শিরোনাম
প্রকাশ: ১০:৪৯, শনিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২২

জাফর ইকবাল স্যাররা কেন উপাচার্য হন না

সৈয়দ বোরহান কবীর
অনলাইন ভার্সন
জাফর ইকবাল স্যাররা কেন উপাচার্য হন না

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) রাতেই শুনলাম জাফর ইকবাল স্যার সিলেটের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই টেলিভিশনে দেখলাম তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন। বললেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের অনশন না ভাঙিয়ে যাব না’। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি এবং অধ্যাপক ইয়াসমিন হক মিলে শিক্ষার্থীদের অনশন ভঙ্গ করান। টেলিভিশনে দেখছিলাম, শিক্ষার্থীরা জাফর ইকবাল স্যারকে দেখে আবেগে, কান্নায় ভেঙে পড়লেন। স্যারও পরম মমতায় তাদের বুকে জড়িয়ে ধরলেন। অজান্তেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লাম। চোখ দিয়ে পানি বেরোল। স্মৃতিক্রান্ত হলাম। ১৯৮৪ সাল, এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হলাম নিজেও জানি না। আন্দোলনের অংশ হিসেবে হরতাল ডেকেছে রাজনৈতিক দলগুলো। এস এম হল থেকে মিছিল করতে করতে আমরা কজন অবস্থান নিলাম পলাশীর মোড়ে। আলমগীর ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা ৮-১০ জন। কিছুক্ষণের মধ্যে বুয়েট থেকে খন্দকার মোহাম্মদ ফারুকের নেতৃত্বে বিরাট মিছিল এলো। ফারুক ভাই বিশাল লম্বা। দরাজ গলা। ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি। প্রচ- জনপ্রিয়। দু-একটি গাড়ি চলছিল, সেগুলো থামিয়ে দেওয়া হলো। ফারুক ভাই বললেন, কোনো ভাঙচুর নয়। কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার নয়। আমরা রিকশার যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছিলাম। শান্ত, উৎসবমুখর পরিবেশ। কিন্তু হঠাৎ পুলিশের দুটি গাড়ি এলো দুই দিক থেকে। নেমেই শুরু করল বেধড়ক মার। কিছু বোঝার আগেই আমি লুটিয়ে পড়লাম। জ্ঞান ফিরলে দেখলাম আমি একটি খাটে। চারদিকে তাকিয়ে বুঝলাম এটা কোনো বাড়ি। এরপর একজন পিতৃতুল্য মানুষ আমার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দিলেন। বললেন, এখন ঘুমাও বাবা। মোহসীন স্যার। সলিমুল্লাহ হলের প্রভোস্ট। পরে শুনেছি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম। প্রভোস্ট স্যার জানার পর তাঁর বাংলোয় নিয়ে যান। ডাক্তার ডাকেন। আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় হয়ে উঠেছি তখন এ রকমই পিতৃতুল্য কিছু শিক্ষক পেয়েছিলাম যাঁদের সঙ্গে সব কথা বলতে পারতাম আবার প্রচ- শ্রদ্ধা করতাম। জাফর ইকবাল স্যারের মমতা এবং আবেগ দেখে সেসব শিক্ষকের কথা মনে পড়ল। মনে হলো, তাঁরা কেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন না। কিংবা অন্যভাবে বলা যায়, সরকার কেন এঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করে না? এখন উপাচার্য কিংবা শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মমতার বন্ধনটা কেন আলগা? কেন সেখানে শ্রদ্ধা-ভালোবাসা নেই?

আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করি তার আগেই অধ্যাপক ফজলুল হালিম চৌধুরী স্যার পদত্যাগ করেছেন। নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক শামসুল হক। তখন উপাচার্য নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ, ১৯৭৩ কিছুটা হলেও মানা হতো। সিনেট তিনজনের নামের প্যানেল প্রস্তাব করত আচার্যের কাছে। সিনেট নির্বাচনে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যার পেয়েছিলেন সর্বোচ্চ ভোট। তিনজনের মধ্যে তৃতীয় হয়েছিলেন শামসুল হক স্যার। এরশাদ সর্বনিম্ন ভোট পাওয়া শিক্ষককেই পছন্দ করেছিলেন। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যার ছিলেন জ্ঞানতাপস। সত্যিকার অর্থে একজন অভিভাবক। পরে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে, বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে বহুবার তাঁর সঙ্গে দেখা করেছি। যতবার সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী স্যারের সঙ্গে দেখা হয়েছে, ততবার মনে হয়েছে নতুন কিছু শিখলাম। কিন্তু এই মানুষটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করা হয়নি কোনো দিন। কেন? শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে নিয়ে যখন টানটান উত্তেজনা, তখন আমার মনে কিছু একটা বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে কেন পন্ডিত, শিক্ষার্থীদের কাছে শ্রদ্ধেয় ও জনপ্রিয় শিক্ষকদের বেছে নেওয়া হয় না? কেন অনুগত, অযোগ্য, পদলেহী, চাটুকারদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। আমার কাছে মনে হয় বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞানচর্চার তীর্থ কেন্দ্র। একজন পন্ডিত, পিতৃতুল্য সেরা শিক্ষকেরই এ পদ পাওয়া উচিত। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম উপাচার্য ছিলেন অধ্যাপক শামসুল হক। তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। কিন্তু সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মতো জ্ঞানভান্ডার ছিল না। শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা ও পরিচিতিও তেমন একটা ছিল না। কিন্তু তিনি শিক্ষাঙ্গনে ন্যূনতম পবিত্রতা কক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েছিলেন। স্বৈরাচার এরশাদ সরকার হয়তো জ্ঞান, পান্ডিত্যকে ভয় পেতেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাঁর একটা ভীতি ছিল। এজন্য সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মতো একজন ব্যক্তিত্ববান, আদর্শবাদী শিক্ষককে তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব দিতে ভয় পেয়েছিলেন। সে সময় থেকে অদ্যাবধি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদটি যেন একান্ত দলীয় অনুগতদের জন্য সংরক্ষিত। কোনো সরকারই উপাচার্য নিয়োগে পন্ডিত, গবেষক, উদ্ভাবনী চিন্তাবিদ কাউকে খোঁজে না। একজন দলীয় পাহারাদার খোঁজে। ফলে গার্মেন্ট মালিক, এনজিও নেতা, অনারারি মেজর পর্যন্ত উপাচার্য হচ্ছেন বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। উপাচার্য হতে অনেকে তদবির করেন। ছাত্র সংগঠনের নেতাদের খাতির করেন। মন্ত্রীর বাড়িতে মাছ, মিষ্টি নিয়ে যান। এখন যেভাবে উপাচার্য নিয়োগ হচ্ছে সমানে যদি আমলারা প্রেষণে উপাচার্য হন, অবাক হব না। অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জ্ঞানচর্চার নিত্যনতুন চিন্তা বিকাশে মনোযোগী নন। তাঁরা ব্যস্ত থাকেন সরকারের মন্ত্রী, প্রভাবশালী, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে তুষ্ট রাখতে। জ্ঞানবিজ্ঞান চুলায় যাক, সরকার বাহাদুর খুশি থাকলেই তাঁরা নিজেদের সফল মনে করেন। উপাচার্য পদটি যেন এখন প্রকৃত শিক্ষকের জন্য নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাই ধরা যাক। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা মনে হলেই কয়েকজন ব্যক্তিত্বের নাম মনে আসে। জ্ঞানচর্চায় তাঁরা প্রত্যেকেই যেন একেকটি প্রতিষ্ঠান। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, রঙ্গলাল সেন, সরদার ফজলুল করিম, আহমদ শরীফ। এঁরা কেউ বিশ্ববিদ্যায়য়ের উপাচার্য হননি। আশির দশকে প্রায় প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে অন্তত একজন আলোকিত শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের আমরা শ্রদ্ধা করতাম। আমাদের আইন বিভাগে অধ্যাপক কামরুদ্দিন আহমেদ, সাংবাদিকতায় অধ্যাপক সাখাওয়াৎ আলী খান, ইংরেজি বিভাগে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এ রকম বহু নাম। কিন্তু তাঁরা কখনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হননি। এর পেছনে ক্ষমতাসীনদের যে অনাগ্রহ ছিল তা যেমন সত্য, তেমন এসব শিক্ষকও উপাচার্য পদটিকে ঝামেলা মনে করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষেই সাংবাদিকতায় জড়িয়ে যাই। এর ফলে সব বিভাগের শিক্ষকের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার একটা বিরাট সুযোগ পেয়েছিলাম। তাঁদের মধ্যে ইংরেজি বিভাগের সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যারের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনেই নৈকট্য হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ সরকার সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যারকে একবার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। স্যার তা গ্রহণ করেননি। স্যার আমাকে একদিন বলেছিলেন, ‘কিছুতেই আমি উপাচার্য হব না’। এ নিয়ে তাঁর সঙ্গে এক সন্ধ্যায় দীর্ঘ তর্কও হয়েছিল। তাঁর সার কথা- ‘উপাচার্য পদটি কোনো ব্যক্তিত্ববান মানুষের জন্য নয়’। একইভাবে আওয়ামী লীগ সরকার প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের কাছ থেকেও। শিক্ষার্থীদের কাছে বিপুল জনপ্রিয় হওয়ার পরও তিনি উপাচার্য হননি। অথচ আমার মনে হয় এ দায়িত্ব নিলে তিনি দেখাতে পারতেন উপাচার্যের কাজ কী? কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে হয়। এই মানুষটির মুগ্ধ ভক্ত আমি। আমি যখন ‘পরিপ্রেক্ষিত’ করি, তখন এক সাক্ষাৎকার নিতে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়। আমি অবাক হয়ে যাই, এত সহজে শুধু কথা বলে একজন মানুষ কীভাবে এত আপন হয়ে যান। এরপর বিভিন্ন সময় নানা কাজে তাঁর কাছে গিয়েছি। সর্বশেষ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎটা ছিল অন্যরকম। ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ শিশু সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণের একটি কর্মসূচি হাতে নিল। ঢাকা, সাভার এবং চট্টগ্রাম থেকে ৪০টি বাচ্চাকে এক বছর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কে প্রধান অতিথি থাকবেন। সেভ-এর সঙ্গে মিটিংয়ে নানা নাম। আমি জাফর ইকবাল স্যারের নাম প্রস্তাব করলাম। সবাই বললেন, স্যার আসলে তো খুবই ভালো, কিন্তু স্যার কি আসবেন? আমি বললাম, শিশুদের ব্যাপারে স্যারের আলাদা দরদ আছে। স্যারকে টেক্সট করলাম। বিকালে স্যার ফোন করলেন। সব শুনলেন। তারপর জানতে চাইলেন কবে অনুষ্ঠান করতে চাই। আমি বললাম, স্যার আপনি যেদিন বলবেন। স্যার একটা তারিখ দিলেন। ব্যস। স্যার তত দিন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নিয়েছেন। জঙ্গি মৌলবাদীরা তাঁকে হুমকিও দিচ্ছে। সরকার এজন্য তাঁর বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। অনুষ্ঠানের দিন স্যারের বাসায় গিয়ে দেখলাম নিচে পুলিশ। বেল টিপতেই দেখি স্যার রেডি। আমরা নামলাম। স্যার বললেন, একজন পুলিশ ভাইও আমাদের সঙ্গে যাবেন। চালকের পাশে পুলিশ ভাইকে বসিয়ে আমরা রওনা হলাম ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্দেশে। আমাদের অনুষ্ঠানের সময় ছিল বেলা সাড়ে ১১টা। আমরা সাড়ে ৯টায় স্যারের মহাখালীর বাসা থেকে রওনা দিলাম। কিন্তু সেদিন এক ভয়ংকর ট্রাফিক জ্যামে পড়লাম। ২ ঘণ্টা জাফর ইকবাল স্যার আর আমি। এ ২ ঘণ্টা যেন আমার জীবনের এক সেরা অভিজ্ঞতা। নানা বিষয়ে আমরা কথা বলছিলাম। একপর্যায়ে স্যারের কাছে জানতে চাইলাম, আপনি কেন উপাচার্য হলেন না? স্যার খুব গুছিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। যদিও তাঁর ব্যাখ্যার সঙ্গে আমি একমত নই। কিন্তু ওইদিন আমি অন্য এক জাফর ইকবালকে আবিষ্কার করলাম সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। মৎস্য ভবনের কাছে এসে গাড়ি আর কিছুতেই এগোচ্ছে না। প্রায় ১৫ মিনিট। ঘড়িতে সাড়ে ১১টা বাজে। স্যার হঠাৎ বিড়বিড় করছেন, বাচ্চাগুলো অপেক্ষা করছে। এটা ঠিক না। আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন অনুষ্ঠান কটায়? বললাম, স্যার অসুবিধা নেই। একটু দেরিতে গেলেও সমস্যা নেই। স্যার একটু রেগে গেলেন। ‘কী বলেন! ছেলেমেয়েরা বসে থাকবে, এটা কী করে হয়। চলেন হাঁটি।’ গাড়ি থেকে নেমে আমরা হাঁটা শুরু করলাম। পেছনে পুলিশ ভাই। ১০ মিনিট হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে যখন পৌঁছলাম তখন সবাই অবাক। এ রকম দায়িত্ববান মানুষের হাতে উপাচার্যের দায়িত্ব গেলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চেহারাই পাল্টে যেত। প্রকৃত শিক্ষকের এ অনাগ্রহে উপাচার্য পদটি চাটুকার, অনুগত, ব্যক্তিত্বহীনদের জন্য সংরক্ষিত হয়েছে। (অবশ্য সব উপাচার্যের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়। দু-একজন গুণী শিক্ষকও উপাচার্য হচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের সংখ্যা খুবই কম)। আবার অনেক গুণী, প্রতিভাবান শিক্ষক দেশেই থাকেন না। চাকরি ছেড়ে চলে যান। জাফর ইকবাল স্যার যেমন বিজ্ঞ, বিপুল টাকার হাতছানি উপেক্ষা করে দেশে ফিরে এসেছেন। চাকরি নিয়েছেন, ঢাকা থেকে বহুদূরে। সবাই তো আর সে রকম ঝুঁকি নেন না।

আমার বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ১৪ দিনের মাথায় টিএসসি গেছি। ঢুকতেই দেখলাম চমৎকার হাতের লেখা একটি পোস্টার। খান মোহাম্মদ ফারাবী বিতর্ক প্রতিযোগিতা। আয়োজক সংস্কৃতি সংসদ। কিছু না বুঝেই ফরম নিয়ে ফিলাপ করে জমা দিলাম। বিতর্কের দিন দেখলাম বিচারক আলী রীয়াজ, মাহাবুব মোকাদ্দেম আকাশ। বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ডাকসাইটে বিতার্কিকের ভিড়ে আমি এক পিচ্চি। বিরূপাক্ষ পাল যথারীতি প্রথম হলেন। আমি দ্বিতীয়। সেখানেই পরিচয় হলো আলী রীয়াজ স্যারের সঙ্গে। আমার বিতর্কের প্রশংসা করলেন। তাঁর ডিপার্টমেন্টে যেতে বললেন। মুহূর্তেই আপন করে নিলেন। এরপর কবে কীভাবে রীয়াজ ভাই হয়ে গেলেন তিনি, নিজেও জানি না। আলী রীয়াজের সঙ্গে সখ্যের সূত্রেই গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে যাওয়া-আসা শুরু হলো। আলী রীয়াজ, সুব্রত শংকর ধর আর আনিসুজ্জামান তিন তরুণ প্রভাষক বসতেন কোনার এক রুমে। তিনজন যেন টগবগে দীপ্ত তারুণ্যে। আমার মনে হতো এরা কেউ একদিন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হবেন। তখন বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, সঙ্গে সংস্কৃতিচর্চার এক উৎসব। বটতলায় ছাত্রনেতাদের বক্তৃতা মুগ্ধ হয়ে শুনতাম। মেজবাহ কামাল ছাত্রমৈত্রী করেন। সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হয়েছেন। আলী রীয়াজ বাসদ ছাত্রলীগের নেতা। ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক। সদ্য শিক্ষক। এম এম আকাশ ছাত্র ইউনিয়নের নেতা। সদ্য অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক। ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আশা সোনালি প্রজন্মের এসব মেধাবী কেউ উপাচার্য হননি। আলী রীয়াজ এখন মার্কিন মুলুকে অধ্যাপনা করেন। সুব্রত দা বিশ্বব্যাংকের বড় কর্তা। আনিস ভাই ট্র্যাজেডির এক করুণ অধ্যায় রচনা করে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। অন্য মেধাবীরা দায়িত্ব থেকে সযতেœ নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে রেখেছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার দৌড়ে দলীয় লেজুড়রাই রাজত্ব করেন। ক্ষমতাসীন দলেও যাঁরা ব্যক্তিত্ববান, প্রতিবাদী, নীতিমান তাঁরাও উপাচার্য পদটি ঝামেলা মনে করেন। ড. আবুল বারকাত, কিংবা ড. সাদেকা হালিম, ড. মিজানুর রহমানের মতো সরকার সমর্থক শিক্ষকেরও উপাচার্য পদে নিয়োগ দিতে সরকারের অজানা শঙ্কায় বুক কাঁপে! আমার বিবেচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী সম্ভবত শেষ মেরুদন্ডসম্পন্ন উপাচার্য। যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ সবার ওপরে স্থান দিতেন। যিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিয়ে একটা শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছিলেন। তিনি কখনো শিক্ষামন্ত্রী বা শিক্ষা সচিবের পিএসের রুমে নতজানু হয়ে বসে থাকেননি। দলীয় বিবেচনায়ও যে ভালো, উপযুক্ত এবং দক্ষ উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া যায়, তার সর্বশেষ প্রমাণ অধ্যাপক চৌধুরী। এখন যাঁরা উপাচার্য হিসেবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ পান তাঁদের কাউকে কাউকে দেখে আমার আহমদ ছফার ‘গাভী বিত্তান্ত’ উপন্যাসের কথা মনে পড়ে। আহমদ ছফার এ উপন্যাসের প্রথম লাইনটা এ রকম- ‘আবু জুনায়েদের উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রাপ্তির ঘটনাটি প্রমাণ করে দিল আমাদের এই যুগেও আশ্চর্য ঘটনা ঘটে।’... হঠাৎ হঠাৎ উপাচার্য পদে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়, তার নাম শুনে মনের অজান্তেই ওই বাক্যটি বেরিয়ে আসে। আমার মাথায় দ্বিতীয় যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো, বিতর্কিত হওয়ার পরও উপাচার্যরা পদত্যাগ করেন না কেন? ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা ধিকৃত, নিন্দিত হওয়ার পরও কেন পদ আঁকড়ে রাখার মরিয়া চেষ্টা করেন তাঁরা?

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের আগেই পদত্যাগ করেছিলেন অধ্যাপক ফজলুল হালিম চৌধুরী। সামরিক সরকার তাঁর অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঢুকিয়েছিল। নির্ভীক এই মানুষটি অভিভাবক হিসেবে এ ঘটনা মেনে নিতে পারেননি। আর এখন উপাচার্যরা নিজেদের চেয়ার রক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের পুলিশ দিয়ে পেটান! কী ভয়াবহ। অধ্যাপক শামসুল হকের বাসভবনে হামলা চালিয়েছিল ছাত্রদলের ক্যাডাররা। উপাচার্য ভবনে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। স্যার সে সময় ছিলেন না। ফিরে এসে পদত্যাগে সময় নেননি। আর এখন দেখি উপাচার্যরা শিক্ষার্থীদের সাত দিন অনশনের পরও চেয়ার আঁকড়ে থাকেন। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দলকানা, চাটুকার, অযোগ্য হলে তা ক্ষমতাসীনদের জন্যই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমি বুঝি না সরকার কেন এসব লোভাতুর উদ্বাস্তুর ভার নিজের কাঁধে তুলে নেয়। উপাচার্য পদটিকে কেন অনুগতদের পুনর্বাসন কেন্দ্র বানানো হয়। তার চেয়ে যদি ‘গাভী বিত্তান্ত’র উপাচার্য আবু জুনায়েদের মতো এদের একটি করে গাভী কিনে দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রক্ষা পেত।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ

এই বিভাগের আরও খবর
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
পুরুষতান্ত্রিকতায় দুর্বিষহ নারীজীবন
পুরুষতান্ত্রিকতায় দুর্বিষহ নারীজীবন
নির্বাচন হবে কী হবে না
নির্বাচন হবে কী হবে না
বৈষম্য থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না
বৈষম্য থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না
অপশক্তি রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে
অপশক্তি রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে
ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যম, বর্তমান অবস্থা : জনগণের প্রত্যাশা
ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যম, বর্তমান অবস্থা : জনগণের প্রত্যাশা
রমরমা মাদক কারবার তারুণ্যের মহাসর্বনাশ
রমরমা মাদক কারবার তারুণ্যের মহাসর্বনাশ
বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক সমালোচনা
বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক সমালোচনা
নির্বাচন হোক সংশয়মুক্ত
নির্বাচন হোক সংশয়মুক্ত
সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের খোলা চিঠি
সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের খোলা চিঠি
এক বছরে কতটা এগোল বাংলাদেশ?
এক বছরে কতটা এগোল বাংলাদেশ?
ক্ষমতার বৈপ্লবিক রূপান্তর ভিন্ন মুক্তি নেই
ক্ষমতার বৈপ্লবিক রূপান্তর ভিন্ন মুক্তি নেই
সর্বশেষ খবর
খাগড়াছড়িতে সন্তানকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে মা আটক
খাগড়াছড়িতে সন্তানকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে মা আটক

