১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ২১:৩০

৯/১১ এর দুই দশক, গ্রাউন্ড জিরোতে স্মরণ-সমাবেশ

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

৯/১১ এর দুই দশক, গ্রাউন্ড জিরোতে স্মরণ-সমাবেশ

সন্ত্রাসী হামলার শিকার ৬ বাংলাদেশী। (ওপর বাম থেকে) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ শাহজাহান, নুরুল হক মিয়া, আবুল কাশেম চৌধুরী, শাকিলা ইয়াসমীন এবং সাব্বির আহমেদ। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

৯/১১ এর ভয়াল সন্ত্রাসী হামলার দুই দশক পূরণ হচ্ছে ১১ সেপ্টেম্বর শনিবার। ২০০১ সালের এদিন আল ক্বায়েদার সন্ত্রাসীরা বিমান ছিনতাই করে হামলা চালিয়েছিল নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ার, পেন্টাগণ এবং পেনসিলভেনিয়ায়। ৬ বাংলাদেশীসহ ২৯৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয় ৬ হাজারের অধিক মানুষ। অবকাঠামো ও সম্পদ ধ্বংস হয় ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশী। ঐ হামলার পর পাল্টে যায় বিশ্বের চিরচেনা অবস্থা। সর্বত্র জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 

সেই হামলার পরই আফগানিস্তানে যুদ্ধে যায় যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, তালেবানের সাথে আল ক্বায়েদার সম্পর্ক রয়েছে এবং ওসামা বিন লাদেন আফগানের পর্বতে অবস্থান করেই বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস চালাতো বলে মনে করেই মার্কিন বাহিনী হামলা করে। সেই হামলার বয়স ২০ বছর হয়েছিল এ বছর। জো বাইডেন সমাপ্তি টানলেন কদিন আগে। বলা যেতে পারে, ভিয়েতনামের মতই লেজ গুটিয়ে ফিরেছে মার্কিন বাহিনী।

এদিকে, গ্রাউন্ড-জিরোর স্মরণ সমাবেশে বাংলাদেশী ভিকটিম শাকিলা ইয়াসমীন এবং তার স্বামী নুরল হক মিয়ার স্বজনরাও থাকবেন বলে জানা গেছে। অপর বাংলাদেশী ভিকটিম সাব্বির হোসেন, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবুল কে মনসুর, মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের স্বজনরাও প্রতি বছরই গ্রাউন্ড জিরোতে আসেন এবং গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন সকলকে। এবারের স্মরণ সমাবেশ ভিন্ন মাত্রা পাবে। কারণ, ৯/১১ এর সন্ত্রাসী হামলার জন্যে দায়ী আল ক্বায়েদার ঘনিষ্ঠ সহযোগিরা পুনরায় আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখল করেছে। তাহলে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের যুদ্ধের পরিসমাপ্তি কীভাবে ঘটলো-এ প্রশ্ন ভিকটিম-স্বজনদের। 

২০০১ সালে আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র টুইন টাওয়ার ও সেনা সদর দফতর পেন্টাগনে সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে গোপন তথ্য ও দলিলপত্র প্রকাশের জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নির্দেশ দিয়েছেন। গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক নির্বাহী আদেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ২০০১ সালের হামলা সম্পর্কিত গোপন তথ্য ও দলিলপত্র প্রকাশের কথা বলেছেন।  এ বিষয়ে মার্কিন বিচার মন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিএআই বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য যে সুপারিশ করেছিল তা বাতিল করে দিয়ে বাইডেন এই নির্দেশ দিলেন। 

বলা হচ্ছে, মার্কিন গোপন এসব দলিলপত্রে সৌদি আরবের জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে। ২০০১ সালের ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হয়। হতাহতদের স্বজনরা বছরের পর বছর ধরে এ বিষয়ে গোপন রিপোর্ট প্রকাশের জন্য ফেডারেল সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন। ঐ সন্ত্রাসী হামলায় ১ হাজার কোটি ডলারের সম্পদ ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করে আসছেন, হামলায় ১৯ জন আলকায়েদার সন্ত্রাসী জড়িত ছিল। তবে অনেক স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞ ও গবেষক সরকারি এ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তারা বিশ্বাস করেন, তৎকালীন মার্কিন সরকারের ভাইস প্রেসিডেনট ডিক চেনিসহ কিছু কর্মকর্তা ওই হামলার পরিকল্পনা করেন কিংবা অন্ততপক্ষে তারা হামলার জন্য উৎসাহ যুগিয়েছিলেন, যাতে ইহুদিবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য যুদ্ধ শুরু করা যায়।

সন্ত্রাসী হামলার ২০ বছর পূর্তির দিন অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর শনিবার নিউইয়র্কে আসছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সাথে থাকবেন ফার্স্টলেডি জিলি বাইডেনও। গ্রাউন্ড জিরোতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি স্বজন হারানোদের সাথে কথা বলবেন। গভীর শ্রদ্ধা জানাবেন নিহতদের প্রতি। পেনসিলভেনিয়ায় বিধ্বস্ত হওয়া স্থানেও যাবেন বাইডেন। পেন্টাগণের স্মরণ সমাবেশেও উপস্থিত থাকার কথা প্রেসিডেন্টের। 


বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর