শিরোনাম
প্রকাশ : ১০ জুলাই, ২০২০ ১০:০২
আপডেট : ১০ জুলাই, ২০২০ ১৪:০২

জীবনে কতো টাকা দরকার?

আহমেদ আল আমীন

জীবনে কতো টাকা দরকার?
আহমেদ আল আমীন

প্রশ্নটি সবার মনেই আসা উচিত। কিন্তু আসে কি? একজন মানুষের জীবনে কতো টাকার দরকার? উত্তরটি যদিও এক হবে না। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সঠিক উত্তরে সমান মিল থাকবে। জীবন ধারণে প্রয়োজনীয় স্বাভাবিক অর্থ। অর্থের এই ‘প্রয়োজনীয়তা’ ও ‘স্বাভাবিকতা’ নিজের ব্যাকগ্রাউন্ডকে সামনে রেখে, সে নিজেই নির্ধারণ করবে। 

সৎ পথে নিজের অবস্থার উন্নতি করতে কোনো দোষ নেই। কিন্তু অন্য পথে? কেন? কি হবে এই টাকা দিয়ে। কতো টাকা আয় করলেন সেটি বড় কথা নয়, কিভাবে আয় করলেন সেটিই বড় কথা।

এখন যেখানে আছেন, সারা জীবন একই অবস্থায় থাকবেন, এটা কাম্য না। এভাবে নিম্ন-মধ্যবিত্তের কাতারে আসবে নিম্নবিত্ত; মধ্যবিত্ত আসুক উচ্চ-মধ্যবিত্তের কাতারে; কে, কবে বারণ করেছে। 

অপ্রয়োজনীয় সম্পদ আসলেই অপ্রয়োজনীয়। তাহলে বেঁচে থাকার জন্য এতো চায় কেন মানুষ? কার জন্য চায় সে, কেন? উঠোনে লাশ ফেলে রেখে সম্পদের ভাগাভাগি কতো দেখেছি। বাবার মৃত্যুর পর, লাশের কাছে আসতে পারেন না, এই টাকার জন্য। পালিয়ে বেড়াতে হয় আপনাকে। আপনার মা কতোটা উৎকণ্ঠায় থাকে প্রতিমুহুর্তে।

তাহলে টাকা দিয়ে জীবনে কি হলো আর। অসৎ পথে টাকা কামিয়ে, ফেরারি জীবনে বাবার মৃত্যুতেও বাড়ি ফিরতে পারলেন না, শেষবারের মতো মুখখানি দেখে জানাজায় শরিক হতে পারলেন না। বাবার লাশটি কাঁধে বয়ে, বুকে নিয়ে কবরে একমুঠো মাটি দিতে পারলেন না। 

আপনি কি ভেবেছেন এর মূল্য কতো? কতো টাকার লোকসান হলো আপনার? আপনি তো টাকা ছাড়া কিছু বোঝেন না, এই হিসাবটা কি করেছেন? আখেরে কতোটা ব্যর্থ হলেন আপনি! 

চেয়ে দেখুন, একজন দিনমজুরের কর্মক্লান্ত মুখের দিকে। দারিদ্রের বোঝা পিঠে টানা পেটানো শরীরটা নিয়ে বিছানায় শুয়েই সে ঘুমিয়ে পড়ে। বউ পিটানো লোকটির মৃত্যুতেও ক্ষুধার্ত স্ত্রীর কান্না দেখুন। আর আপনার স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে? আমোদের চোটেও তাদের কাছে আশা করতে পারেন এমনটি?  

সবার চোখ ফাঁকি দিতে পারেন, কিন্তু নিজের বিবেককে কি ফাঁকি দিতে পারেন। উত্তর হতে পারে, বিবেককে ফাঁকি দিতে না পারলে এতো টাকা আয় করলেন কিভাবে? তা অবশ্য ঠিক! 
আপনি যদি জেলে থাকেন, ফেরার থাকেন, এমনকি কবরে থাকেন; হিসাব করুন। দেখুন কতো টাকা আছে আপনার। কতোটা কাজে লাগলো আসলে! 

আপনি কি কারুনের মতো অর্থবান হতে চান, ফেরাউনের মতো ক্ষমতাবান হওয়ার খায়েশ আপনার? পারবেন না। তাহলে, অর্থ আর ক্ষমতার পেছনে ছুটছেন কেন? অর্থ বা ক্ষমতা কি তাদের কাজে লেগেছে? 

কতো মানুষের অভিশাপ ও দীর্ঘশ্বাস লেগে আছে আপনার ঘাড়ে, তা কি জানেন? টের পান না? এতো মানুষের বিষাক্ত বর নিয়ে থাকেন কি করে। রাতে ঘুম হয় আপনার? এ সবই কিন্তু এই টাকার জন্য, ‘প্রয়োজনীয়তা’ ও ‘স্বাভাবিকতা’ না মেনে নিজের ‘ব্যাকগ্রাউন্ড’ ভুলে যে কোনোভাবে হাতিয়ে নেয়ার অব্যবহিত ও অনিবার্য ফল।

আমাদের দ্যাখেন, কত আরামসে ঘুমাই। ঘুম ভেঙে নামাজ শেষে বই নিয়ে বসি। আবার টেবিলের ওপরে, বইয়ের বুকেই ঘুমে লুটিয়ে পড়ি।  হাতে কিন্তু অতো টাকা নেই। তাতে আক্ষেপও নেই। মনে আছে সাহস, আত্মবিশ্বাস। জীবনে কতো টাকা লাগবে; ‘প্রয়োজনীয়তা’ ও ‘স্বাভাবিকতা’র নিরিখে ব্যাকগ্রাউন্ড সামনে রেখে, নিজেই নির্ধারণ করে ফেলেছি। 

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর