শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ১২ মে, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ মে, ২০২১ ০১:৩৭

দাফনের পর মিলল অপহৃতার সন্ধান খুনি গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক

Google News

দাফনের ২৬ দিন পর খোঁজ মিলেছে অপহৃত এক নারীর। গাজীপুর থেকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানায় গিয়ে জামা-কাপড় দেখে অপহৃত মেয়ে মিমি আক্তারের (২৮) লাশ শনাক্ত করেন তার বাবা আবদুল মান্নান। তার বাড়ি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর এলাকায়। 

অপহরণের দুই মাস ১৮ দিন পর গত ১ এপ্রিল দুপুরে পুলিশ মিমির গলিত লাশ উদ্ধার করে।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর আবদুল আলী নগরের নজির আহমেদের চারতলা বাড়ির নিচতলার একটি বন্ধ ঘর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে গত ৩ এপ্রিল লাশটি চট্টগ্রাম আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে বেওয়ারিশ হিসেবে দিয়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় পাহাড়তলী থানায় একটি মামলা হয়।

গত ৯ মে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে মিমিকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে প্রল্লাদ বর্মণ নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি সূত্র জানায়, গত ১ এপ্রিল খবর পেয়ে আবদুল আলী নগরের নজির আহমেদের চারতলা বাড়ির নিচ তলার বন্ধ ঘর থেকে একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাতে গিয়ে আলমতারা পুকুর পাড়ের মুরগির ফার্ম এলাকার জামাল উদ্দিনের বাড়ির একটি ঘর থেকে নিহতের বাবার নামে রেজিস্ট্রেশন করা একটি সিমকার্ড পাওয়া যায়। সেই সিম চালু করে মিমির বাবা আবদুল মান্নানের নম্বর সেভ করা অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর ২৬ এপ্রিল আবদুল মান্নানকে ফোন করে থানায় আসতে বলা হয়। তিনি রাতে এসে মেয়ের জামা-কাপড় দেখে লাশ শনাক্ত করেন। কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর এলাকার মিমি আক্তারের স্বামী বিদেশে থাকেন। সন্তান নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে থাকতেন। একই এলাকার প্রল্লাদ চন্দ্র বর্মণ তাকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় প্রল্লাদ ক্ষুব্ধ হয়ে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে মিমিকে অপহরণ করে। মিমির বাবা মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে, পরের দিন গত ১৯ জানুয়ারি কালিয়াকৈর থানায় প্রল্লাদ, তার বাবা জয়দেব চন্দ্র বর্মণ ও মা কমলা রানীকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা করেন। পুলিশ কয়েকদিন পর জয়দেবকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়।  

গতকাল সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর জানান, প্রল্লাদকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আর স্বল্পসময়ে এমন একটি মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর মামলার আসামিকে গ্রেফতার করা সিআইডির একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মিমি মোসলমান, আর প্রল্লাদ হিন্দু। দুজনেরই আগের ঘরের সন্তান রয়েছে। উভয়ে পরকীয়ার পর চট্টগ্রামে ঘর সংসার করা শুরু করেন। তাদের শর্ত ছিল কেউই আগের স্বামী আর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না। কিন্তু প্রল্লাদ তার আগের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। এনিয়ে মিমির সঙ্গে তার বিবাদ শুরু হয়। একদিন ঝগড়া-বিবাদের পর বেলের শরবতে বিষ মিশিয়ে মিমিকে খাইয়ে হত্যা করে প্রল্লাদ।