শিরোনাম
প্রকাশ: ১১:০৮, শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

মন্ত্রীর চোখ যখন টাকার ঝুড়িতে

সৈয়দ বোরহান কবীর
অনলাইন ভার্সন
মন্ত্রীর চোখ যখন টাকার ঝুড়িতে

আপনার সামনে যদি কেউ টাকার ঝুড়ি নিয়ে আসে আপনি কী করবেন? সপ্তাহজুড়ে এ প্রশ্নটা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। বিভিন্ন জনকে প্রশ্নটা করলাম। প্রথমেই জিজ্ঞেস করলাম সহধর্মিণীকে। কোনো চিন্তাভাবনা না করে সরাসরি জানিয়ে দিলেন ‘জীবনেও নেব না’। একজন সফল ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি চায়ের কাপে আলতো চুমুক দিয়ে মৃদু হাসলেন। বললেন, ‘পৃথিবীতে কেউ কোনো কারণ ছাড়া টাকার ঝুড়ি দেবে না। কেউ যদি টাকার ঝুড়ি সামনে নিয়ে আসে বুঝতে হবে তার বড় কোনো মতলব আছে। প্রথমে তার মতলব বোঝার চেষ্টা করব তারপর টাকার বস্তা তাকে ফিরিয়ে দেব।’ আমার গ্রামের এক আত্মীয় মাঝেমধ্যেই ফোন করেন। খোঁজখবর নেন। আমার মাথায় যখন এ টাকার ঝুড়ি প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে তখন তিনি এক বিকালে ফোন করলেন। কুশলাদি জিজ্ঞেসের আগেই তাকে আচমকা প্রশ্নটা করলাম। তিনি আকস্মিকভাবে আর্তনাদ করে উঠলেন। বললেন, ‘না বাবা! জমি আমি বেচব না। আমার গ্রামে যারা জমি কেনে তারা এমন টাকার ঝোলা নিয়ে ঘোরে।’ আমার তো আক্কেলগুড়ুম! একজন রাজনৈতিক নেতা বন্ধুর মতো। প্রায়ই তার সঙ্গে দেশের রাজনীতির আবহাওয়া নিয়ে আড্ডা হয়। তাকে একই প্রশ্ন করলাম। তিনি জিবে কামড় নিয়ে বললেন, ‘ভাই! এবার মনোনয়ন বাণিজ্য হবে না। নমিনেশন এবার নেত্রী নিজে দেবেন। টাকার বস্তা কেন ট্রাকভর্তি টাকা দিলেও লাভ হবে না।’ আমি বিরক্ত এবং আশ্চর্য হলাম। বললাম টাকার সঙ্গে মনোনয়নের সম্পর্ক কী? এবার তিনি আমাকে ভেংচি কেটে বললেন, ‘এত কিছু লেখেন এটা বোঝেন না! নমিনেশন পাওয়ার চেষ্টা ছাড়া কেউ কাউকে টাকার ঝুড়ি দেয়?’ একজন রিকশাচালককে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি রীতিমতো আঁতকে উঠলেন। বললেন, ‘কন কী স্যার! ফাঁসাইয়া দিব। পুলিশ বাইন্দা নিয়া যাইব।’ একজন মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি যেন ভূত দেখলেন। বললেন, ‘ভাই! ভুলেও এসব কথা বলবেন না। দেয়ালেরও কান আছে।’ যে কজনের সঙ্গে কথা বললাম তারা কেউ আচমকা এভাবে টাকার ঝুড়ি নিতে রাজি নন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে টাকার ঝুড়ির আড়ালে আসলে স্বার্থ হাসিলের ফাঁদ আছে। সবাই ভাবনা ছাড়াই ঝটপট উত্তর দিয়ে দিয়েছেন। তাহলে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এত ভাবনা কেন? ভরা মজলিসে কেন তিনি জানতে চাইলেন সামনে টাকার ঝুড়ি, তিনি কী করবেন? কেন সবকিছু বাদ দিয়ে টাকার ঝুড়িতেই মন্ত্রীর চোখ গেল? ঘটনাটি শনিবারের। সেদিন জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল নিরাপত্তা সম্মেলন। তিন দিনব্যাপী ওই সম্মেলনে শনিবার রাতে প্যানেল আলোচনার বিষয় ছিল ‘ইন্দো-প্যাসিফিকে আঞ্চলিক ব্যবস্থা ও নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন’। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের এশিয়া প্যাসিফিক-বিষয়ক সিনিয়র ফেলনিন কিউক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর ইউরোপ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতাবিষয়ক সাবকমিটির চেয়ারপারসন জিনি শাহিন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্কর, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরিস পেইন ও জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হায়াশি ইয়োশিমাখা। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন প্যানেলের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন। ইংরেজিতে করা এ প্রশ্নের বাংলা অনুবাদ করলে এ রকম দাঁড়ায়- ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ভালো করছে। দেশের মানুষের আশা-আকাক্সক্ষাও বেড়ে গেছে। তারা আরও উন্নত জীবন এবং সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো চায়। কিন্তু বাংলাদেশের যথেষ্ট টাকা ও প্রযুক্তি নেই।’ অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা এবং ঋণের জন্য জাপান ও ভারতকে ধন্যবাদ জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আরও তহবিল প্রয়োজন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক তারা অনেক জটিলতা নিয়ে আসে এবং এটি গ্রহণ করা আমাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে যায়।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিকল্প হিসেবে টাকার ঝুড়ি নিয়ে এগিয়ে এসেছে চীন। তারা আগ্রাসী ও সাশ্রয়ী প্রস্তাব নিয়ে এসেছে। এখন বিষয় হলো আমরা কী করব।’