৩ সেকেন্ড আগে | দেশগ্রাম

ঢাকার বাতাসে মাঝারি দূষণ, শীর্ষে কামপালা
ঢাকার বাতাসে মাঝারি দূষণ, শীর্ষে কামপালা

৪ মিনিট আগে | নগর জীবন

ইসরায়েলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও বন্দর নিষিদ্ধ করল তুরস্ক
ইসরায়েলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও বন্দর নিষিদ্ধ করল তুরস্ক

১৩ মিনিট আগে | পূর্ব-পশ্চিম

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার

১৪ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ৪ বাসের সংঘর্ষে আহত ২০
ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ৪ বাসের সংঘর্ষে আহত ২০

৩১ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার মুখে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট
মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার মুখে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট

৩১ মিনিট আগে | পূর্ব-পশ্চিম

রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফেরার ইঙ্গিত কঙ্গনার
রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফেরার ইঙ্গিত কঙ্গনার

৫০ মিনিট আগে | শোবিজ

খাদ্য সামগ্রীসহ ৭ পাচারকারী গ্রেফতার
খাদ্য সামগ্রীসহ ৭ পাচারকারী গ্রেফতার

৫৪ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

আল নাসরের জয়ের ম্যাচে নতুন উচ্চতায় রোনালদো
আল নাসরের জয়ের ম্যাচে নতুন উচ্চতায় রোনালদো

১ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

শেরপুরে বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মত্যু
শেরপুরে বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মত্যু

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

কিশোর গ্যাং ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই
কিশোর গ্যাং ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই

১ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, আটক ২
পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, আটক ২

২ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

টেকসই অর্থনীতি গড়তে হলে ক্ষমতার পুনর্বণ্টন জরুরি
টেকসই অর্থনীতি গড়তে হলে ক্ষমতার পুনর্বণ্টন জরুরি

২ ঘণ্টা আগে | অর্থনীতি

নুরের ওপর হামলার ঘটনায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা
নুরের ওপর হামলার ঘটনায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা

২ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

জাবিতে এখনো হলে হলে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা, জাকসুর সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা
জাবিতে এখনো হলে হলে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা, জাকসুর সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা

২ ঘণ্টা আগে | ক্যাম্পাস

ইংল্যান্ড সফরের অনূর্ধ্ব–১৯ দল ঘোষণা
ইংল্যান্ড সফরের অনূর্ধ্ব–১৯ দল ঘোষণা

২ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

বাফার জোনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি
বাফার জোনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি

২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স
খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স

২ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

আফগানিস্তানকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা পাকিস্তানের
আফগানিস্তানকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা পাকিস্তানের

৩ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পদ্ধতি
মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পদ্ধতি

৩ ঘণ্টা আগে | ইসলামী জীবন

গাজা থেকে ২ জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের
গাজা থেকে ২ জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের

৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ইসলামী বিধানে সহজীকরণ নীতি ও নজির
ইসলামী বিধানে সহজীকরণ নীতি ও নজির

৩ ঘণ্টা আগে | ইসলামী জীবন

একনজরে আজকের বাংলাদেশ প্রতিদিন (৩০ আগস্ট)
একনজরে আজকের বাংলাদেশ প্রতিদিন (৩০ আগস্ট)

৩ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

কমলা হ্যারিসের নিরাপত্তা সুবিধা বাতিল করলেন ট্রাম্প
কমলা হ্যারিসের নিরাপত্তা সুবিধা বাতিল করলেন ট্রাম্প

৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

পাঁচ বছরে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে: রেড ক্রস
পাঁচ বছরে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে: রেড ক্রস

৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে হাঁটুন
সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে হাঁটুন

৫ ঘণ্টা আগে | জীবন ধারা

শেষ ওভারে মাদুশঙ্কার হ্যাটট্রিকে শ্রীলঙ্কার নাটকীয় জয়
শেষ ওভারে মাদুশঙ্কার হ্যাটট্রিকে শ্রীলঙ্কার নাটকীয় জয়

৫ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

ফেসবুকে বিরক্তিকর ফ্রেন্ড সাজেশন বন্ধ করবেন যেভাবে
ফেসবুকে বিরক্তিকর ফ্রেন্ড সাজেশন বন্ধ করবেন যেভাবে

৬ ঘণ্টা আগে | টেক ওয়ার্ল্ড

সিরাজগঞ্জে দুই নৌকার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫
সিরাজগঞ্জে দুই নৌকার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫

৭ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

সর্বাধিক পঠিত
রাকসু ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান
রাকসু ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান

১২ ঘণ্টা আগে | ক্যাম্পাস

জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

১৩ ঘণ্টা আগে | নগর জীবন

‘জামায়াতের সঙ্গে ড. ইউনূসের রাতের যোগাযোগ আছে, প্র্যাক্টিক্যালি তারাই দেশ চালাচ্ছে’
‘জামায়াতের সঙ্গে ড. ইউনূসের রাতের যোগাযোগ আছে, প্র্যাক্টিক্যালি তারাই দেশ চালাচ্ছে’

১৭ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

‘দুই বাচ্চার মা’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ শুভশ্রী, পাল্টা জবাব দেবকে
‘দুই বাচ্চার মা’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ শুভশ্রী, পাল্টা জবাব দেবকে

২২ ঘণ্টা আগে | শোবিজ

নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব
নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব

৯ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত: বিবিসি
নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত: বিবিসি

২৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

নবজাতককে ফেলে পালালেন মা, বিপাকে বাবা
নবজাতককে ফেলে পালালেন মা, বিপাকে বাবা

১৫ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

মাদরাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ
মাদরাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ

১৭ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

আমেরিকার ৯০০ স্থানে বিক্ষোভের ডাক
আমেরিকার ৯০০ স্থানে বিক্ষোভের ডাক

১৪ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ভারতের মতো বাকিদেরও একই পরিণতি হবে, মার্কিন সিনেটরের কড়া হুঁশিয়ারি
ভারতের মতো বাকিদেরও একই পরিণতি হবে, মার্কিন সিনেটরের কড়া হুঁশিয়ারি

২০ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে
সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে

২৩ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ইসরায়েলি হামলায় হুথি প্রধানমন্ত্রী নিহত, দাবি রিপোর্টে
ইসরায়েলি হামলায় হুথি প্রধানমন্ত্রী নিহত, দাবি রিপোর্টে

২০ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

শুটিং সেটে আয়ুষ্মান-সারার ঝগড়া, মারামারিতে জড়ালেন কলাকুশলীরাও
শুটিং সেটে আয়ুষ্মান-সারার ঝগড়া, মারামারিতে জড়ালেন কলাকুশলীরাও

২২ ঘণ্টা আগে | শোবিজ

দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য
দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য

৯ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ইরানের পাল হামলায় ইসরায়েলের বহু-বিলিয়ন শেকেল ক্ষতি
ইরানের পাল হামলায় ইসরায়েলের বহু-বিলিয়ন শেকেল ক্ষতি

১৬ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ইরানের হয়ে ইউরোপকে চীন-রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
ইরানের হয়ে ইউরোপকে চীন-রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

১৭ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

অবসরে যাচ্ছেন মেসি?
অবসরে যাচ্ছেন মেসি?

১৯ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রিশাদ-সাইফুদ্দিন
হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রিশাদ-সাইফুদ্দিন

১৬ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ
শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ

৯ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

ফ্রান্স থেকে ১২৮ বছর পর ফেরত আসছে মাদাগাস্কারের রাজার দেহাবশেষ
ফ্রান্স থেকে ১২৮ বছর পর ফেরত আসছে মাদাগাস্কারের রাজার দেহাবশেষ

১৮ ঘণ্টা আগে | পাঁচফোড়ন

নুরুল হক নুর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি
নুরুল হক নুর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি

৯ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

‘কোনোভাবেই’ মার্কিন সৈন্যরা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করতে পারে না : মাদুরো
‘কোনোভাবেই’ মার্কিন সৈন্যরা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করতে পারে না : মাদুরো

১৮ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

বগুড়ায় হানি ট্র্যাপ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার
বগুড়ায় হানি ট্র্যাপ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

২৩ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

ইসলাম ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ: আরএসএস প্রধান
ইসলাম ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ: আরএসএস প্রধান

২৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

রাশিয়া থেকে তেল আমদানি আরও বাড়াচ্ছে ভারত
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি আরও বাড়াচ্ছে ভারত

২১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে : জয়নুল আবদিন ফারুক
ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে : জয়নুল আবদিন ফারুক

১৯ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক, পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে ব্রাজিল
যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক, পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে ব্রাজিল

২৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ভারত চ্যাম্পিয়ন, সাফ শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের
ভারত চ্যাম্পিয়ন, সাফ শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

১৪ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি আওতার বাইরে যারা
ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি আওতার বাইরে যারা

১৫ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে : মির্জা ফখরুল
নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে : মির্জা ফখরুল

২১ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

প্রিন্ট সর্বাধিক
জাতীয় পার্টি-গণঅধিকার পরিষদ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র
জাতীয় পার্টি-গণঅধিকার পরিষদ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র

প্রথম পৃষ্ঠা

কোকেন বাণিজ্যে রাঘববোয়াল
কোকেন বাণিজ্যে রাঘববোয়াল

প্রথম পৃষ্ঠা

শিক্ষার্থী পাচ্ছে না দুর্বল মেডিকেল কলেজ
শিক্ষার্থী পাচ্ছে না দুর্বল মেডিকেল কলেজ

পেছনের পৃষ্ঠা

দিনাজপুরে বিদেশি ফল চাষে সফলতা
দিনাজপুরে বিদেশি ফল চাষে সফলতা

পেছনের পৃষ্ঠা

আজকের ভাগ্যচক্র
আজকের ভাগ্যচক্র

আজকের রাশি

রোহিঙ্গা বাড়ছে ব্যাপকহারে
রোহিঙ্গা বাড়ছে ব্যাপকহারে

পেছনের পৃষ্ঠা

বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই
বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই

প্রথম পৃষ্ঠা

মরুর দুম্বা বাংলাদেশে পালন
মরুর দুম্বা বাংলাদেশে পালন

শনিবারের সকাল

বিএনপির দুই নেতা মনোনয়ন দৌড়ে, জামায়াতের চূড়ান্ত
বিএনপির দুই নেতা মনোনয়ন দৌড়ে, জামায়াতের চূড়ান্ত

নগর জীবন

বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে লড়বেন জেলা আমির
বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে লড়বেন জেলা আমির

নগর জীবন

পানির সংকটে ৫ লাখ মানুষ
পানির সংকটে ৫ লাখ মানুষ

নগর জীবন

সবজি থেকে মাছ সবই নাগালের বাইরে
সবজি থেকে মাছ সবই নাগালের বাইরে

নগর জীবন

চলচ্চিত্রের সাদা কালো যুগ : গানেই হিট ছবি
চলচ্চিত্রের সাদা কালো যুগ : গানেই হিট ছবি

শোবিজ

মোবাইলকাণ্ডে বরখাস্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
মোবাইলকাণ্ডে বরখাস্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

প্রথম পৃষ্ঠা

অনেক প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের
অনেক প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের

প্রথম পৃষ্ঠা

ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্যের মার্কেটে বাংলাদেশ
ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্যের মার্কেটে বাংলাদেশ

পেছনের পৃষ্ঠা

জেলে থেকে ফেসবুকে নির্বাচনি প্রচার!
জেলে থেকে ফেসবুকে নির্বাচনি প্রচার!

পেছনের পৃষ্ঠা

শিল্পীর তুলিতে ঢাকার ঐতিহ্য
শিল্পীর তুলিতে ঢাকার ঐতিহ্য

পেছনের পৃষ্ঠা

নেদারল্যান্ডসকে ছোট করে দেখছেন না সিমন্স
নেদারল্যান্ডসকে ছোট করে দেখছেন না সিমন্স

মাঠে ময়দানে

থামছেই না নারী পাচার
থামছেই না নারী পাচার

পেছনের পৃষ্ঠা

হানি ট্র্যাপে ফেলে চাঁদা দাবি, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৭
হানি ট্র্যাপে ফেলে চাঁদা দাবি, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৭

পেছনের পৃষ্ঠা

১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাজ্য
১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাজ্য

প্রথম পৃষ্ঠা

বিএনপির দুই নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপির দুই নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রথম পৃষ্ঠা

আজ চালু হচ্ছে সাত ইন্টারসেকশন
আজ চালু হচ্ছে সাত ইন্টারসেকশন

পেছনের পৃষ্ঠা

ফেনীতে লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্ক
ফেনীতে লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্ক

পেছনের পৃষ্ঠা

ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে পারবে দক্ষিণবঙ্গের বাস
ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে পারবে দক্ষিণবঙ্গের বাস

পেছনের পৃষ্ঠা

প্রতিরোধে সোচ্চার সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ফাঁসি
প্রতিরোধে সোচ্চার সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ফাঁসি

প্রথম পৃষ্ঠা

কনটেইনারজট কমাতে নিলামের নির্দেশ
কনটেইনারজট কমাতে নিলামের নির্দেশ

পেছনের পৃষ্ঠা

খারাপ মানুষকে সংসদে পাঠাবেন না
খারাপ মানুষকে সংসদে পাঠাবেন না

প্রথম পৃষ্ঠা

নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ

সম্পাদকীয়