শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:৫৭

আসিতেছে ভালোবাসা দিবস

ইকবাল খন্দকার

আসিতেছে ভালোবাসা দিবস
♦ ডায়ালগ : আলী আফতাব ♦ কার্টুন : নাতাশা জাহান মায়া
প্রতি বছর প্রেমিকার ভাইয়ের দৌড়ানি খাই। এবার আশা করছি সেটা খেতে হবে না। আমি জানতে চাইলাম, কেন? ছেলেটা বলল, কেন আবার? প্রেমিকার ভাই প্রতি বছরই নিকটস্থ পার্ক-রেস্টুরেন্টসহ সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে অভিযান চালায় আমি তার বোনকে নিয়ে কোথায় ডেটিং করছি জানার জন্য...

আমার এক ছোটভাইকে ফোন দিলাম বিশেষ একটা দরকারে। কিন্তু ছোটভাই ফোন রিসিভ করে যে গলায় ‘হ্যালো’ বলল, তাতে আমার মনে হলো তার বাবাকে ফোন দিয়ে ফেলেছি। মানে যারপরনাই ভারী আর গম্ভীর গলা। কিন্তু যাচাই করে দেখা গেল বাবাও না, চাচাও না; ‘হ্যালো’টা ছোটভাই নিজেই বলেছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কীরে, গলা এত ভারী শোনাচ্ছে কেন? ঠা-া লেগেছে নাকি? এ সময়ে ঠা-া লাগা কিন্তু বিপজ্জনক। ছোটভাই বলল, আরে রাখেন আপনার ঠা-া। বহুত টেনশনে আছি। আর টেনশন জিনিসটা করোনার চেয়েও মারাত্মক। আমি বললাম, টেনশনটা কীসের, জানতে পারি? ছোটভাই বলল, কীসের আবার, বইমেলা হচ্ছে না। আমি বললাম, কে বলল বইমেলা হচ্ছে না? বইমেলা অবশ্যই হচ্ছে। তবে ফেব্রুয়ারিতে হচ্ছে না। মার্চে হবে। ছোটভাই বলল, সমস্যা তো এখানেই। আর সমস্যা যেখানে, টেনশনও সেখানে। আমি ছোটভাইকে অনুরোধ করলাম কী বলতে চায় বুঝিয়ে বলার জন্য। ছোটভাই বলল, প্রতিবছর ভ্যালেন্টাইনস ডে যখন হয়, তখন বইমেলা থাকে। আমি করি কী, আমার প্রেমিকাকে নিয়ে চলে যাই বইমেলায়। অল্প কিছু খরচের মধ্য দিয়ে ভালোবাসা দিবসটা উদযাপন করে ফেলি। কিন্তু এবার যেহেতু ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা হচ্ছে না, তার মানে এবার প্রেমিকাকে নিয়ে সময় কাটাতে হবে দামি কোনো রেস্টুরেন্টে। তার মানে হাজার হাজার টাকার ব্যাপার। এত টাকা কোথায় পাব, এই টেনশনে আমার একটু পরপরই জ¦র আসছে এবং সেই জ¦র সারছে ঘাম দিয়ে। আমি আমার আগের কথাটাকেই একটু ঘষামাজা করে আবার বলে দিলাম, এ সময়ে জ¦র আসা কিন্তু বিপজ্জনক। ছোটভাই আমার কথার জবাব না দিয়ে লাইন কেটে দিল। গতকাল বিকালে আমি মার্কেটে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বাইরে বের হচ্ছিলাম। এমন সময় পাশের ফ্ল্যাটের মালিকের ভার্সিটিপড়–য়া ছেলের সঙ্গে দেখা। কুশলবিনিময় করলাম। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, সামনে ভ্যালেন্টাইন ডে? প্ল্যান-প্রোগ্রাম কী? ছেলেটা বলল, এই বছরের ভ্যালেন্টাইন ডে’টা খুব নিরাপদে পালন করতে পারব বলে আশা রাখি। প্রতিবছর প্রেমিকার ভাইয়ের দৌড়ানি খাই। এবার আশা করছি সেটা খেতে হবে না। আমি জানতে চাইলাম, কেন? ছেলেটা বলল, কেন আবার? প্রেমিকার ভাই প্রতি বছরই নিকটস্থ পার্ক-রেস্টুরেন্টসহ সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে অভিযান চালায় আমি তার বোনকে নিয়ে কোথায় ডেটিং করছি জানার জন্য। ব্যস, পেয়ে যায় আর দেয় দাবড়ানি। আর আমি দিই ঝাড়া দৌড়। কিন্তু এবার সে ধরনের কিছু ঘটবে না বলে এ জন্য আশা করছি। যেহেতু এবার দুজনের মুখেই মাস্ক থাকবে। মোটকথা, মাস্ক থাকলে চিনতেও পারবে না, দাবড়ানিও দিতে পারবে না। অতএব, আমার দৌড় দেওয়ারও প্রয়োজন পড়বে না। ঠিক কিনা? আমার এক ব্যাচেলর বড়ভাই বললেন, ভ্যালেন্টাইন ডে যেহেতু সমাগত, অতএব কিছু প্রস্তুতির দরকার আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী ধরনের প্রস্তুতি নিতে চাচ্ছেন? নতুন জামা-কাপড় কেনা বা এ ধরনের অন্য কোনো প্রস্তুতি কি? বড়ভাই বললেন, হ্যাঁ, তা তো আছেই। তবে এখন যেহেতু বয়স বেড়ে গেছে, এখন কিন্তু আরেকটা প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। ডেটিংয়ে যাওয়ার আগে চুলে কলপ দিয়ে যাওয়া। আমি বললাম, সমস্যা কী? বড়ভাই বললেন, সমস্যা তো একটা আছেই। আমি যার সঙ্গে প্রেম করি, তারও প্রায় সব চুল পাকা। সমস্যা হচ্ছে, নরমাল মেকআপ করে বাইরে বের হতেই তার এত লেট হয়ে যায় যে, কোনো দিন টাইম মেনটেইন করতে পারে না। এখন আমার ভয় হচ্ছে, সে যদি মেকআপের পাশাপাশি চুলে কলপ করে বের হতে চায়, তাহলে তো শুধু এক ঘণ্টা না, পুরো একদিন লেট হয়ে যাবে। আমি বললাম, সব বুঝলাম। এখন আপনার ডিমান্ডটা কী? বড়ভাই বললেন, না, বলছিলাম কী, ভ্যালেন্টাইন ডে কি একদিনের পরিবর্তে দুদিন করা যায় না? চুলে কলপ দিতে দিতে বেশি লেট করে ফেললে যাতে... না মানে মানুষের সুবিধা-অসুবিধা তো থাকতেই পারে। পারে না?