Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ মার্চ, ২০১৯ ২২:৪১

এখনই ব্রেক্সিট চায় না ব্রিটিশ পার্লামেন্ট

বিড়ম্বনায় ইইউ

প্রতিদিন ডেস্ক

এখনই ব্রেক্সিট চায় না ব্রিটিশ পার্লামেন্ট

ইইউ থেকে বিচ্ছেদের তারিখ স্বল্প অথবা দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে পেছানোর পক্ষে ভোট দিয়েছে ব্রিটেনের পার্লামেন্ট। আগামী সপ্তাহে ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদনের ওপর সেই আবেদন নির্ভর করবে। ইইউ কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা স্পষ্ট নয়। তারপরও আগামী ২০ মার্চের মধ্যে বিচ্ছেদ চুক্তির প্রতি সংসদে সমর্থন আদায় করতে পারলে তা কার্যকর করার জন্য কয়েক মাস সময় লাগবে। ৩০ জুন পর্যন্ত সেই মেয়াদ বাড়ানোর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেটা সম্ভব না হলে কমপক্ষে এক বছরের জন্য ব্রেক্সিট পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হবে। আগামী ২১ ও ২২ মার্চ ব্রাসেলসে ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা ব্রিটেনের এই আবেদন বিবেচনা করবেন। একটি সদস্য দেশও তার বিরোধিতা করলে ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব হবে না। তবে ব্রিটেনে বর্তমান অচলাবস্থা কাটাতে ইইউ নেতারা দীর্ঘমেয়াদি বিলম্বের পক্ষে সমর্থন জানাতে পারেন। ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক এ জন্য ২৭টি সদস্য দেশের নেতাদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে তিনি আগামী সপ্তাহের শুরুতে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এদিকে ব্রেক্সিটের সময়সীমার দীর্ঘ বিলম্ব ঘটলে ব্রিটেনকে একাধিক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত আগামী ২৩ থেকে ২৬ মে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে সে দেশকে অংশ নিতে হবে, যা এক বিদায়ী দেশের পক্ষে অত্যন্ত অস্বস্তিকর হতে বাধ্য। তা ছাড়া ইইউ বাজেটের জন্য ব্রিটেনকে অর্থ মঞ্জুর করতে হবে। ব্রিটেনের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির জের ধরে গোটা ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। কট্টর ব্রেক্সিটপন্থিরা ব্রেক্সিটকে ঘিরে এমন অনিশ্চয়তা মেনে নিতে প্রস্তুত কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

২০১৬ সালের ২৩ জুন যুক্তরাজ্যে এক গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দেশটির চার দশকের সম্পর্কোচ্ছেদের রায় হয়। ভোটে হারের পর রক্ষণশীল দলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগ করলে তেরেসা মে সেই দায়িত্ব নিয়ে বিচ্ছেদের পথরেখা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এই জোট থেকে কোন প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্য আলাদা হবে এবং এরপর ইইউভুক্ত বাকি ২৭টি রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক কেমন হবে, সেই পথ বের করার জন্য সময় নেওয়া হয় ২১ মাস। কিন্তু এই সময়ে প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মের করা প্রস্তাবকে একাধিক বার নাকচ করে দেন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যরা। তবে এ অবস্থায় বিবিসি লিখেছে, ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী বুধবারের ভোটের ফলাফল সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ সরকার চাইলে এখনো কোনো চুক্তি ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ডয়েচে ভেলে, বিবিসি


আপনার মন্তব্য