শনিবার, ২ মার্চ, ২০২৪ ০০:০০ টা

পাহাড়ে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত

আলপনা বেগম, নেত্রকোনা

পাহাড়ে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত

ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ আরজ আলী। হাতে থাকা ডুগডুগি বাজাচ্ছেন আর গান গেয়ে হাঁটছেন। নেত্রকোনা জেলার সীমান্ত উপজেলা দুর্গাপুরের কুল্লাগড়া ইউনিয়নে বিজয়পুর সীমান্তে সাদা মাটির পাহাড়ে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে।  এখানে পর্যটকরা ঘুরতে আসেন। তারা গান শুনে মুগ্ধ হয়ে যা দেন তাতেই তিনি খুশি।

 

নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বিজয়পুরে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতপ্রাপ্ত সাদা মাটির পাহাড় স্থানীয়দের কাছে কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত। নিম্ন-মধ্যবিত্তসহ বিভিন্ন মানুষের আয়ের পথ তৈরি হয়েছে এ পর্যটন এলাকাকে ঘিরে। প্রতিদিন ঘুরতে আসা মানুষের জন্য যাতায়াত, খাবার সরবরাহ এমনকি গান শুনিয়ে উপার্জন করার মাধ্যমে চলছে অনেকের জীবিকানির্বাহ।

পাহাড় ঘুরে দেখা গেছে, ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ আরজ আলীকে। হাতে একটি ডুগডুগি। বাজাচ্ছেন আর গান গেয়ে হাঁটছেন। নেত্রকোনা জেলার সীমান্ত উপজেলা দুর্গাপুরের কুল্লাগড়া ইউনিয়নে বিজয়পুর সীমান্তে সাদা মাটির পাহাড়ে এমন দৃশ্য। এখানে পর্যটকরা ঘুরতে আসেন। তারাও শুনে মুগ্ধ হয়ে যা দেন তাতেই তিনি খুশি। শুধু আরজ আলীই নয়; তার মতো আরও অনেকে এ পর্যটন এলাকায় জীবিকার জন্য নানা কাজ করছেন। কেউ কেউ ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে পান বিক্রি করছেন। আবার কেউবা ক্ষীরা, শসা বিক্রি করে চালাচ্ছেন সংসার। ঘুরতে আসা পর্যটকরাও রোদে তেষ্টা মেটাতে কিনে নিচ্ছেন এমন পানীয় ফল। আবার কেউ কেউ মোটরসাইকেলযোগে গাইডের মতো ঘুুরিয়ে উপার্জন করছেন। ইজিবাইকেও একই অবস্থা। দুই আড়াই ঘণ্টায় পরিশ্রম করে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় করছেন। তাদের প্রত্যেকের প্রতিদিনের ভালো একটি আয়ের উৎস এ এলাকার পর্যটক। এদিকে দিনভর ভালো রোজগারে আরজ আলীসহ অনেকেই খুশি। তারা মানুষকে সহযোগিতা করে আয় করছেন বলেও তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন। কারও কাছে হাত পাতেন না। এদিকে পর্যটকরাও আনন্দিত। অনায়াসে ঘুরে যেতে পারছেন। আবার গান শুনে যাচ্ছেন কোনো আয়োজন ছাড়াই। তবে চলাচলের সুবিধাটা আরেকটু ভালো হলে মানুষের কষ্ট কম হতো বলে জানান ঘুরতে আসা পর্যটকরা। এখানে দিনে দিনে পর্যটক বাড়বে। এতে এখানকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে মনে করেন তারা। জানা গেছে, সাদা মাটির পাহাড়ে পর্যটকদের কেন্দ্র করে মোটরসাইকেলচালক রয়েছে ১২ শতাধিক। ইজিবাইক রয়েছে ৫ শতাধিক। ছোট দোকান রয়েছে ২ শতাধিক। মাঝারি ও বড় দোকান রয়েছে প্রায় ৩ শতাধিক। স্থানীয় বাসিন্দা গানের পাখি খ্যাত বৃদ্ধ আরজ আলী বলেন, ভিক্ষা করি না। গান গেয়ে যাই। যে যা দেয় তাই নিয়ে খুশি থাকি। তিন মেয়ের মধ্যে দুটোকে বিয়ে দিয়েছি। সারা দিনে মোটামুটি ভালো আয় হয়।

সর্বশেষ খবর