শিরোনাম
বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০২৩ ০০:০০ টা

ক্যাশলেস লেনদেনে স্বাচ্ছন্দ্য

মানিক মুনতাসির

ডিজিটাল লেনদেন ও প্রযুক্তিগত ব্যবহার বাড়ার কারণে নগদ টাকার ব্যবহার কমে আসছে দ্রুত।  বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতি মাসে লেনদেন ছাড়িয়েছে লাখ কোটি টাকা। সে হিসাবে প্রতিদিন অন্তত ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে। এ ছাড়া বেড়েছে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার। আন্তব্যাংক অনলাইন লেনদেনও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের পুরো লেনদেনের ৭৫ শতাংশ নগদবিহীন (ডিজিটাল) লেনদেন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের পুরো লেনদেনের ৭৫ শতাংশ নগদবিহীন (ডিজিটাল) লেনদেন পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আশা করা যাচ্ছে, ধীরে ধীরে নগদ টাকার লেনদেন আর কমে আসবে। এতে আর্থিক খাতে চুরি, ছিনতাইয়ের ঝুঁকিও কমে এসেছে বলে তিনি মনে করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনন্দিক লেনদেন ছাড়িয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত ১৪টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে। তবে দু-একটি ব্যাংকের এই সেবা বিস্তৃতি লাভ করেছে দেশে ও দেশের বাইরে। একই সঙ্গে বেড়েছে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার। দ্রুত কমে আসছে নগদ টাকার ব্যবহার। ২০১৯ সালে কভিডকালীন বাংলাদেশে ই-কমার্সের ব্যাপক প্রসার ঘটে। অনলাইন কেনাকাটার বেশির ভাগ লেনদেনই সম্পন্ন হচ্ছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। মোবাইল ব্যাংকিং, ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে। আবার ক্রেডিট কার্ডের বিলও পরিশোধ করছেন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। অবশ্য ড্রপ বক্সেও জমা করা যায় ক্রেডিট কার্ডের বিল।

শুধু তাই নয়, ছেলেমেয়েদের স্কুলের বেতনও পরিশোধ করেন কার্ডের মাধ্যমে। হাসপাতালে নিজের চিকিৎসা ব্যয়ের বিলও পরিশোধ করেন কার্ড দিয়ে। বেশির ভাগ লোকই এখন নগদ লেনদেন এড়িয়ে চলছেন। এমন অবস্থা শুধু রাজধানী ঢাকাতেই নয়, বরং বিভাগীয় এবং জেলা শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি অনেক থানা ও উপজেলায়ও শুরু হয়েছে এমন ক্যাশলেস লেনদেন। এতে বাড়ছে কার্ডের ব্যবহার। কমছে কাগুজে চেকের ব্যবহার। জানা গেছে, হঠাৎ জরুরি প্রয়োজনে টাকার প্রয়োজনে ক্রেডিট কার্ড বড় সমাধান হয়ে এসেছে। তাছাড়া ইলেকট্রনিক, আসবাব, পোশাক, গাড়ি, ভোগ্যপণ্যসহ অনেক কিছু বর্তমানে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনা যাচ্ছে। দামি পণ্যের ক্ষেত্রে কিস্তির সুবিধাও মিলছে। হাসপাতালে বিলও দেওয়া যাচ্ছে ক্রেডিট কার্ডে। পকেটে টাকা না থাকলেও সমস্যা নেই, একটি ক্রেডিট কার্ড থাকলেই খাওয়া-দাওয়া কিংবা বাস-ট্রেন-বিমানের টিকিট কেনাও অতি সহজ হয়ে গেছে।

এদিকে বিদেশ ভ্রমণ সহজ করতে অনেকেই ক্রেডিট কিংবা ট্রাভেল কার্ড নেন। এ জন্য দ্বৈত মুদ্রার ক্রেডিট ও ট্রাভেল কার্ড সেবা চালু করেছে অনেক ব্যাংকই। সেই কার্ড দিয়ে দেশের ভিতরে টাকায় ও বিদেশে ইউএস ডলারে কেনাকাটা করতে পারে অতি সহজে। আবার ক্রেডিট কার্ড থাকলে বিমানবন্দরের লাউঞ্জও ব্যবহার করা যায়। ফলে আকাশ পথের ভ্রমণ অনেকটাই সহজ হয়েছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে করেছে সহজ-স্বাচ্ছন্দ্য আর উপভোগ্যময়। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অভাবনীয় পুনর্জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। আধুনিকায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ধারায় গ্রাহকসেবা ও চাহিদা পূরণে বেসরকারি ব্যাংকগুলো গতিশীল ভূমিকা রাখছে। অনলাইন পদ্ধতিতে যে কেউ এখন এটিএম (অটোমেটেড টেলর মেশিন) সেবার আওতায় যে কোনো জায়গা থেকে যে কোনো অঙ্কের টাকা তুলতে পারেন। তেমনি জমাও দিতে পারেন ড্রপ বক্সের মাধ্যমে। অর্থনীতির এই উৎকর্ষের ফলে কমছে দারিদ্র্য। বাড়ছে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। সহজ হচ্ছে জীবন ব্যবস্থা। 

জানা গেছে, বর্তমানে ব্যাংক খাতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক রয়েছে ১৯ কোটির বেশি। ক্রেডিট কার্ড রয়েছে ৩০ লাখের বেশি। আর ডেবিট কার্ড রয়েছে ৩ কোটিরও বেশি। কেনাকাটার ক্ষেত্রে ডেবিট ও ক্রেডিট উভয় ধরনের কার্ডের ব্যবহারই বেড়েছে। শুধু দেশের ভিতরেই নয়, বিদেশে গিয়েও এসব কার্ডে বিদেশি মুদ্রায় লেনদেন করার সুযোগ রয়েছে। সে জন্য বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড এখন অনেকটাই প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সঙ্গী হয়ে গেছে। ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ছাড়া নানা ধরনের কার্ডের প্রচলনে কমে  গেছে নগদ টাকা ব্যবহারের মাত্রা। বিশ্বজুড়ে আট ধরনের কার্ড প্রচলিত রয়েছে। সেগুলো হলো- ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, প্রিপেইড কার্ড, ভার্চ্যুয়াল কার্ড, গিফট কার্ড, মাল্টি-ফাংশনাল কার্ড, মেটাল কার্ড ও উডেন কার্ড। এসব কার্ডের প্রায় সবই বাংলাদেশেও চালু করা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর