শিরোনাম
সোমবার, ২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা

বাদল দিনের প্যাঁচাল

ইকবাল খন্দকার

বাদল দিনের প্যাঁচাল

কদমের বিকল্প গোলাপই হতে হবে, এমন তো কোনো কথা নেই। ফুলকপিও তো হতে পারে।

আমার এক বড়ভাই বললেন, এমনিতে বৃষ্টি-বাদলা আমার পছন্দ না। কারণ, জরুরি কাজ থাকলেও বৃষ্টির জন্য বাইরে বের হওয়া যায় না। তাছাড়া রাস্তাঘাট ভরে যায় কাদায়। আরও নানাবিধ সমস্যা। এবার পাশ থেকে একজন বলে উঠল, আপনার কথায় আমি ‘লাইক’ দিলাম। মানে আমি সহমত। তবে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, সবকিছুরই ভালো-মন্দ দুই দিক আছে। আপনি বিশ্বাস করতে পারবেন না, এই বৃষ্টি-বাদলার দিনের কারণেই আমি বড় অ্যামাউন্টের একটা টাকা ফেরত পেয়েছি। আমি ভুলোমনের মানুষ তো! একদম ভুলে গিয়েছিলাম টাকাটার কথা। লোকটার কথায় আমি এবং বড়ভাই দুজনই অবাক হলাম। কারণ, তার কথার মর্মার্থ বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল। আমরা তাকে অনুরোধ করলাম মর্মার্থ ক্লিয়ার করার জন্য। ভদ্রলোক ক্লিয়ার করলেন, আসলে হয়েছে কী, আমি কিছুদিন আগে কিছু টাকা ধার দিয়েছিলাম। কিন্তু সে কোন এলাকায় থাকে, সেটা মনে করতে পারছিলাম না। ওই যে বললাম, ভুলোমন। এদিকে তার মোবাইলও বন্ধ পাচ্ছিলাম। এই যখন পরিস্থিতি, ঠিক তখনই শুরু হলো বৃষ্টি-বাদল। আর আমার বউ যেহেতু গান-বাজনা পছন্দ করে, সে বৃষ্টির সঙ্গে তাল মিলিয়ে গেয়ে উঠল, ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’। সঙ্গে সঙ্গে আমি পেয়ে গেলাম আমার কাক্সিক্ষত জিনিস। মানে কদম ফুলের কথা শুনে আমার মনে পড়ে গেল লোকটার বাড়ি আসলে কদমতলী এলাকায়। আমার এক ছোটভাই বলল, বাদল দিনে প্রেমিকাকে কদম ফুল দিতে হয়, এটা একটা নিয়ম হয়ে গেছে। কিন্তু কদম ফুল যদি হাতের কাছে না পাওয়া যায়, তাহলে অন্য কোনো ফুল দেওয়া যাবে কি? আমি বললাম, অন্য কী ফুল দিতে চাস? গোলাপ ফুলের দাম তো কম না। এদিকে তোর পকেটের অবস্থা কী, সেটা তো আমি ভালো করেই জানি। যে কারণে... আমাকে কথা শেষ করার সুযোগ না দিয়ে ছোটভাই বলল, ভাই, কদমের বিকল্প গোলাপই হতে হবে, এমন তো কোনো কথা নেই। ফুলকপিও তো হতে পারে। পারে না? আমি বললাম, জি, পারে। কিন্তু এই সিজনে তুই ফুলকপি পাবি কোথায়? ছোটভাই বলল, এটা নিয়ে একদম টেনশন করবেন না ভাই। আমার মা গত সিজনে অনেকগুলো ফুলকপি কিনে ফ্রিজে ভরে রেখেছে। ছোট দেখে একটা গিফট করে দেব। ঠিক আছে না? আমি বললাম, ঠিক আছে। তবে সাবধান। ফ্রিজ থেকে বের করেই ফুলকপিটা গিফট করে ফেলিস না। কিছুক্ষণ বাতাসে রাখিস, যাতে নরমাল হয়। নইলে দেখবি তোর দেওয়া ঠান্ডা ফুলকপিটা হাতে নিতে না নিতেই তোর প্রেমিকার সর্দি লেগে যাবে। সঙ্গে হালকা কাশিরও ব্যবস্থা থাকতে পারে। তখন করোনা সন্দেহে তার থাকতে হবে কোয়ারেন্টাইনে। তোর আর ডেটিং করা হবে না। আমার এক প্রতিবেশী বললেন, এই যে সারা দিন বৃষ্টি হচ্ছে, ব্যাপারটা কিন্তু একদমই আমার পছন্দ হচ্ছে না। কারণ, এই বৃষ্টিকে ইস্যু করে অনেকেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি জানতে চাইলাম, কী রকম? প্রতিবেশী বললেন, কী রকম আবার! আগে আমি টাই বাঁধতে পারতাম না। বউয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম। আর এই সুযোগটা কাজে লাগাতো বউ। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে যখন আমি তাড়াহুড়া করে বলতাম, বউ, টাইটা বেঁধে দাও, বউ বলতো, বেঁধে দিতে পারি। তবে শর্ত একটা। শপিংয়ের খরচ হিসেবে প্রতিমাসে আরও পাঁচ হাজার টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে। বউয়ের এই শর্তের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে তার ওপর নির্ভরতা কমালাম। মানে নিজেই শিখে নিলাম টাই বাঁধা। কিন্তু এই বৃষ্টি-বাদলের দিনে পড়েছি আরেক ঝামেলায়। অফিসে যাওয়ার আগে যখন আমার রেইনকোট দরকার হয়, তখন আর রেইনকোটটা খুঁজে পাই না। কারণ, বউ লুকিয়ে রেখে দেয়। আর বলে কী, রেইনকোট খুঁজে দিতে পারি, তবে শর্ত একটা। শপিংয়ের খরচ হিসেবে প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে। কী একটা যন্ত্রণা বলেন দেখি! আমার এক বন্ধুর হাতে ইঁদুরের বিষ দেখে ভয় পেয়ে গেলাম। সে কি তাহলে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছে? বন্ধু বলল, আরে না রে পাগলা। বাসার সব রেইনকোট আর ছাতা ইন্দুরে কেটে ফেলছে। তাই অ্যাকশনে যাচ্ছি।

এই রকম আরও টপিক