Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০২:০৯

সিবিএ নেতার অবসরেও সরকারি সুবিধা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিবিএ নেতার অবসরেও সরকারি সুবিধা

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত স্টেনো টাইপিস্ট ও সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মিয়া। প্রায় ১০ বছর ধরে সরকারের একটি পাজেরো গাড়ি অবৈধভাবে ব্যবহার করে আসছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি অবসরে গেছেন। তারপরও তিনি গাড়ি ফেরত দেননি। এই দীর্ঘ সময় গাড়ি বাবদ তেল ও ড্রাইভারসহ সরকারের ব্যয় হয়েছে প্রায় কোটি টাকার বেশি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী আলাউদ্দিন মিয়ার অবৈধভাবে ব্যবহৃত ওই গাড়িটি গতকাল উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি টিম।

গতকাল রাজধানীর মতিঝিল এলাকা থেকে দুদকের এনফোর্সমেন্টের একটি টিম গাড়িটি উদ্ধার করে। দুদকের সহকারী পরিচালক সালাউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। সাবেক সিবিএ নেতা আলাউদ্দিন মিয়া ২০১৭ সালের আগস্টে অবসরে যান। তিনি তখন পিডিবির নকশা ও পরিদর্শন পরিদপ্তরের স্টেনো টাইপিস্ট পদে ছিলেন। গত বছরের আগস্টে তার অবসরোত্তর ছুটির (পিআরএল) সময়সীমাও শেষ হয়েছে। আলাউদ্দিন মিয়া পিডিবির সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানিয়েছেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী। তিনি গতকাল সাংবাদিকদের জানান, একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ওই গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। গাড়ি উদ্ধারের সময় এর চালক ছাড়া কেউ ছিলেন না। চালকের বক্তব্য রেকর্ড করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মুনীর চৌধুরী বলেন, গাড়িটি পিডিবির নামে বরাদ্দ থাকলেও ওই কর্মচারী কোনোভাবেই ব্যবহার করতে পারেন না। তারপরও তিনি ২০১৭ সালে অবসরে গেছেন। আলাউদ্দীন ২০০৯ সাল থেকে গাড়িটি ব্যবহার করছেন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, গাড়িটির পেছনে প্রতি মাসে ৪৫০ লিটার তেল ব্যবহার হয়েছে। নয় বছরে তেল বাবদ ৩৫ লাখ টাকার বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া এই সময়ে ৩৭ লাখ টাকা গাড়ির চালকের বেতন বাবদ ব্যয় হয়েছে। দুদকের আওতাভুক্ত এটি একটি ‘বড় অপরাধ’ হিসেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তৃতীয় শ্রেণির একজন কর্মচারীর নামে গাড়িটি কীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হলো, এর সঙ্গে পিডিবি বা অন্য কোনো অফিসের যারা জড়িত তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। তখন সেই অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় মামলা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দুদক অনুসন্ধান করবে। ওই কর্মচারীর সম্পদও খতিয়ে দেখা হবে। অনুসন্ধানের জন্য গাড়িটি দুদকে আনা হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে মুনীর চৌধুরী বলেন, অভিযোগ পেলে সরকারের পরিবহনপুলের এরূপ অপব্যবহার আরও হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।


আপনার মন্তব্য