি হওয়ার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানতে পেরেছেন, পাঁচটি ব্যাটারির পাইকারি দাম ৬০ হাজার টাকা। দয়াগঞ্জে এসব ব্যাটারি বিক্রি হয় অর্ধেক দামে। আর ছোট অটোরিকশার চারটি নতুন ব্যাটারির দাম ২৪ হাজার টাকা। দয়াগঞ্জের ব্যবসায়ীরা তা কেনেন ১০ হাজার টাকায়। পিবিআইর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জুয়াড়ি, মাদকসেবীরা ইজিবাইক কিংবা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বেশি ছিনতাই করেন। ইজিবাইক চলাচলের খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং যাত্রীধারণ ক্ষমতা কম হওয়ায় ছিনতাইকারীরা সহজেই একে টার্গেট করে। আর্থিক অভাবের কারণে অনেক ইজিবাইক চালক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। পিবিআইর কর্মকর্তারা জানান, খুনের অধিকাংশ ঘটনায় সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র জড়িত। অনেক পেশাদার চোর, ডাকাত পেশা পরিবর্তন করে অটোরিকশা চালাচ্ছে। কিন্তু তাদের কারও কারও অপরাধী মনোভাব পরিবর্তন না হওয়ায় সুযোগ পেলেই ছিনতাইয়ে জড়ায়। আবার ছিনতাইকারীদের চিনে ফেলায় চালকদের খুনের ঘটনা ঘটে। কখনো কখনো ছিনতাইয়ে বাধা দিলেও খুনের শিকার হতে হয়। ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন না থাকায় সহজে অটোরিকশা ছিনতাই ও বিক্রি করা যায়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সর্বোচ্চ চারটি ব্যাটারি দিয়ে চলা তিন চাকার গাড়িগুলোই অটোরিকশা। পাঁচটি ব্যাটারি দিয়ে চালিত বড় অটোরিকশাগুলো ইজিবাইক নামে পরিচিত। এসব ব্যাটারি সহজে বিক্রি করা যায়।

সর্বশেষ খবর