কূটনীতি সম্পর্কে প্রয়াত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার এক মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘একজন কূটনীতিকের একটি শব্দ একটি আগ্নেয়াস্ত্রের সমান। তাই প্রতিটি শব্দ চয়নের উদ্দেশ্য এবং অন্তর্নিহিত তাৎপর্য উপলব্ধি করেই উচ্চারণ করতে হবে।’ আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য হেনরি কিসিঞ্জারের মতবাদ বিশ্বাস করেন না। তিনি সবকিছু বলেন, খুললাম খুললাম। কূটনীতির ভাষা-পরিভাষার বদলে তিনি তাঁর নিজস্ব স্টাইল চালু করেছেন। একবার তিনি বললেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর মতো’। ড. মোমেনের বক্তব্য শুনে ক্ষমতাসীন দলেরই কেউ কেউ লজ্জায় মুখ লুকালেন। কেউ জিব কাটলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে কিছুদিন বেশ ট্রল হলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন বাংলাদেশকে গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাল না তখন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন এটা নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ঢং। এরপর গণতন্ত্র সম্মেলনে দাওয়াত না পাওয়ার এক অদ্ভুত ব্যাখ্যা দিলেন। জানালেন, অপেক্ষাকৃত দুর্বল গণতন্ত্রের দেশগুলোকেই গণতন্ত্র সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন, সে দেশের প্রধান কূটনীতিক। তার প্রতিটি শব্দের মূল্য অপরিসীম। কিন্তু আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শব্দকে মূল্যহীন করেছেন। কিসিঞ্জারের ভাষ্য অনুযায়ী একজন কূটনীতিকের একটি শব্দ যদি আগ্নেয়াস্ত্রের মতো হয় তাহলে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের মতো। একবার নয়, বারবার তিনি এ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেই চলেছেন। এতে দেশের কি আদৌ কল্যাণ হচ্ছে?

