শিরোনাম
প্রকাশ : ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০৩:০৯
আপডেট : ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০৯:১৬

ইসলাম বিদ্বেষের প্রতিবাদে ফ্রান্সে বিক্ষোভ সমাবেশ

অনলাইন ডেস্ক

ইসলাম বিদ্বেষের প্রতিবাদে ফ্রান্সে বিক্ষোভ সমাবেশ

ফ্রান্সে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুসলমানের বাস । সম্প্রতি ফ্রান্সের একটি মসজিদে হামলা চালিয়েছেন ৮৪ বছর বয়সী সাবেক এক ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট, এ হামলায় দু’জন আহত হয়েছিলেন। ইসলামফোবিয়া তথা ইসলামকে ঘৃণার সঙ্গে ভয় করার মানসিকতার অবসান ঘটাতে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের রাস্তায় বিক্ষোভ-মার্চ করেছেন হাজার হাজার মানুষ।

প্যারিসের ‘গ্যার দ্যূ নর্ড’ রেলস্টেশন থেকে ‘প্লেস দো লা নেশন’  চত্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ইসলামফোবিয়া বিরোধী এই মার্চে ১৩ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছে। পিউ রিসার্চের ২০১৭ সালের এক প্রতিবেদন বলছে, ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮.৮ শতাংশ মুসলমান। সংখ্যার হিসেবে তা প্রায় ৫৭ লাখ ২০ হাজার জন। ‘ইফপ’ নামের এক সংস্থার জরিপ বলছে, ফ্রান্সের ৪০ শতাংশের বেশি মুসলমান ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।

এ সময় বিক্ষোভকারীদের হাতে দেখা যায়, মুসলিম এবং হিজাব পালনকারী নারীদের সমর্থনে লিখিত রকমারি ব্যানার ও ফেস্টুন। ‘ইসলামফোবিয়া যথেষ্ট হয়েছে’, ‘আর নয় ধর্মের সমালোচনা’ ‘ফ্রেঞ্চ এবং মুসলিম, আমাদের পরিচয়ে আমরা গর্বিত’ ইত্যাদি নানা কথায় সাজানো ওই ব্যানার ও ফেস্টুন ছিল সবার হাতে হাতে। তবে প্যারিসের এই বিক্ষোভে মুসলিমদের সাথে একাত্ম হয়ে অনেক অমুসলিম ও অংশগ্রহণ করেন ।

প্যারিসের পাশাপাশি মার্সেই শহরেও একই ধরনের বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেও কয়েকশ’ মানুষ এতে অংশ নেন। লিঙ্গসমতা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মারলেন শিয়াপা বলেছেন, রবিবারের সমাবেশ ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়ার বেশে' আসলে ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ।  ফ্রান্সে ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে যে-কোনো ধর্মকে সমালোচনা করার অধিকারকেও বোঝায়।

প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পাল্টা যুক্তি হিসেবে সমাবেশে অংশ নেয়া কয়েকজন ‘ধর্মের সমালোচনার প্রতি হ্যাঁ, তবে এর বিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে ঘৃণার বিরুদ্ধে ‘না’ শীর্ষক প্ল্যাকার্ড নিয়ে এসেছিলেন। মারলেন শিয়াপা ছাড়াও ইকোলজি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এলিজাবেথ বোর্ন সমাবেশের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি একজন মানুষকে আরেকজনের বিরুদ্ধে দাঁড় করাবে ৷

সমাবেশে বামপন্থী কর্মী ও রাজনৈতিক দলের নেতারা হাজির ছিলেন। তবে অনেকেই এমন সমাবেশকে ভালোভাবে দেখছেন না। তাদের মতে, এর মাধ্যমে ফ্রান্সের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের ব্যঘাত ঘটবে। ডানপন্থী খ্রিস্টান একজন রাজনীতিবিদ বলেছেন, এই আয়োজনে জড়িতরা ইসলামপন্থী। বিক্ষাভোকারীরা ইসলামবিদ্বেষ ও বর্ণবাদ বিরোধী স্লোগান দেন এবং প্লেকার্ড বহন করেছেন।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য