Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:১৮

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান তনুর মা

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান তনুর মা

ফেনীতে নিহত নুসরাতের পরিবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও সাংস্কৃতিক কর্মী সোহাগী জাহান তনুর মা আনোয়ারা বেগম। তার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারলে তিনি মেয়ে হত্যার বিচার পাবেন। তনু হত্যার তিন বছর পার হলেও এখনো হত্যাকারী শনাক্ত হয়নি। নেই মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। তনুর পরিবারের সূত্র জানান, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভিতরে একটি বাসায় পড়াতে গিয়ে আর ফেরেননি তনু। পরে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করে রাতে বাসার অদূরে সেনানিবাসের ভিতর একটি জঙ্গলে তনুর লাশ পান। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিসসহায়ক ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। থানা পুলিশ ও ডিবির পর ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি কুমিল্লা। তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। শেষ ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর জামাকাপড় থেকে নেওয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। পরে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ম্যাচিং করার কথা থাকলেও তা করা হয়েছে কিনা- এ নিয়েও সিআইডি বিস্তারিত কিছু বলছে না। সর্বশেষ সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সিআইডির একটি দল ঢাকা সেনানিবাসে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদ করা ব্যক্তিরা তনুর মায়ের সন্দেহ করা আসামি বলেও সিআইডি জানায়। তবে তাদের নাম জানানো হয়নি।

গণজাগরণ মঞ্চ, কুমিল্লার মুখপাত্র খায়রুল আনাম রায়হান বলেন, ‘তনু হত্যা মামলাটির তদন্তে সিআইডি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে; যা খুবই দুঃখজনক।’

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘ফেনীর নুসরাতের হত্যাকারীরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে গ্রেফতার হয়েছে। তাদের বিচারও হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মেয়ের হত্যার বিচার চাওয়ার সুযোগ পেলে অন্তরে শান্তি পেতাম। তনুর বাবা এবং আমি খুবই অসুস্থ। মৃত্যুর আগে মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে চাই।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘ডিএনএ পরীক্ষা ও ম্যাচিং করার বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। ডিএনএ ম্যাচিংয়ের কাজ চলছে।’


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর