দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪২ (৪১ দশমিক ৯) শতাংশ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। এদের মধ্যে ৫১ শতাংশ নারী আর ৪৯ শতাংশ পুরুষ শিক্ষার্থী। সবচেয়ে বেশি ৪০ শতাংশ বৈষম্যের আচরণের শিকার হয় তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যের শিকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের। আর ১৯ শতাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের। ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী মেডিকেল কলেজে আছেন। গত শুক্রবার জুম মিটিংয়ে বেসরকারি সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশনের ‘বৈষম্যের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য’ শীর্ষক এক সমীক্ষার ফলাফলে এসব তথ্য উঠে আসে। এই সমীক্ষার জরিপে ১ হাজার ১৭৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী জানান, তারা পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী জানান, তারা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর শারীরিক অক্ষমতার জন্য বৈষম্যের শিকার হয়েছেন প্রায় ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। জাতিগত পার্থক্যের কারণে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে ৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর। অর্থনৈতিক কারণে প্রায় ২৩ শতাংশ, শারীরিক অবয়বের কারণে ২৯ শতাংশ এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থীর বৈষম্যের শিকার হতে হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে যা মোট হিসাবের ৬০ শতাংশ। ১৯ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে, আর ৩৭ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইভেন্টে। ৩৮ শতাংশ জানান, বন্ধুদের আড্ডায় তাদের বৈষম্যের শিকার হতে হয়। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনে বৈষম্যের শিকার হতে হয় ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৪৮ দশমিক ০৫ শতাংশ নারী, আর পুরুষ শিক্ষার্থী ৫০ দশমিক ৬৫ শতাংশ। শিক্ষার্থীদের ৫৮ শতাংশ সবচেয়ে বেশি বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন তাদের সহপাঠীদের মাধ্যমে। শিক্ষকের মাধ্যমে এ ধরনের আচরণের শিকার হয়েছেন ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। ৩২ শতাংশ শিক্ষার্থী বৈষম্যের জন্য প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। যোগ দিতে পারেন না। ৫১ শতাংশের পড়ালেখায় মনোযোগ থাকে না।