শিরোনাম
বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০০ টা
পি কে হালদারের বিচার নিয়ে ইডি

ঢাকার রায়ের অনুলিপি না পাওয়ায় ভারতে বিচারে প্রতিবন্ধকতা

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

কয়েক হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারে অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের আদালতে সাজা ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু সে রায়ের অনুলিপি কলকাতার আদালতে না আসা পর্যন্ত ভারতে এ মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতে এ মামলার তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর আইনজীবী অরজিৎ চক্রবর্তী। মঙ্গলবার কলকাতায় এ মামলার আইনি বিষয় নিয়ে অরজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘স্থানীয় আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ এখনো শুরু হয়নি। বাংলাদেশে যে সাজা হয়েছে সে সাজার অনুলিপি কোর্টের কাছে এসে পৌঁছায়নি। আমরা যেটুকু খবর পেয়েছি তাতে সাজা ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু সে রায়ের অনুলিপি না আসা পর্যন্ত এ ক্ষেত্রে এখানে বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে।’ গতকাল কলকাতার নগর দায়রা আদালতে (ব্যাংকশাল) পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার সংক্রান্ত আইন-২০০২ মামলার শুনানি থাকলেও তা আবারও পিছিয়েছে। এ মামলার শুনানি ছিল আদালতের বিশেষ সিবিআই কোর্ট-১-এর বিচারক প্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে। কিন্তু অভিযুক্তদের আইনজীবী তাতে স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন জানান এবং আদালত তা মঞ্জুরও করেন। এ বিষয়ে ইডির আইনজীবী বলেন, অভিযুক্ত পক্ষের তরফে দুটি পিটিশন করা হয়েছিল। আজ ওই দুটি পিটিশনের শুনানি ছিল। কিন্তু ওই শুনানির ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন জানানো হয়। তাতে আদালত অনুমতি দিয়েছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি তার শুনানি হবে। পি কে হালদারসহ অন্য অভিযুক্তকে বাংলাদেশে ফেরত নিয়ে যাওয়া বিষয়ে ইডির আইনজীবী বলেন, তাকে বাংলাদেশে পাঠানোর সময় খুব দীর্ঘমেয়াদি নয়। তবে এটা বালার সময় এখনো হয়নি। পি কে হালদার মামলায় নিষ্পত্তির কোনো আভাস পাওয়া যাচ্ছে কি না-সে প্রশ্নের উত্তরে দিতে গিয়ে অরজিৎ চক্রবর্তী জানান, ‘আপাতত নয়’। ইতোমধ্যে এ মামলায় নতুন করে প্রাণেশ কুমার হালদারের জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়েছে এবং সে বিষয়টি নিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি আদালতে শুনানি হয়। পাশাপাশি আরেক অভিযুক্ত আমানা সুলতানের শারীরিক অবস্থার মেডিকেল রিপোর্ট চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া কলকাতার বৈদিক ভিলেজে পি কে হালদারের যে বাসভবনটি রয়েছে তা পুনরুদ্ধার করে সেখানে তার অসুস্থ মা লীলাবতী হালদারকে রাখার জন্য আবেদন জানানো হয়। টানা কয়েক দফায় বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর শনিবার অভিযুক্ত পি কে হালদার, তার ভাই প্রাণেশ হালদার, স্বপন মিস্ত্রি ওরফে স্বপন মৈত্র, উত্তম মিস্ত্রি ওরফে উত্তম মৈত্র, ইমাম হোসেন ওরফে ইমন হালদার এবং আমানা সুলতানা ওরফে শর্মী হালদারসহ ছয় অভিযুক্তকেই আদালতে হাজির করা হয়।

২০২২ সালের ১৪ মে পশ্চিমবঙ্গের রাজারহাটের বৈদিক ভিলেজ, বোর্ড হাউস ১৫ গ্রিনটেক সিটি থেকে পি কে হালদারকে গ্রেফতার করে ভারতের তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এ ছাড়া রাজ্যটির বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে পি কে হালদারের আরও পাঁচ সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জ গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে পি কে হালদারসহ পাঁচ পুরুষ অভিযুক্ত রয়েছেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কারাগারে, অন্যদিকে একমাত্র নারী অভিযুক্ত রয়েছেন আলিপুর নারী সংশোধনাগারে। এদিন অভিযুক্ত সবাইকেই আদালতে হাজির করা হয়েছিল।

সর্বশেষ খবর