ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতাল সরকারের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে দেশের মানুষকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। ৬৫ শতাংশ মানুষকে সেবা দিচ্ছে এ হাসপাতালগুলো। সেবার মান আরও এগিয়ে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান থাকবে বেসরকারি হাসপাতালকে প্রণোদনা দিয়ে পাশে থাকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রণোদনা মানে আর্থিক সাহায্য দিতে হবে এমনটা নয়। হাসপাতাল করার জন্য কোটি কোটি টাকা দিয়ে জায়গা কিনতে হয়। ব্যাংক জায়গা কেনার জন্য কোনো ঋণ দেয় না। বিশেষ সেবা খাত হিসেবে ব্যাংক থেকে ঋণ কিংবা সুদে কোনো ছাড় পাওয়া যায় না। হাসপাতালে বিদ্যুৎ, পানি সবকিছুর বিল পরিশোধ করতে হয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মে। অথচ সেবা খাত হিসেবে এখানে কোনো সুবিধা মেলে না। মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনার সময় কিছু ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড় মেলে, বাকি সব যন্ত্রপাতি পূর্ণ শুল্ক পরিশোধ করে কিনতে হয়। রি-এজেন্টের খরচ কমলে এমনিতেই টেস্টের খরচ কমে আসবে। এগুলো না কমিয়ে শুধু হাসপাতালে টেস্ট ফি কমালে সমাধান মিলবে না।’
হাসপাতালের সেবার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘২০০৪ সালে মাত্র ৫০ শয্যাবিশিষ্ট আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা করে এখন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ৩৫০ শয্যার সুপারস্পেশালিটি টারশিয়ারি হাসপাতাল হিসেবে মানুষকে সেবা দিচ্ছে। পাঁচটি সুপারস্পেশালিটি বিষয়ে মুমূর্ষু রোগীদের ৩৬৫ দিনে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা দেওয়া হয়। ৫০০ শয্যার ইউনিভার্সেল মেডিসিটি নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সেখানে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ট্রান্সপ্ল্যান্ট, লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট, বোন ম্যারো, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট হবে। ভবিষ্যতে হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হবে। মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যায়। এক দেশের ভিসা বন্ধ হলে অন্য দেশে যায়। দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত এখন চমকপ্রদ অবস্থানে রয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে সেবার মান। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন আরও শিথিল করতে হবে। তা হলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ট্রান্সপ্ল্যান্ট আরও বাড়বে। এজন্য সচেতনতা বাড়াতে কাজ করতে হবে।’
ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে মানুষ নেতিবাচক কথা বলে। কারণ সেখানে পকেট থেকে টাকা দিতে হয়। দেশে স্বাস্থ্যবিমা চালু থাকলে এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। এতে কেউ বড় রোগের চিকিৎসা করতে গেলে অধিকাংশ টাকা সেখান থেকে পাবে। ফলে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে কোনো পরিবারকে আর পথে বসতে হবে না।’ তাই দেশে অবিলম্বে এ ব্যবস্থা চালু করার জোর দাবি জানান তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ প্রজেক্ট পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় হয়। তবে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত কেন এ সুযোগ পাবে না?’ স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বরাদ্দ আরও বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।