শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ এপ্রিল, ২০২১ ২২:০৬

মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ

করোনার সময়ে বিষণ্নতার হার ৪৬ শতাংশ

করোনার সময়ে বিষণ্নতার হার ৪৬ শতাংশ
পরামর্শ দিয়েছেন
অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও মনোবিদ

 

কভিড আক্রান্ত প্রতি পাঁচজনে একজন মানসিক সমস্যায় ভোগে। এদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেশি কাজ করে। বিষণ্নতাও হয়। কাজের উদ্যম পায় না। সাইকোসিস হয়ে থাকে। সেরে ওঠার পরও প্রতি তিনজনে একজন মানসিক সমস্যায় ভুগছে। মুড ডিজঅর্ডারে ভুগছে ১৪ শতাংশ। আর গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছে ১.৫ থেকে ২.৭ শতাংশ। ২০১৮-১৯ সালে জাতীয় সার্ভে অনুযায়ী সাধারণ বিষণ্নতার হার ছিল ৬.৭ শতাংশ যেটা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ শতাংশ। প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি। বিষণ্নতা হারও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ শতাংশ। এসব ডাটা ভয়াবহ তথ্য আমাদের দিচ্ছে। আমরা শুধু কভিডে ভুগছি না আবার কভিডের কারণে শুধু শারীরিক সমস্যায় ভুগছি না; আমরা মানসিক সমস্যায়ও ভুগছি, অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছি। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। বর্তমানে চিকিৎসকদের সবচেয়ে বেশি বার্নআউট হচ্ছে। যারা ফ্রন্টলাইনার। চিকিৎসকরা ক্লোজডোরে ডিউটি করছেন। গত কয়েক দিনের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে অনেক চিকিৎসক মারা যাচ্ছেন। ডাক্তাররা এত প্রোটেকশন নিয়েও রেহাই পাচ্ছেন না। ডাক্তারদের ঘরে ঘরে ভীষণ রকমের উদ্বেগ কাজ করছে। ভারতের এক চিকিৎসক কেঁদে কেঁদে বলছেন দয়া করে আপনারা মাস্ক ব্যবহার করুন। নিজেকে সুরক্ষা করুন। হাসপাতালে এলে আমরা অক্সিজেন দিতে পারছি না, বেড দিতে পারছি না। এই যে আবেদন জানাচ্ছে। আমাদের দেশের চিকিৎসকদেরও একই আবেদন। ভারতে ইতিমধ্যে ট্রাইভেরিয়েন্ট পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো যদি আমাদের দেশে চলে আসে তাহলে রাস্তাঘাটে মানুষ মরে পড়ে থাকলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। তাই আমাদের সবার নিজ নিজ জায়গা থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে।

শ্রুতিলিখন : সাইফ ইমন