শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ জুন, ২০২১ ২৩:১১

ডলফিন বিষয়ক নয়া জটিলতা

রাফিউজ্জামান সিফাত

ডলফিন বিষয়ক নয়া জটিলতা
Google News

বাকির খাতার লম্বা লিস্টের দিকে এক দৃষ্টি চেয়ে থাকতে থাকতে মজনু বিড়বিড় গলায় বলল, ‘পানির নিচে ডলফিনটা তো জঙ্গলের মতন।’ চায়ের দোকানদার তোতা মিয়া মজনুর দিকে চেয়ে জানতে চাইল, ‘কি কইলেন মজনু বাই? পানির নিচে কিতা? বুঝি নাইক্কা।’ বাকির খাতা উল্টে পাশে রেখে মজনু বলল, ‘তুমি বুঝবে না বরং দুধ বেশি, চিনি কম দিয়ে একটা চা বানাও।’ তোতা মিয়া কাঁধ নাচিয়ে চা বানানোয় মনোনিবেশ করে মজনুকে বলল, ‘মজনু বাই, আফনের কিন্তুক গত দুই মাসের চা-নাশতার বিল অহনো বাকি, টাকা কবে দিবাইন?’ তোতা মিয়ার কথায় পাত্তা না দিয়ে মজনু চায়ের দোকানের বাইরের পেতে রাখা লম্বা বেঞ্চে চিত হয়ে শুয়ে আকাশ দেখে আর ভাবে, ডলফিন কোথায় পাওয়া যায়! মজনুর ভালোবাসার মানুষ সুলেখা গতরাতে মোবাইলে প্রেম করার সময় আবেশী গলায় মজনুর কাছে আবদার করেছে, সুলেখাকে ডলফিন দেখাতে হবে। ফেসবুকে একটা ভাইরাল ভিডিও ‘পানির নিচে ডলফিনটা তো জঙ্গলের মতন’ দেখে সুলেখার সামনাসামনি একটা ডলফিন দেখার ইচ্ছা জেগেছে। সকাল থেকে মজনু বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিয়েছে, কোথায় ডলফিন পাওয়া যায়। কেউ সঠিক উত্তর দিতে পারেনি। কেউ বলছে, কাওরানবাজার মাছের আড়তে খোঁজ নিতে, কেউ বলছে কাঁটাবন অ্যাকুরিয়ামের দোকানগুলোতে একটা খবর নিয়ে দেখতে। আবার অতি উৎসাহী হয়ে কেউ কেউ ঢাকার স্যুয়ারেজ পাইপে একটা চেক লাগানোর সাজেশন দিয়েছে। অবশ্য মজনুর বাল্যবন্ধু পিকলু ভালো সমাধান দিয়েছে। মজনুর কাছে সমস্ত বৃত্তান্ত শুনে পিকলু এক চুটকিতে সমাধান দিয়ে বলল, ‘তুই কক্সবাজার চলে যায়। ঢাকা থেকে ডিরেক্ট বাস আছে, কক্সবাজার নেমে মাছ ধরার ট্রলারে করে চলে যাবি গভীর সমুদ্রে। সেখানে ডলফিন দেখতে পাবি।’ মজনু মাথা নাড়ল, ‘পসিবল না, প্রথমত সুলেখার বাসে বমি হয়, সে বাস জার্নি করতে পারে না। দ্বিতীয়ত, সুলেখাকে

নিয়ে এ মুহূর্তে ঢাকার বাইরে যাওয়া সম্ভব না। টেলিভিশনে সুলেখা যে সিরিয়াল দেখে এ সপ্তাহে তার ফাইনাল এপিসোড। সিরিয়াল মিস দিয়ে সে সমুদ্রে যাবে না, তাকে ঢাকাতেই ডলফিন দেখাতে হবে এবং আজই।’ এ তো মহা জটিল সমস্যা। পিকলু দমে যায়। মজনু দমে না। সে চিড়িয়াখানাতে খোঁজ লাগায়। জানা যায় সেখানে জীবিত ডলফিন নেই। তবে ডলফিনের একটা ভাস্কর্য আছে। সৌন্দর্য বর্ধন ও বাচ্চাদের খেলনা হিসেবে বহু আগে ব্যবহৃত হতো। সেই ডলফিনের বিশাল হাঁ করা মুখ দিয়ে ইলেকট্রিক মেশিনের সাহায্যে আগে অনবরত পানি বের হতো। পানিতে ডলফিন ভেসে থাকত। বছর কয়েক ধরে পানির মেশিন নষ্ট, এখন পানিশূন্য অবস্থায় খাঁ খাঁ রোদ্দুরে মাটির ডলফিন মুখ হাঁ করে পড়ে থাকে। সব জায়গায় ব্যর্থ হয়ে মজনু হতাশ হয়ে যায়। বিকাল হতে চলল, ডলফিনের দেখা নেই। তোতা মিয়া বলে, ‘আফনের কি বাই শরীরডা খারাপ? এমুন করতাছেন ক্যান?’ তোতা মিয়া মজনুর দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করে। মজনু তাকে সমস্যার কথা খুলে বললে, তোতা মিয়া মিচকা হাসি হেসে বলে, ‘এইডা কুনু বেফার হইল! আফনে আফারে লইয়া আসুইন। আমি আফারে ডলফিন দেহানির বেবস্তা করতাছি।’ সন্ধ্যার একটু আগে সুলেখাকে নিয়ে মজনু তোতা মিয়ার দেখানো বহু পুরনো ডোবা পচা পুকুরের সামনে নিয়ে আসে। সুলেখার চোখ বাঁধা, মুখে হাসি। সে চরম উচ্ছ্বসিত। তার হাতে চাইনিজ মোবাইল ফোনসেট। ভিডিও অন করা। ডলফিন ভিডিও করে সে টিকটিকে আপলোড দিবে। মজনু পিছন থেকে সুলেখার চোখের বাঁধন খুলে দিয়ে বলল, ‘ওই যে ডলফিন।’ উত্তেজনায় চিৎকার করতে করতে সুলেখা জানতে চায়, ‘কোথায় কোথায়?’ হাত ইশারায় পুকুরের গভীরে দেখিয়ে মজনু বলে, ‘ওই যে পানির নিচের জঙ্গলটা, ওইটাই ডলফিন। তুমিই তো গতকাল রাতে আমাকে বললে,  পানির নিচে ডলফিনটা জঙ্গলের মতন!