শিরোনাম
সোমবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৩ ০০:০০ টা

পেরিলা চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

দিনাজপুর প্রতিনিধি

পেরিলা চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

ভোজ্য তেল জাতীয় ফসল পেরিলা চাষে ব্যাপক সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে। দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ, খানসামায় সফল হওয়ায় এ চাষে অনেকের আগ্রহ বাড়ছে। খুব কম সময়ের ফসল পেরিলা চাষে অধিক লাভ। আবার আন্তর্জাতিক বাজারেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পেরিলা চাষ করে দেশে তেলের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে। ভোজ্যতেলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছেই। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় বাড়ছে আমদানিও। এবার পরিত্যক্ত জমিতে পেরিলা চাষ করে ব্যাপক আর্থিক লাভেব সম্ভাবনা দেখছেন পেরিলা চাষি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলহাজ মজিবর রহমান। গত দুই বছর থেকে তিনি পেরিলা চাষ করছেন। আগামীতে বড় পরিসরে চাষের ইচ্ছা পোষণ করেন তিনি। জানা যায়, পেরিলা তেলের শতকরা ৬৫ ভাগই ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। যা হার্টের জন্য খুব উপকারী। মোট ফ্যাটের শতকরা ৯১ভাগ অসম্পৃক্ত। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।  চোখের জন্যও বেশ উপকারী। এর ফ্যাটি অ্যাসিড আমাদের শরীরের জন্যও উপকারী। বিশেষ করে হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও ত্বকসহ ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। পতিত ৫০ শতক জমিতে পেরিলা চাষ করেছেন খানসামার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের টগরপাড়ার আলহাজ মজিবর রহমান (৭০)। তিনি চলতি বছর ভুল্লারডাঙ্গা-কাচিনীয়াহাট আঞ্চলিক সড়কের দুই পাশে এবং বেলান নদীর ধারে পতিত ৫০ শতক জমিতে পেরিলা চাষ করেছেন। পেরিলা গবেষক মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদারের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েছেন এ চাষের। সরিষা ভাঙানোর মিলগুলোতেই এই পেরিলা থেকে তেল করা যায়। গত বছর সরকারি হিসেবে প্রতিমণ পেরিলা বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার টাকা। উচ্চগুণাগুণ সম্পন্ন এই  তেল বাজারে প্রতি লিটার ২০০০ থেকে ২৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হয়।

চাষি মজিবর রহমান বলেন, পেরিলা বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে চাষ হচ্ছে। আমি পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ  দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছি। রংপুরের কিশোরগঞ্জ এলাকার শাহজাহান আলীর কাছ থেকে পেরিলার বীজ সংগ্রহ করে ১০ শতক জমিতে চাষ শুরু করি। তখন ৫০ কেজি পেরিলা পাই। ৫ কেজি পেরিলা থেকে ২লিটার তেল পাওয়া যায়।  খুব কম সময়ের ফসল পেরিলা। তিন থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়। সার কম লাগে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ নেই বললেই চলে। এ গাছের কচিপাতা শাক হিসেবেও খাওয়া যায়। আশ্বিনে ফুল আসে এবং কার্তিক-অগ্রহায়ণে কাটা-মাড়াই করা যায়। এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। বীজ রোপণ থেকে ফসল সংগ্রহ করা পর্যন্ত মাত্র ২০০০ টাকা খরচ হবে। ফসল  থেকে প্রাপ্ত পেরিলার তেল প্রায় ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। আগামীতে এটি বড় পরিসরে চাষ করার ইচ্ছা আছে। খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, দেশে পেরিলার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।  ভোজ্যতেল হিসেবে এর গুণাগুণ অত্যন্ত উচ্চমানের। আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পেরিলা চাষে  যেন সবাই এগিয়ে আসে। আমরা চেষ্টা করছি অদূর ভবিষ্যতে এর চাষ সারা দেশে সম্প্রসারণ করার জন্য।

সর্বশেষ খবর