শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

নওগাঁর আলতাদিঘিতে পদ্মফুলের মেলা

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ

নওগাঁর আলতাদিঘিতে পদ্মফুলের মেলা

নওগাঁ জেলা শহর থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার উত্তর ভারতীয় সীমান্তের কোল ঘেঁষে এবং জয়পুরহাট জেলা শহর থেকে ১৯ কিলোমিটার পশ্চিমে নির্জন বনের গভীরে জাতীয় উদ্যান আলতাদিঘির অবস্থান। নিরিবিলি, প্রচুর গাছপালা, সর্পিল পথ, গহিন বন। অজানা এক পরিবেশে গা-ছমছম করে উঠবে। বিশেষ করে শালগাছকে আলিঙ্গন করে গড়ে ওঠা উইপোকার ঢিবিগুলো সবচেয়ে আকর্ষণীয়। মাঝে-মধ্যে চেনা-অচেনা পাখির আচমকা ডাক, শালপাতার ফাঁকে ফাঁকে আলোছায়ার লুকোচুরি আর বাতাসের দোলায় মন মাতাল হওয়ার জোগাড় হবে। জেলার সর্ববৃহৎ ও সুপ্রাচীন ইতিহাস সমৃদ্ধ এ দিঘির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় পদ্মফুল। স্বচ্ছ পানিতে ফুটে ওঠা হাজারো পদ্মফুল যে কোনো ভ্রমণপিপাসু মানুষকে করছে বিমোহিত। শীতকালে পরিযায়ী পাখি, ডাহুক, পানকৌড়ির ওড়াউড়িতে মুগ্ধকর সব দৃশ্য যে কোনো বয়সী মানুষের হৃদয়কে করে চঞ্চল।

জানা যায়, জেলার ধামইরহাট উপজেলার ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানের মধ্যে আলতাদিঘি অন্যতম। প্রায় ২৬৪.১২ হেক্টর এই বনভূমির মধ্যে দিঘিটির আয়তন ৪৩ একর। এটি দৈর্ঘ্যে ১১০০ মিটার এবং প্রস্থে ৫০০ মিটার। পাহাড়ের মতো পাড়গুলো উঁচু এবং দক্ষিণ পাড় শালবনে ঢাকা। পুরো জায়গায় শোভা পাচ্ছে রাশি রাশি পদ্মফুল। প্রাচীন দিঘিগুলোর মধ্যে এটিই সম্ভবত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সচল দিঘি। ধামইরহাট উপজেলায় মোট বনভূমির পরিমাণ ১৪০১.৬৯ একর। ভারতের কোল ঘেঁষে আলতাদিঘি ও তৎসংলগ্ন বন এলাকার ২৬৪.১২ (৬৫২.৩৭ একর) হেক্টর জায়গাকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ২০১১ সালে আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে। বিশাল দিঘি রামসাগরের দৈর্ঘ্য এটির চেয়ে ১৫০ মিটার বেশি হলেও চওড়ায় ১৫০ মিটারের কম। আর রামসাগর ১৭৫০ সালের দিকে খনন করা হয়। কিন্তু আলতাদিঘি পাল রাজ্য শাসনের যুগের দিঘি।

জনশ্রুতি আছে, বরেন্দ্র অঞ্চলে একসময় প্রবল খরার কারণে মাঠ-ঘাট সব পুড়ছিল চরম পানি সংকটে। প্রজাদের দাবির কারণে স্থানীয় জগদল বিহারের (১০৭৭-১১২০ খ্রিস্টাব্দে) রাজা রামপাল ও সদর পালের রাজ্য শাসনের সময় রাজমাতা পুত্রের কাছে বর চাইলেন। ওয়াদা করিয়ে নেন, সকালে ঘুম থেকে ওঠে আমি যতদূর পর্যন্ত পায়ে হেঁটে যেতে পারব, ততদূর পর্যন্ত একটি দিঘি খনন করে দিতে হবে। মায়ের কথায় বৃদ্ধ মা হেঁটে চলেছেন তো চলেছেন আর থামেন না। রাজা, উজির, নাজির পড়লেন বেকায়দায়। এত লম্বা দিঘি খনন করবেন কী করে? তাই কৌশলে মায়ের পায়ে আলতা ঢেলে দিয়ে পা কেটে গেছে বলে তার চলার পথ বন্ধ করে দেন। সেই থেকে এই দিঘির নামকরণ করা হয় আলতাদিঘি।

পত্নীতলা থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী মকবুল ও বুলবুল বলেন, পরিবার নিয়ে করোনা ঝুঁকির মধ্য ঘুরতে এসেছি। বিশাল আলতাদিঘি এত সুন্দর মুখে বলে বোঝানো যাবে না। তারা বলেন, এখানে নিরাপত্তার অনেক অভাব। দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য নেই কোনো বিশ্রামাগার।