চীন এখন বিশ্বে অর্থনৈতিক পরাশক্তি। এ শক্তির আড়ালে তার রাজনৈতিক অভিপ্রায় ইদানীং প্রায়ই প্রকাশিত হয়। দেশে দেশে চীনা বিনিয়োগ এখন বিশ্ববাস্তবতা। চীন যে টাকার ঝুড়ি নিয়ে ঘুরছে এ কোনো নতুন তথ্য নয়। বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় চীন যে অবদান রাখছে তা-ও কোনো গবেষণার বিষয় নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, চীনের আগ্রাসী ও সাশ্রয়ী প্রস্তাব আমরা কতটা নেব। আমার কি সামনে টাকা আছে, এজন্য খুশিতে বাকবাকুম করে যথেচ্ছ খরচ করব, ঋণের ভারে দেশকে জর্জরিত করব? নাকি টেকসই উন্নয়ন নীতি গ্রহণ করব? জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু আমাদের কূটনীতির মৌলিক বৈশিষ্ট্যকে একটি বাক্যে সন্নিবেশিত করেছেন- ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।’ যখনই এ চিন্তার ব্যতিক্রম হয়েছে তখনই বাংলাদেশ পথভ্রষ্ট হয়েছে। সস্তা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য জিয়ার ‘ভারতবিদ্বেষ’ নীতিতে বাংলাদেশের লাভ হয়নি। বরং ভারতবিদ্বেষের আড়ালে এ দেশে ধর্মান্ধ, মৌলবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আবাদ হয়েছে। জিয়ার পথ ধরে এরশাদও বাংলাদেশে জনগণের জন্য সুখবর আনতে পারেননি। বেগম জিয়ার শাসনামলে ভুল বিদেশনীতি বিশে^ বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের তকমা লাগিয়েছিল। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের উত্থানে বাংলাদেশের জনগণকে সন্দেহের খাতায় নাম লিখিয়েছিল। যে জায়গা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটিয়েছেন শেখ হাসিনা। গত ১৩ বছরে বিশে^ বাংলাদেশ আলাদা এক মর্যাদার আসন পেয়েছে। বাংলাদেশি পাসপোর্ট-ধারীদের এখন আর অন্য চোখে দেখা হয় না। বাংলাদেশ একাধারে চীন ও ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে এগিয়ে গেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক রেখেও ফিলিস্তিন প্রশ্নে সোচ্চার থেকেছে। মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশে^ মানবিকতার নতুন বিজ্ঞাপন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিন্তু গত দুই বছরে বাংলাদেশের কূটনীতি যেন দিগ্ভ্রষ্ট। আমরা যেন লক্ষ্যচ্যুত। আর সে কারণেই টাকার ঝুড়ি বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর লোভাতুর প্রশ্ন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী একজন জ্ঞানীগুণী মানুষ। তিনি নিশ্চয়ই জানেন চীনের টাকার ঝুড়ির লোভ কখনো কখনো কোনো দেশের জন্য ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় আনতে পারে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন গবেষক স্যাম পার্কার ও গ্যাবরিয়েল শেফিটন লিখেছেন, ‘গত এক দশকে চীন এমন সব দেশকে শত সহস্র কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে যে দেশগুলোর তা পরিশোধের সামর্থ্য নেই।’ ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ‘যেসব দেশ বিপুল অঙ্কের চীনা ঋণ নিয়েছে চীন সেসব দেশের ওপর প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়েছে।’ যেমন ধরা যাক শ্রীলঙ্কার কথা। ঋণ শোধে অক্ষমতার কারণে শ্রীলঙ্কা সরকার হ্যামবানটোটা পোর্ট ৯৯ বছরের জন্য চীনকে ইজারা দিতে বাধ্য হয়েছে। শ্রীলঙ্কা এখন দেউলিয়াপ্রায়। বাংলাদেশ রিজার্ভ থেকে শ্রীলঙ্কাকে ধার দিয়েছে। চীনের টাকার ঝুড়ির লোভে মালদ্বীপও এখন ধুঁকছে। ২০১৭ সালে জিবুতির ঋণের বোঝা তার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) শতভাগের কাছাকাছি পৌঁছায়। এর ফলে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে দেশটিতে চীনা নৌঘাঁটি স্থাপনের সম্মতি দেয় সে দেশের সরকার। এ রকম বহু উদাহরণ আছে। কাজেই আমাদের উন্নয়ন কৌশলে চীনমুখী আগ্রাসী ঝোঁক কতটা মঙ্গলজনক তা ভাবার সময় এসেছে। চীন যখন টাকার বস্তা নিয়ে এগিয়ে আসে বুঝতে হবে এর পেছনে নিশ্চয়ই চীনের স্বার্থ জড়িয়ে আছে এবং এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই স্বার্থ আমাদের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না তা পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা করাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজ। বাংলাদেশের উন্নয়ন দরকার। কিন্তু দেশের স্বার্থ বিকিয়ে নয়। বাংলাদেশের অবকাঠামো দরকার। কিন্তু তা আত্মমর্যাদা বিকিয়ে নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় দেশের স্বার্থ অগ্রাধিকার দেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনাকে গ্যাস বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই একাধিক বক্তৃতায় এ তথ্য প্রকাশ করেছিলেন। শেখ হাসিনা এও বলেছিলেন, ‘গ্যাস বিক্রি করতে রাজি হইনি বলেই নির্বাচনে জিততে পারিনি।’ বঙ্গবন্ধুকন্যা ক্ষমতায় যাওয়ার চেয়ে দেশের স্বার্থ প্রাধান্য দিয়েছিলেন। এতে সাময়িকভাবে তিনি হয়তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তিনিই উজ্জ্বল হয়েছেন। উদ্ভাসিত হয়েছেন। যে প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বার্থ প্রাধান্য দেন সবার ওপরে তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি আন্তর্জাতিক ফোরামে এ রকম প্রশ্ন করেন কীভাবে? বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের মন্তব্যটি বিচক্ষণ, বুদ্ধিদীপ্ত ও বাস্তবসম্মত। তিনি বলেছেন, ‘কোন দেশ কার কাছ থেকে বিনিয়োগ নেবে তা দেশের স্বার্থেই বিবেচনা করা উচিত। শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগ গ্রহণকারী দেশ কী পাচ্ছে তা জেনে শুনেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ আমি জানি না ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দার্শনিক উপদেশের পর ড. মোমেনের টাকার ঝুড়ির মোহভঙ্গ হয়েছে কি না। নাকি তিনি জড়বাদী চার্বাক দর্শনে বিশ্বাসী। চার্বাক দর্শন বলে, ‘ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ, যাবৎ জীবেৎ সুখং জীবেৎ’। অর্থাৎ ‘ঋণ করে হলেও ঘি খাও, যত দিন বাঁচ সুখে বাঁচ’। কিন্তু ঋণের পরিণাম যে ব্যক্তি এবং রাষ্ট্রের জন্যও ভয়ংকর পরিণতি বয়ে আনতে পারে তার উদাহরণ চারপাশে তাকালেই দেখা যায়। ব্যক্তির ঋণের বোঝা বইতে হয় তার উত্তরাধিকারদের। রাষ্ট্রের ঋণের বোঝা বইতে হয় জনগণকে, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে। আমাদের উন্নয়ন, অগ্রযাত্রা, অবকাঠামো উন্নয়ন ইত্যাদি সবই দরকার। কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে আমরা যেন ঋণের ফাঁদে না পড়ি। যেমন পড়েছে পাকিস্তান। ২০২০-২১ সালে ঋণ গ্রহণে নতুন রেকর্ড গড়েছে পাকিস্তানের ইমরান খান সরকার। পাকিস্তানের ওপর এখন ৮৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণের বোঝা। এক অর্থবছরেই (২০২০-২১) ইমরান খান সরকার ১৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে। ২০১৮ সালে পাকিস্তানি মুদ্রার বিপরীতে ডলার ছিল ১২৩ টাকা ডিসেম্বরে তা হয়েছে ১৭৭ টাকা। অর্থনীতিতে দেউলিয়া প্রায় পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের সঙ্গে সখ্য গড়তে মরিয়া। ’৭১-এর ক্ষত ভুলিয়ে দিতে ইমরান খানের কত না আয়োজন। আমাদেরও মনে রাখতে হবে উন্নয়নের রঙিন স্বপ্ন পূরণে আমাদের আগামী প্রজন্ম যেন দেউলিয়া না হয়ে যায়। ঋণ করে অট্টালিকা বানানোর চিন্তা কখনই জাতির পিতার রাষ্ট্রদর্শনে ছিল না। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন স্বনির্ভর, আত্মমর্যাদাশীল এক সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে। জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘আমাদের যদি কেউ কিনতে চান ভুল হবে। কেউ যদি সাহায্যের নামে আমাদের দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তবে ভুল হবে। আমরা শোষিত মানুষ। বহু ত্যাগ করেছি। বহু রক্ত দিয়েছি। দরকার হয় আরও দেব। কিন্তু আত্মসম্মান বিক্রি করে আমরা কারও কাছে সাহায্য চাই না।’ তাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মিউনিখের বক্তব্য জাতির পিতার রাষ্ট্রচিন্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা বেড়ে গেছে এজন্য সবকিছু জলাঞ্জলি দিয়ে আমাদের টাকার বস্তার জন্য হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে এমন ভাবনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। বরং আমরা আমাদের সম্পদগুলো বিকশিত করব, সব ক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়াব, রপ্তানি বাড়াব, তা দিয়ে উন্নত হব- এটাই স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা। মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের কথা না হয় বাদই দিলাম। একজন মানুষ আয়-উপার্জনে উন্নতি করছেন। তার আকাক্সক্ষা হলো বিলাসবহুল বাড়ি বানাবেন, দামি গাড়িতে চড়বেন, ছেলেমেয়েদের বিদেশে পড়াবেন। এজন্য তিনি কী করবেন? আরও কষ্ট করে উপার্জন বাড়াবেন, অপচয়ের খাতগুলো বন্ধ করবেন নাকি ঋণ করবেন? একজন ব্যক্তির জন্য যেমন এ প্রশ্নের উত্তর জরুরি, তেমনি রাষ্ট্রের জন্যও এ প্রশ্নের উত্তর জরুরি।
একজন ব্যক্তির যেমন একটি নীতি ও আদর্শ থাকে। নিজের বিলাসিতা বা উন্নত জীবনের জন্য তিনি যদি নীতি ও আদর্শ বিলিয়ে দেন তাহলে তার আর মর্যাদা থাকে না। তেমনি একটি রাষ্ট্রও কিছু মৌলিক নীতি ও আদর্শের ওপর দাঁড়ায়। সে আদর্শ ও নীতি বিসর্জন দিলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

বাংলাদেশ গত এক যুগে যেমন বিস্ময়কর উন্নতি করেছে, তেমনি অনেক দেশের ঈর্ষার কারণও হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অগ্রযাত্রায় বিশে^র সব দেশ খুশি এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। তা ছাড়া বিশে^ এখন স্নায়ুযুদ্ধের নতুন মেরুকরণ চলছে। নতুন করে বিভক্তি এবং উত্তাপের আঁচ আজ টের পাওয়া যায়। এ অবস্থায় বাংলাদেশের উন্নয়ন টেকসই করতে টালমাটাল বৈশি^ক রাজনীতিতে আমাদের অত্যন্ত সজাগ থাকতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে। আমরা যেন কোনো শিবিরের ব্র্যাকেটবন্দি না হই। কোনো দেশের ‘একান্ত বাধ্যগত’ না হই তা বিবেচনায় রাখতে হবে। উন্নয়নের অংশীদার হয়ে কোনো দেশ যেন নব্য কাবুলিওয়ালা হয়ে আমাদের ঘাড়ে না চাপে সেটাই এখন কূটনীতির চ্যালেঞ্জ। উন্নয়নের বেপরোয়া উন্মাদনা যেন আমাদের আত্মমর্যাদা কেড়ে না নেয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে সবার আগে। টাকার বস্তা দেখলেই আমরা যেন খুশিতে আত্মহারা না হই, বরং বস্তার পেছনের উদ্দেশ্যের অবয়বটা বোঝার চেষ্টা করি।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক, পরিপ্রেক্ষিত।

 

বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ

এই বিভাগের আরও খবর
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
পুরুষতান্ত্রিকতায় দুর্বিষহ নারীজীবন
পুরুষতান্ত্রিকতায় দুর্বিষহ নারীজীবন
নির্বাচন হবে কী হবে না
নির্বাচন হবে কী হবে না
বৈষম্য থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না
বৈষম্য থাকলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয় না
অপশক্তি রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে
অপশক্তি রুখতে হবে যে কোনো মূল্যে
ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যম, বর্তমান অবস্থা : জনগণের প্রত্যাশা
ফ্যাসিস্ট আমলে গণমাধ্যম, বর্তমান অবস্থা : জনগণের প্রত্যাশা
রমরমা মাদক কারবার তারুণ্যের মহাসর্বনাশ
রমরমা মাদক কারবার তারুণ্যের মহাসর্বনাশ
বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক সমালোচনা
বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক সমালোচনা
নির্বাচন হোক সংশয়মুক্ত
নির্বাচন হোক সংশয়মুক্ত
সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের খোলা চিঠি
সাংবাদিক বিভুরঞ্জনের খোলা চিঠি
এক বছরে কতটা এগোল বাংলাদেশ?
এক বছরে কতটা এগোল বাংলাদেশ?
ক্ষমতার বৈপ্লবিক রূপান্তর ভিন্ন মুক্তি নেই
ক্ষমতার বৈপ্লবিক রূপান্তর ভিন্ন মুক্তি নেই
সর্বশেষ খবর
খাগড়াছড়িতে সন্তানকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে মা আটক
খাগড়াছড়িতে সন্তানকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে মা আটক

৩ সেকেন্ড আগে | দেশগ্রাম

ঢাকার বাতাসে মাঝারি দূষণ, শীর্ষে কামপালা
ঢাকার বাতাসে মাঝারি দূষণ, শীর্ষে কামপালা

৪ মিনিট আগে | নগর জীবন

ইসরায়েলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও বন্দর নিষিদ্ধ করল তুরস্ক
ইসরায়েলের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও বন্দর নিষিদ্ধ করল তুরস্ক

১৩ মিনিট আগে | পূর্ব-পশ্চিম

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার

১৪ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ৪ বাসের সংঘর্ষে আহত ২০
ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ৪ বাসের সংঘর্ষে আহত ২০

৩১ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার মুখে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট
মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার মুখে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট

৩১ মিনিট আগে | পূর্ব-পশ্চিম

রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফেরার ইঙ্গিত কঙ্গনার
রাজনীতি ছেড়ে অভিনয়ে ফেরার ইঙ্গিত কঙ্গনার

৫০ মিনিট আগে | শোবিজ

খাদ্য সামগ্রীসহ ৭ পাচারকারী গ্রেফতার
খাদ্য সামগ্রীসহ ৭ পাচারকারী গ্রেফতার

৫৪ মিনিট আগে | দেশগ্রাম

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলল ৩২ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

