শিরোনাম
মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা

আন্তর্জাতিক আদলে র‌্যাঙ্কিং হবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়

ইউজিসির ১৫ দফা সুপারিশ

আকতারুজ্জামান

বিশ্বখ্যাত কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিং বা টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাঙ্কিংয়ের মতো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাঙ্কিং করতে চায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। এই র‌্যাঙ্কিং করা গেলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা বৃদ্ধি, শিক্ষার মান বাড়ানো, ছাত্র-শিক্ষার্থী অনুপাত কমানোসহ গুণগত বিভিন্ন পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে মনে করে ইউজিসি। মঞ্জুরি কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদনে ৪৯তম বার্ষিক প্রতিবেদনে এ র‌্যাঙ্কিং করার সুপারিশ করেছে ইউজিসি। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন ও বিস্তারে ১৫ দফা সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। এই প্রতিবেদন শিগগিরই রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সুপারিশে আরও বলা হয়, প্রশাসনিক ও আর্থিকসহ প্রয়োজনীয় কাজের দক্ষতাসম্পন্ন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ না থাকার কারণে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। এই তিন পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি পুল গঠন করা যেতে পারে। কর্মমুখী শিক্ষার জন্য শিল্প-কারখানার সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ শক্তিশালী করতে ইন্ডাস্ট্রিতে অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের একাডেমিক কাজে নিযুক্তের সুপারিশও করেছে ইউজিসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও প্রসার। শিক্ষকদের মানসম্মত গবেষণায় নিযুক্ত করতে শিক্ষকদের টিচিং লোড কমানোসহ প্রশাসনিক দায়িত্ব হ্রাস করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্যোগ নিতে বলেছে ইউজিসি। সব গবেষণার জন্য একটি আর্কাইভ গঠনের কথাও বলা হয়। এই আর্কাইভে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সব গবেষণাপত্র, অভিসন্দর্ভ ও জার্নালের হার্ডকপি ও সফটকপি সংরক্ষিত থাকবে। ইউজিসি বলছে, পাঠদান ও গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মানসম্মত প্রকাশনার বিকল্প নেই। তাই শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে মানসম্মত প্রকাশনায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে নানা পদ্ধতি রয়েছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে তিনটি গুচ্ছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। নিজ নিজ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষাও নেবে কয়েক বিশ্ববিদ্যালয়। বার্ষিক প্রতিবেদনে ভর্তি জটিলতা নিরসনে একটি স্বতন্ত্র কমিশন গঠন করার কথা বলা হয়েছে। ইউজিসি বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাডেমিক মাস্টারপ্লান করা প্রয়োজন। মাস্টারপ্লানে কোনো বিভাগে কতজন শিক্ষার্থী ভর্তি হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত কেমন হবে তা উল্লেখ থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগের কোনো শাখায় ৪০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি না করতে সুপারিশ করা হয়েছে। ইউজিসি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শিগগিরই এ বার্ষিক প্রতিবেদনটি রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করা হবে। বার্ষিক প্রতিবেদনে বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে যেগুলো উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজন।

 

 

সর্বশেষ খবর