শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:৫০

সেলফিময় বইমেলা

ইকবাল খন্দকার

সেলফিময় বইমেলা
আইডিয়া ও ডায়ালগ : তানভীর আহমেদ

আমি বললাম, আরে বেটা, সন্ধ্যায়ই তো বইমেলায় ঘুরে মজা। বন্ধু বলল, যেহেতু এখন ক্যামেরার সামনে পড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, অতএব বইমেলায় যাওয়া আর কাওরানবাজার মাছ কিনতে যাওয়া একই বলে আমি মনে করি...

 

আমার এক ছোটভাইয়ের ফোন পেলাম সকাল সকালই। আমি রিসিভ করে কুশল বিনিময় করলাম। তবে বুঝলাম তার মন-মেজাজ তত ভালো নেই। জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে। ছোটভাই বলল, আর বলবেন না ভাই। বইমেলা তো একটা ভালো জায়গা, তাই না? তো এখানে যারা যায়, তাদের তো একটু ভালোভাবেই চলাফেরা করা উচিত, ঠিক কিনা বলেন। আমি বললাম, একদম ঠিক। এখন কী হয়েছে, সেটা বলে ফেল। ছোটভাই বলল, কী আর বলব! যারা বইমেলায় যায়, তাদের বেশিরভাগই এত বেখেয়াল যে, আরেকজনের কী ক্ষতি হলো, কী সমস্যা হলো, সেদিকে একদমই খেয়াল রাখে না। আমি বললাম, এরকম ডানে বামে কথা না বলে কী হয়েছে, সরাসরি বলে ফেল। ছোটভাই বলল, কী আর বলব ভাই। মেলায় গিয়ে যতগুলো সেফলি তুললাম, একটাও ঠিক নেই। কেউ না কেউ ফ্রেমে ঢুকে পড়েছে। কেন? আপনারা মেলায় যাবেন ঠিক আছে? কে সেলফি তুলছে একটু খেয়াল রাখবেন না? কেন আরেকজনের ফ্রেমে ঢুকে তার সেলফির বারোটা বাজাবেন? আমি বললাম, খুবই সুন্দর কথা। আশা করা যায় এখন থেকে কর্তৃপক্ষ মোড়ক উন্মোচন মঞ্চের মতো আলাদা একটা মঞ্চ রাখবে। যে মঞ্চের নাম হবে, সেলফি মঞ্চ। আর এই মঞ্চে থাকবে কয়েক স্তর বিশিষ্ট নিরাপত্তা। যাতে একজন সেলফি তোলার সময় কোনোভাবেই আরেকজন সেই ফ্রেমের ভিতর ঢুকে না পড়ে। যদি ভুলে ঢুকেও পড়ে, তার জন্য থাকবে পর্যাপ্ত জরিমানার ব্যবস্থা। ঠিক আছে না? ছোটভাই কী বুঝল বা ভাবল জানি না, লাইন কেটে দিল। আমি রওনা হলাম বইমেলার উদ্দেশে। কিছুদূর যেতেই এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা। তাকে বললাম, চল, বইমেলায় যাই। সে বলল, মেলায় যে যাব, গিয়ে করবটা কী? এখন তো সন্ধ্যা হয়ে গেছে। আমি বললাম, আরে বেটা, সন্ধ্যায়ই তো বইমেলায় ঘুরে মজা। বন্ধু বলল, মজা থাকতে পারে, তবে কোনো ফায়দা নেই। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী রকম? বন্ধু বলল, কী রকম আবার! টিভি চ্যানেলগুলো কিন্তু লাইভ করে সূর্যের আলো থাকা অবস্থায়। যেহেতু এখন সূর্যের আলো নেই, যেহেতু লাইভ নেই, যেহেতু ক্যামেরার সামনে পড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, অতএব বইমেলায় যাওয়া আর কাওরানবাজার মাছ কিনতে যাওয়া একই বলে আমি মনে করি। তখনই দেখা এক বড়ভাইয়ের সঙ্গে। তার হাতে চার-পাঁচটা ব্যাগ। অবশ্যই বইয়ের। আমি বললাম, বাহ, ম্যালা বই কিনেছেন তো! তা কখন এসেছিলেন? বড়ভাই বললেন, এখনই আসলাম। এখনো ভিতরে ঢুকিনি। আমি এবার তাজ্জব হলাম। বললাম, এখনো ঢোকেননি, তাহলে বই কিনলেন কোত্থেকে? বড়ভাই বললেন, কে বলেছে বই কিনেছি! বইটই কিনিনি। কেনার ইচ্ছেও নেই। কিন্তু মেলায় খালিহাতে ঘুরলে কেমন দেখায়! এ জন্য বাড়ি থেকে পুরনো কিছু বই নিয়ে এসেছি ব্যাগে ভরে। এখন এসব ব্যাগ নিয়ে মেলাজুড়ে ঘুরব আর সবাই ভাববে আমি সাংঘাতিক বইপ্রেমী। আমি বললাম, জি, আপনি বিরাট বইপ্রেমী। বড়ভাই বললেন- তবে সমস্যা আছে। কারণ, ব্যাগে আমার ছেলেমেয়েদের গাইড বই। যদি চেকপোস্টে ধরে! সেদিন কথায় কথায় এক প্রতিবেশীকে বাহবা দিলাম রোজ মেলায় যাওয়ার জন্য। প্রতিবেশী খুশি হয়ে বললেন, আসলে আমি রোজ মেলায় যাই লেখকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য। আসলে হয়েছে কী, লেখকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার একটা কারণ আছে। আমার ইচ্ছা, বই না কিনে যদি তাদের মুখ থেকে বইয়ের গল্পটা শুনে ফেলা যায়।


আপনার মন্তব্য