আল নাসরের জয়ের ম্যাচে নতুন উচ্চতায় রোনালদো
আল নাসরের জয়ের ম্যাচে নতুন উচ্চতায় রোনালদো

১ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

শেরপুরে বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মত্যু
শেরপুরে বিলের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মত্যু

১ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

কিশোর গ্যাং ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই
কিশোর গ্যাং ঠেকানোর কার্যকর উদ্যোগ নেই

১ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, আটক ২
পুলিশের পোশাক পরে ডাকাতি, আটক ২

২ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

টেকসই অর্থনীতি গড়তে হলে ক্ষমতার পুনর্বণ্টন জরুরি
টেকসই অর্থনীতি গড়তে হলে ক্ষমতার পুনর্বণ্টন জরুরি

২ ঘণ্টা আগে | অর্থনীতি

নুরের ওপর হামলার ঘটনায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা
নুরের ওপর হামলার ঘটনায় মির্জা ফখরুলের নিন্দা

২ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

জাবিতে এখনো হলে হলে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা, জাকসুর সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা
জাবিতে এখনো হলে হলে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা, জাকসুর সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা

২ ঘণ্টা আগে | ক্যাম্পাস

ইংল্যান্ড সফরের অনূর্ধ্ব–১৯ দল ঘোষণা
ইংল্যান্ড সফরের অনূর্ধ্ব–১৯ দল ঘোষণা

২ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

বাফার জোনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি
বাফার জোনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন জেলেনস্কি

২ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স
খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স

২ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

আফগানিস্তানকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা পাকিস্তানের
আফগানিস্তানকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভ সূচনা পাকিস্তানের

৩ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পদ্ধতি
মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পদ্ধতি

৩ ঘণ্টা আগে | ইসলামী জীবন

গাজা থেকে ২ জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের
গাজা থেকে ২ জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের

৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ইসলামী বিধানে সহজীকরণ নীতি ও নজির
ইসলামী বিধানে সহজীকরণ নীতি ও নজির

৩ ঘণ্টা আগে | ইসলামী জীবন

একনজরে আজকের বাংলাদেশ প্রতিদিন (৩০ আগস্ট)
একনজরে আজকের বাংলাদেশ প্রতিদিন (৩০ আগস্ট)

৩ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

কমলা হ্যারিসের নিরাপত্তা সুবিধা বাতিল করলেন ট্রাম্প
কমলা হ্যারিসের নিরাপত্তা সুবিধা বাতিল করলেন ট্রাম্প

৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

পাঁচ বছরে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে: রেড ক্রস
পাঁচ বছরে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে: রেড ক্রস

৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে হাঁটুন
সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে হাঁটুন

৫ ঘণ্টা আগে | জীবন ধারা

শেষ ওভারে মাদুশঙ্কার হ্যাটট্রিকে শ্রীলঙ্কার নাটকীয় জয়
শেষ ওভারে মাদুশঙ্কার হ্যাটট্রিকে শ্রীলঙ্কার নাটকীয় জয়

৫ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

ফেসবুকে বিরক্তিকর ফ্রেন্ড সাজেশন বন্ধ করবেন যেভাবে
ফেসবুকে বিরক্তিকর ফ্রেন্ড সাজেশন বন্ধ করবেন যেভাবে

৬ ঘণ্টা আগে | টেক ওয়ার্ল্ড

সিরাজগঞ্জে দুই নৌকার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫
সিরাজগঞ্জে দুই নৌকার সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫

৭ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

সর্বাধিক পঠিত
রাকসু ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান
রাকসু ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান

১২ ঘণ্টা আগে | ক্যাম্পাস

জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

১৩ ঘণ্টা আগে | নগর জীবন

‘জামায়াতের সঙ্গে ড. ইউনূসের রাতের যোগাযোগ আছে, প্র্যাক্টিক্যালি তারাই দেশ চালাচ্ছে’
‘জামায়াতের সঙ্গে ড. ইউনূসের রাতের যোগাযোগ আছে, প্র্যাক্টিক্যালি তারাই দেশ চালাচ্ছে’

১৭ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

‘দুই বাচ্চার মা’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ শুভশ্রী, পাল্টা জবাব দেবকে
‘দুই বাচ্চার মা’ মন্তব্যে ক্ষুব্ধ শুভশ্রী, পাল্টা জবাব দেবকে

২২ ঘণ্টা আগে | শোবিজ

নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব
নুরের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত করা হবে : প্রেস সচিব

৯ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত: বিবিসি
নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ভারত: বিবিসি

২৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

নবজাতককে ফেলে পালালেন মা, বিপাকে বাবা
নবজাতককে ফেলে পালালেন মা, বিপাকে বাবা

১৫ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

মাদরাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ
মাদরাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা, না মানলে এমপিও বন্ধ

১৭ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

আমেরিকার ৯০০ স্থানে বিক্ষোভের ডাক
আমেরিকার ৯০০ স্থানে বিক্ষোভের ডাক

১৪ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ভারতের মতো বাকিদেরও একই পরিণতি হবে, মার্কিন সিনেটরের কড়া হুঁশিয়ারি
ভারতের মতো বাকিদেরও একই পরিণতি হবে, মার্কিন সিনেটরের কড়া হুঁশিয়ারি

২০ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে
সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন কারাগারে

২৩ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ইসরায়েলি হামলায় হুথি প্রধানমন্ত্রী নিহত, দাবি রিপোর্টে
ইসরায়েলি হামলায় হুথি প্রধানমন্ত্রী নিহত, দাবি রিপোর্টে

২০ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

শুটিং সেটে আয়ুষ্মান-সারার ঝগড়া, মারামারিতে জড়ালেন কলাকুশলীরাও
শুটিং সেটে আয়ুষ্মান-সারার ঝগড়া, মারামারিতে জড়ালেন কলাকুশলীরাও

২২ ঘণ্টা আগে | শোবিজ

দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য
দুটি রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে আইএসপিআরের বক্তব্য

৯ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

ইরানের পাল হামলায় ইসরায়েলের বহু-বিলিয়ন শেকেল ক্ষতি
ইরানের পাল হামলায় ইসরায়েলের বহু-বিলিয়ন শেকেল ক্ষতি

১৬ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ইরানের হয়ে ইউরোপকে চীন-রাশিয়ার হুঁশিয়ারি
ইরানের হয়ে ইউরোপকে চীন-রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

১৭ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

অবসরে যাচ্ছেন মেসি?
অবসরে যাচ্ছেন মেসি?

১৯ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রিশাদ-সাইফুদ্দিন
হাফ-সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে রিশাদ-সাইফুদ্দিন

১৬ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ
শনিবার সারা দেশে বিক্ষোভ করবে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকায় সমাবেশ

৯ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

ফ্রান্স থেকে ১২৮ বছর পর ফেরত আসছে মাদাগাস্কারের রাজার দেহাবশেষ
ফ্রান্স থেকে ১২৮ বছর পর ফেরত আসছে মাদাগাস্কারের রাজার দেহাবশেষ

১৮ ঘণ্টা আগে | পাঁচফোড়ন

নুরুল হক নুর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি
নুরুল হক নুর ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি

৯ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

‘কোনোভাবেই’ মার্কিন সৈন্যরা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করতে পারে না : মাদুরো
‘কোনোভাবেই’ মার্কিন সৈন্যরা ভেনেজুয়েলায় আক্রমণ করতে পারে না : মাদুরো

১৮ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

বগুড়ায় হানি ট্র্যাপ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার
বগুড়ায় হানি ট্র্যাপ চক্রের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

২৩ ঘণ্টা আগে | দেশগ্রাম

ইসলাম ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ: আরএসএস প্রধান
ইসলাম ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ: আরএসএস প্রধান

২৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

রাশিয়া থেকে তেল আমদানি আরও বাড়াচ্ছে ভারত
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি আরও বাড়াচ্ছে ভারত

২১ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে : জয়নুল আবদিন ফারুক
ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে : জয়নুল আবদিন ফারুক

১৯ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক, পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে ব্রাজিল
যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক, পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে ব্রাজিল

২৩ ঘণ্টা আগে | পূর্ব-পশ্চিম

ভারত চ্যাম্পিয়ন, সাফ শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের
ভারত চ্যাম্পিয়ন, সাফ শিরোপা স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের

১৪ ঘণ্টা আগে | মাঠে ময়দানে

ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি আওতার বাইরে যারা
ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি আওতার বাইরে যারা

১৫ ঘণ্টা আগে | জাতীয়

নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে : মির্জা ফখরুল
নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে : মির্জা ফখরুল

২১ ঘণ্টা আগে | রাজনীতি

প্রিন্ট সর্বাধিক
জাতীয় পার্টি-গণঅধিকার পরিষদ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র
জাতীয় পার্টি-গণঅধিকার পরিষদ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র

