শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১১ এপ্রিল, ২০২১ ২২:৫৮

ঘরে বাইরে

ইকবাল খন্দকার

ঘরে বাইরে
> আইডিয়া ও ডায়ালগ : তানভীর আহমেদ > কার্টুন : কাওছার মাহমুদ
Google News

আমার এক বড় ভাই বললেন, একেই বলে উভয় সংকট। এই সংকট থেকে কীভাবে পার পাব, বুঝতে পারছি না। আমি বললাম, আমিও বুঝতে পারছি না আপনি কীসের সংকটের কথা বলছেন। বড় ভাই বললেন, বুঝিয়ে বলার আসলে কিছু নেই। তুই এমনিতেই বুঝে যাবি। যেহেতু আমরা সবাই একই পরিস্থিতির শিকার। তুই-ই বল,  লকডাউন, ঘরে থাকার কথা, আমাদের কি উচিত না ঘরে থাকা? অবশ্যই উচিত। কিন্তু ঘরে থাকতে গিয়ে যদি বউয়ের খোঁটা শুনতে হয়, তাহলে যাবটা কোথায়? আমি আগ্রহের সঙ্গে জানতে চাইলাম, ভাবী কী ধরনের খোঁটা দেয়, একটু বলা যাবে? বড় ভাই বললেন, বলা যাবে তো অবশ্যই। আমি লকডাউন মানতে গিয়ে ঘরের বাইরে যেতে চাই না। ঘরে থাকি। আর এর সূত্র ধরে সে তার বান্ধবীদের বলে, যেহেতু আমার জামাই ঘরে থাকে, অতএব আমার জামাই হলো ‘ঘরজামাই’। এবার চিন্তা কর নিজের বাড়িতে থেকে যদি ঘরজামাই উপাধি পেতে হয়, তাহলে এই মুখ কীভাবে দেখাই! আমি বললাম, মুখ দেখানোর কোনো দরকারই নেই। আপনি এক কাজ করেন, নরমাল সাইজের তুলনায় বড় সাইজ দেখে মাস্ক কেনেন। যাতে নাক-মুখ ঢাকার পাশাপাশি চোখ-কপাল ইত্যাদি ঢাকা পড়ে যায়। এ অবস্থায় আপনাকে চেনে, সাধ্য কোন বাপের বেটার? আমার এক বন্ধু বলল, লকডাউনে ঘরে থাকা যেমন যন্ত্রণার, বাইরে থাকার যন্ত্রণাও তেমন কম না। কারণ কখন করোনা অ্যাটাক করে বসে, কোনো ঠিক তো নেই। আমি বললাম, করোনার ভয়ে হলেও আমাদের সবার উচিত ঘরে থাকা। বন্ধু বলল, ঘরে থাকতে কোনো সমস্যাই ছিল না, যদি তোর ভাবী একটার পর একটা আইন জারি না করত। আমি বললাম, ভাবী কী ধরনের আইন জারি করে একটু বলা যাবে? বন্ধু বলল, তার আইনের কোনো শেষ নেই। যেমন গতকাল বলল, এখন থেকে আর বারান্দায় যাওয়া যাবে না। আমি প্রথমে মনে করেছিলাম করোনা সংক্রমণের ভয়ে বুঝি সে আমাকে বারান্দায় যেতে নিষেধ করছে। পরে জানতে পারলাম পাশের বাসার ভাবীর ভার্সিটি পড়ুয়া ছোটবোন নাকি ভাবীর বাসায় বেড়াতে এসে লকডাউনে আটকা পড়েছে। যে কিনা এখন একটু পরপর বারান্দায় আসে। তোর ভাবীর ধারণা... আমি বললাম, ভাবীর কী ধারণা, সেটা আমি ধারণা করতে পারছি। কারণ এটা খুবই পুরনো এবং গতানুগতিক ধারণা। নতুন কিছু বলার থাকলে বল। বন্ধু বলল, নতুন করে একটা কথাই বলতে চাই, কড়াকড়ির চেয়েও কড়াকড়ি লকডাউন দিতে হবে। এত কড়াকড়ি যে, যাতে বউয়ের সঙ্গে পর্যন্ত দেখা না হয়। আমার এক প্রতিবেশী বললেন, আবার কঠোর লকডাউন আসছে, আবার ঘরে থাকতে হবে শুনে বড়ই ভালো লাগছে। আমি অবাক হলাম, ঘরে থাকতে হবে শুনে আপনার ভালো লাগছে? কিন্তু ঘরে থাকার কথা শুনলে তো সবার খারাপ লাগে। আপনার ভালো লাগার কারণ কী? প্রতিবেশী বললেন, ভালো লাগার একটাই কারণ, আর তা হলো লুঙ্গি। বাসায় থাকলে লুঙ্গি পরা যায় কিনা, যদি লুঙ্গি পরে অফিসে যাওয়ার অনুমতি থাকত, তাহলে শুধু ঘরে না, বাইরে গেলেও ভালো লাগত বলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস।

আমার এক ছোটভাই বলল, লকডাউনে ঘরে থাকাকে যারা কষ্টের ব্যাপার মনে করে, তাদের কথা মাথায় রেখে আমি একটা ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছি। আশা করছি আর কেউ উপকৃত হোক বা না হোক, বিবাহিত পুরুষরা অবশ্যই উপকৃত হবে। আমি জানতে চাইলাম, কীসের ব্যবসা? ছোট ভাই বলল, তুলার ব্যবসা। বিবাহিত পুরুষরা দুই কানে দুই টুকরা তুলা গুঁজবে আর বউয়ের বকবকানি থেকে কানকে রাখবে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।

আমার এক বন্ধু বলল, লকডাউন মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে দেয়। যা খুবই বেদনাদায়ক। আমি বললাম, লকডাউন তো মানুষকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। যেহেতু সারা দিন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে থাকা হয়। বন্ধু বলল, তুই কিন্তু শুধু পরিবার-পরিজনের কথাই ভাবছিস। অথচ দু-চারজন বান্ধবীও যে আমার থাকতে পারে, সেটা একদমই ভাবছিস না। এই লকডাউনে আমার বান্ধবীদের সঙ্গে যে দূরত্ব তৈরি হবে, এই দূরত্ব একদম মানা যায় না, আমি বললাম, অসহমত। সহমত বলে মাইর খাব নাকি?