শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:২৫

ক্রিসেন্টের কাদেরের জামিন নাকচ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্রিসেন্টের কাদেরের জামিন নাকচ

প্রায় হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের মামলায় কারাবন্দী ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ কাদেরের জামিন নাকচ করেছেন আদালত। গতকাল ঢাকার মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আসামি কাদেরের জামিন আবেদন নাকচ করেন।

এর আগে জামিন শুনানিতে আসামির আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী মামলার তদন্তকালে তদন্ত কর্মকর্তার নেওয়া সাক্ষীদের জবানবন্দি উপস্থাপন ও জামিন শুনানি করার জন্য আবেদন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর তার বিরোধিতা করে আদালতে বলেন, মামলাগুলোতে এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তার নেওয়া সাক্ষীদের ১৬১ ধারার জবানবন্দি আসামিপক্ষ দেখতেও পারেন না। তাহলে তদন্তের বিষয় আসামিপক্ষের কাছে ডিসক্লোজ হয়ে যায়। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আগে এ কাগজপত্রগুলো আদালতে উপস্থাপন করার দাবি আইনসঙ্গত নয়। এটা আইনের পরিপন্থী। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আসামিপক্ষের দুই অবেদনই নাকচ করে দেন।

মামলাটি তদন্ত করছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। মামলায় এখনো তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়নি বলে আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখা জানিয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ তদন্তের জন্য ক্রিসেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান কাদেরকে ৩০ জানুয়ারি কাকরাইলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের সদর দফতরে ডাকা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ক্রিসেন্ট গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস, ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ ও রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের নামে ৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে তিনটি মামলা করা হয়। এম এ কাদের ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের চেয়ারম্যান। তার ভাই চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস ৪২২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, রিমেক্স ফুটওয়্যার ৪৮১ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ ১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, অর্থাৎ মোট ৯১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ওইসব প্রতিষ্ঠানের নামে রপ্তানি বিল দেখিয়ে এই টাকাগুলো জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে এ টাকা আর ফেরত পায়নি ব্যাংক। মামলায় জনতা ব্যাংকের ১৩ জন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়, যাদের অধিকাংশই চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন।


আপনার মন্তব্য

close