প্রথম পৃষ্ঠা

কোকেন বাণিজ্যে রাঘববোয়াল
কোকেন বাণিজ্যে রাঘববোয়াল

প্রথম পৃষ্ঠা

শিক্ষার্থী পাচ্ছে না দুর্বল মেডিকেল কলেজ
শিক্ষার্থী পাচ্ছে না দুর্বল মেডিকেল কলেজ

পেছনের পৃষ্ঠা

দিনাজপুরে বিদেশি ফল চাষে সফলতা
দিনাজপুরে বিদেশি ফল চাষে সফলতা

পেছনের পৃষ্ঠা

আজকের ভাগ্যচক্র
আজকের ভাগ্যচক্র

আজকের রাশি

রোহিঙ্গা বাড়ছে ব্যাপকহারে
রোহিঙ্গা বাড়ছে ব্যাপকহারে

পেছনের পৃষ্ঠা

বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই
বিদেশে ছাপা হবে ৬০০ কোটি টাকার পাঠ্যবই

প্রথম পৃষ্ঠা

মরুর দুম্বা বাংলাদেশে পালন
মরুর দুম্বা বাংলাদেশে পালন

শনিবারের সকাল

বিএনপির দুই নেতা মনোনয়ন দৌড়ে, জামায়াতের চূড়ান্ত
বিএনপির দুই নেতা মনোনয়ন দৌড়ে, জামায়াতের চূড়ান্ত

নগর জীবন

বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে লড়বেন জেলা আমির
বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে লড়বেন জেলা আমির

নগর জীবন

পানির সংকটে ৫ লাখ মানুষ
পানির সংকটে ৫ লাখ মানুষ

নগর জীবন

সবজি থেকে মাছ সবই নাগালের বাইরে
সবজি থেকে মাছ সবই নাগালের বাইরে

নগর জীবন

চলচ্চিত্রের সাদা কালো যুগ : গানেই হিট ছবি
চলচ্চিত্রের সাদা কালো যুগ : গানেই হিট ছবি

শোবিজ

মোবাইলকাণ্ডে বরখাস্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
মোবাইলকাণ্ডে বরখাস্ত থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

প্রথম পৃষ্ঠা

অনেক প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের
অনেক প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের

প্রথম পৃষ্ঠা

ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্যের মার্কেটে বাংলাদেশ
ট্রিলিয়ন ডলারের হালাল পণ্যের মার্কেটে বাংলাদেশ

পেছনের পৃষ্ঠা

জেলে থেকে ফেসবুকে নির্বাচনি প্রচার!
জেলে থেকে ফেসবুকে নির্বাচনি প্রচার!

পেছনের পৃষ্ঠা

শিল্পীর তুলিতে ঢাকার ঐতিহ্য
শিল্পীর তুলিতে ঢাকার ঐতিহ্য

পেছনের পৃষ্ঠা

নেদারল্যান্ডসকে ছোট করে দেখছেন না সিমন্স
নেদারল্যান্ডসকে ছোট করে দেখছেন না সিমন্স

মাঠে ময়দানে

থামছেই না নারী পাচার
থামছেই না নারী পাচার

পেছনের পৃষ্ঠা

হানি ট্র্যাপে ফেলে চাঁদা দাবি, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৭
হানি ট্র্যাপে ফেলে চাঁদা দাবি, তিন নারীসহ গ্রেপ্তার ৭

পেছনের পৃষ্ঠা

১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাজ্য
১৫ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাল যুক্তরাজ্য

প্রথম পৃষ্ঠা

বিএনপির দুই নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা
বিএনপির দুই নেতা-কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

প্রথম পৃষ্ঠা

আজ চালু হচ্ছে সাত ইন্টারসেকশন
আজ চালু হচ্ছে সাত ইন্টারসেকশন

পেছনের পৃষ্ঠা

ফেনীতে লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্ক
ফেনীতে লোকালয়ে বাঘ, আতঙ্ক

পেছনের পৃষ্ঠা

ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে পারবে দক্ষিণবঙ্গের বাস
ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে পারবে দক্ষিণবঙ্গের বাস

পেছনের পৃষ্ঠা

প্রতিরোধে সোচ্চার সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ফাঁসি
প্রতিরোধে সোচ্চার সবাই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে ফাঁসি

প্রথম পৃষ্ঠা

কনটেইনারজট কমাতে নিলামের নির্দেশ
কনটেইনারজট কমাতে নিলামের নির্দেশ

পেছনের পৃষ্ঠা

খারাপ মানুষকে সংসদে পাঠাবেন না
খারাপ মানুষকে সংসদে পাঠাবেন না

প্রথম পৃষ্ঠা

নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ
নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৮ কোটি মানুষ

সম্পাদকীয়