শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:৩৪

কৃষি

সোনা ফলাবে জৈব সোনা

ওলী আহম্মেদ, শেকৃবি

সোনা ফলাবে জৈব সোনা

ব্যাকটেরিয়া! মানবদেহ থেকে শুরু করে সব প্রাণীরই উপস্থিতি আছে এককোষী ব্যাকটেরিয়ার, সে হোক বহিঃত্বক কিংবা অন্তকোষ। এসব ব্যাকটেরিয়ার কিছু আবার প্রাণীদেহে হজমক্রিয়ায় সহযোগিতার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধেও প্রশংসার দাবিদার। এগুলো উপকারী ব্যাকটেরিয়া। একইভাবে উদ্ভিদের বেলায় বিশেষত ফসলজাতীয় উদ্ভিদে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি যদি উদ্ভিদের প্রকৃতি থেকে পুষ্টি উপাদান গ্রহণে প্রভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাসহ গাছের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে পরিবেশবান্ধব ফলন দেয় তবে কেমন হয়? হ্যাঁ, দীর্ঘ ১০ বছরের গবেষণায় এমন চিন্তাটিই আজ প্রযুক্তিতে রূপ নিয়েছেÑ প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া। জীবদেহের বহিঃত্বক কিংবা অন্তকোষীয় অঞ্চলে বাস করা উপকারী ব্যাকটেরিয়াই ‘প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া’।

প্রফেসর ড. মো. তফাজ্জল ইসলাম। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিয়ারিংয়ের পরিচালক। তার ভাষায় ‘উদ্ভিদ প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া প্রযুক্তি আমার একটি স্বাপ্নিক উদ্যোগ।’ উদ্যোগটির দীর্ঘ ১০ বছরের পথ-পরিক্রমায় সহযোগিতা করেছেন তারই সহকর্মী নূর উদ্দীন মাহমুদ, নুসরাত জাহান সুরভী ও দীপালি রানী গুপ্তা। একই বিষয়ের ওপর এ পর্যন্ত প্রায়োগিক গবেষণা সম্পন্ন করেছেন এমএস ও পিএইচডির ২২ জন শিক্ষার্থী। গবেষকদল বলছেন, প্রযুক্তিটির ব্যবহারে ফসলে রোগবালাইয়ের আক্রমণ হ্রাসসহ শস্যের ফলন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গুণগতমানও বৃদ্ধি পায় যা নিঃসন্দেহে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবান্ধব। বিস্ময়ের বিষয় হলো প্রযুক্তিটির ব্যবহারে ফসলে সার প্রয়োগ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। বাংলাদেশে প্রতিবছর ধান ও অন্যান্য ফসলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিকটন, তন্মধ্যে ৫০ ভাগেরও বেশি ইউরিয়া এবং প্রায় শতভাগ ফসফেট ও পটাশ সার বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যার পরনাই এক্ষেত্রে যখন ফসলের উৎপাদন খরচ বাড়ছে তখনই প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া ফসল উৎপাদনে সম্ভাব্য বিকল্প টেকসই প্রযুক্তি হতে পারে যা কিনা রাসায়নিক সারের ব্যবহার বহুলাংশে কমাবে। ব্যয়বহুল রাসায়নিক সারের বিকল্প এ প্রযুক্তিকে তাই অণুজীব সারও বলা যায়। প্রযুক্তিটির কারিশমা মূলত ব্যাকটেরিয়াতেই। জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নিজস্ব পরিবেশ থেকেই এসব ব্যাকটেরিয়া সংগ্রহ করা সম্ভব। প্রকৃতি থেকে আহরিত হলেও আবাদ মাধ্যমে (কালচার মিডিয়া) এসব ব্যাকটেরিয়ার সংগ্রহশালায় কোনো বিরূপ প্রভাবে পড়বে না, ফলে এটি একটি পুনঃনবায়ন প্রযুক্তিও বটে। তাই গবেষক দল উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তিকে বলতে চেয়েছেন ‘জৈব সোনা’। জৈব সোনা প্রয়োগে বীজ বা শিকড়ে বায়োফিল্ম (ব্যাকটেরিয়ার প্রলেপ) এর ব্যবহার কার্যকারিতা বাড়ায় বহুগুণে। ঝিনাইদহ ও কাপাসিয়াসহ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেশের সোনা ফসল ধানসহ গম ও স্ট্রবেরি চাষে প্রযুক্তিটির প্রয়োগে এসবই প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান গবেষক দল। চাষি পর্যায়ে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে দেশের খ্যাতনামা ক্রপ প্রটেকশন কোম্পানিসমূহের সঙ্গে ইতিমধ্যে  আলোচনাও হয়েছে বলে জানান প্রযুক্তিটির স্বপ্নপুরুষ ড. তফাজ্জল।


আপনার মন্তব্য