শনিবার, ১৫ জুলাই, ২০২৩ ০০:০০ টা

জামতলার ‘সাদেক গোল্লা’ সাত দশক ধরে ছুটছে

সাইফুল ইসলাম, যশোর

জামতলার ‘সাদেক গোল্লা’ সাত দশক ধরে ছুটছে
১৯৫৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। এর আবিষ্কারক শেখ সাদেক আলী এখন বেঁচে নেই। তবে তাঁর ছয় ছেলে বাবার সুনাম বজায় রেখে পারিবারিক ঐতিহ্যের ব্যবসাটি ধরে রেখেছেন।

‘রসের গোলক, এত রস তুমি কেন ধরেছিলে হায়!’ যে রসগোল্লার জন্য সৈয়দ মুজতবা আলীর এমন অনুভূতি, সেটা নিশ্চয় যশোরের জামতলার মিষ্টি নয়। যেখানকারই হোক না কেন, রসগোল্লা তো বাঙালি জীবনেরই একটা অনুষঙ্গ। তাই শহরে, গ্রামে-গঞ্জে পাওয়া প্রায় সব রসগোল্লাই বাঙালির রসনাকে শত শত বছর ধরে তৃপ্ত করে যাচ্ছে।

এর মধ্যেই কিছু কিছু এলাকার তৈরি রসগোল্লার নাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশে-বিদেশে। তেমনই একটা রসের গোলক জামতলার মিষ্টি। যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারণ-সাতক্ষীরা হাইওয়ের পাশেই জামতলা নামক স্থানে বিশেষ এই রসগোল্লা তৈরি হয় বলে এটি জামতলার মিষ্টি নামেই বেশি পরিচিত। আবার শেখ সাদেক আলী নামের এক ব্যক্তি বিশেষ এই রসগোল্লাটি তৈরি করেছিলেন বলে এটি সাদেক গোল্লা নামেও পরিচিত।

জামতলার মিষ্টির বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি স্পঞ্জের মতো, নরম এবং এতে মিষ্টতার পরিমাণ বেশ কম। যে কারণে এ মিষ্টি বেশি পরিমাণে খাওয়া যায়। ১৯৫৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। এর আবিষ্কারক শেখ সাদেক আলী এখন বেঁচে নেই। তবে তার ছয় ছেলে বাবার সুনাম ধরে রেখে পারিবারিক ঐতিহ্যের এ ব্যবসাটি আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। জামতলা বাজারেই রয়েছে তাদের একাধিক শোরুম। যশোর-বেনাপোল হাইওয়ের নাভারণ, যশোরসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের আরও কয়েকটি শোরুম আছে।

শুরুর কথা : সাদেক গোল্লার আবিষ্কারক শেখ সাদেক আলী ১৯৫৫ সালে চায়ের দোকানদার ছিলেন। প্রতিদিন তার দুধের প্রয়োজন হতো। প্রতিদিন গোয়ালারা এসে তার দোকানে দুধ দিয়ে যেতেন। একদিন গোয়ালারা বেশি দুধ নিয়ে এলে তিনি তা নিতে অস্বীকার করেন। কুমিল্লা থেকে আসা এক ব্যক্তি তাকে বলেন, ‘দুধের মান খুব ভালো, দুধ রেখে দাও, রাতে আমি মিষ্টি বানিয়ে দেব’। অসাধারণ স্বাদের সেই মিষ্টির সুনাম মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। তার কাছ থেকেই এই মিষ্টি বানানোর কৌশল শিখে নেন সাদেক আলী। সুনাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে এলাকার বাইরে। ছোট কারখানা আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। ১৯৯৯ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টানা ৪৪ বছর নিজ হাতে এই মিষ্টি তৈরি করেন তিনি। তার মৃত্যুর পর ছয় ছেলে আনোয়ার হোসেন, আলমগীর হোসেন, শাহিনুর, শাহজাহান, জাহাঙ্গীর ও নুরুজ্জামান সাদেক গোল্লার একই গুণ ও মান বজায় রেখে ব্যবসা করে যাচ্ছেন। অর্ডার অনুযায়ী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা এ মিষ্টি সরবরাহ করেন। বিয়ে, জন্মদিনসহ বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে জামতলার এ মিষ্টির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

সাদেক গোল্লার উপকরণ : অন্য সব রসগোল্লার মতোই দেশি গরুর দুধের ছানা দিয়ে তৈরি করা হয় যা ঘন চিনির রসে (সিরাপ) ডোবানো থাকে। কিছুটা লালচে-বাদামি রঙের এই রসগোল্লার সঙ্গে অন্য রসগোল্লার স্বাদের পার্থক্য তৈরি হয় মূলত বানানোর প্রক্রিয়াতে। এটি তৈরি করতে জ্বালানি হিসেবে তেঁতুল, বাবলা অথবা বেল কাঠের প্রয়োজন হয়। প্রথমেই দেশি গরুর দুধের ছানা দিয়ে বলের মতো ছোট ছোট গোল্লা তৈরি করা হয়। পরে অল্প তাপে এই গোল্লাগুলো চিনির সিরাপে সেদ্ধ করা হয়। গোল্লাগুলো বাদামি রঙের কাছাকাছি এলেই সাদেক গোল্লা তৈরি হয়ে যায়।

 

 

সর্বশেষ খবর