শিরোনাম
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৫:৪৩
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৫:৪৫

ভাষার জন্য জীবনদানের তাৎপর্য হলো বিদ্রোহ: ইকবাল মাহমুদ

অনলাইন ডেস্ক

ভাষার জন্য জীবনদানের তাৎপর্য হলো বিদ্রোহ: ইকবাল মাহমুদ

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ভাষা বা স্বাধীনতার জন্য এতো প্রাণ বিসর্জনের তাৎপর্য হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। আসলে এা ছিলো প্রতিবাদ। তিনি বলেন, ভাষার জন্য বা স্বাধীনতার জন্য কেন এতো প্রাণ বিসর্জন হলো ? প্রতিবাদকে হত্যার মাধ্যমে দমন করার চেষ্টার কারণেই এতো প্রাণ বিসর্জন। এই বিষয়টি আমাদের অনুধাবন করতে হবে। শুক্রবার দুদকের প্রধান কার্যলয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক  আলোচনা দুদক চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, আমাদের মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ-এগুলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শেখায়। এ থেকেই আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এগুলোই আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। তিনি বলেন,  নিগৃহীত হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষকে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যাওয়ার ঘটনা যখন শুনি, তখন কেন যেন মনে হয় অন্যায়ের প্রতিবাদ করাটা কি আমরা ভুলে যাচ্ছি?

তিনি আরও বলেন, জাতিগঠনে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন শৃঙ্খলা, সততা, নিষ্ঠা ও মানুষের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমার মনে হয়-এগুলোতেও আমাদের কিছুটা ঘাটতি এখনো রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, পত্রিকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অবমাননার সংবাদ দেখে এক অব্যক্ত মানসিক যন্ত্রণা অনুভব করি। সারা বছর শহীদ মিনার দেখতে দেশি-বিদেশি অনেক মানুষ আসেন। তাই, সারা বছর এর পবিত্রতা রক্ষার জন্য সার্বক্ষণিক ব্যবস্থাপনা থাকা দরকার।   
মুজিববর্ষের বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, স্বাভাবিকভাবেই ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতাকে এ বছরে নিয়ে অনেক আলোচনা হবে। এ সময় তিনি দুদক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, জাতির পিতা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। আসুন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে লালন করে-নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে, দুর্নীতি দমনে আত্মনিয়োগ করি।

তিনি বলেন, শহীদদের রক্তদান আমাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করার শিক্ষা দেয়। আপনাদের দায়িত্ব হবে নিজ নিজ দপ্তরের অন্যায়কে প্রতিহত করা। আপনারা সম্পূর্ণ নির্মোহভাবে জ্ঞান-বুদ্ধি বিবেচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন দেবেন। মনে রাখবেন অপরাধ দমনে বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ দায়িত্ব পালনে আপনারা হবেন নির্মোহ। নিজের বিবেক, আইনি যুক্তি-প্রতিযুক্তির মাধ্যমে তদন্তে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবেন। তাহলেই সকলের প্রতি ন্যায়বিচার  নিশ্চিত হবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। মানুষ তখনই এই প্রতিষ্ঠনটিকে  গুরুত্ব দেবে, যখন আপনাদের কাজের মাধ্যম মানুষ অনুধাবন করবে-দায়িত্ব পালনে আপনাদের অঙ্গীকার রয়েছে। আপনারা সততা, নিষ্ঠা ও সুচারুরূপে দায়িত্ব পালন করেন। মানুষের কল্যাণে আপনাদের অবদান আছে, তবেই এই গুরুত্ব টেকসই হবে।

আলোচনা সভায় দুদক কমিশনার ড. মো. মোজামোমল হক খান এবং এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। 

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন

 


আপনার মন্তব্য