লুবানা জেনারেল হাসপাতাল ও কার্ডিয়াক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে অগ্নিদগ্ধ-আহত শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা ছুটে এসেছিলেন আমাদের হাসপাতালে। ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করে তাঁদের চিকিৎসায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা। হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিয়ে মানুষের পাশে আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০০৫ সালে রাজধানীর উত্তরায় আমরা কয়েকজন উদ্যোক্তা মিলে গড়ে তুলি লুবানা জেনারেল হাসপাতাল ও কার্ডিয়াক সেন্টার। বেসরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে গিয়ে রোগীরা নানান ধরনের বিড়ম্বনায় পড়েন।
আমাদের লক্ষ্য ছিল রোগীসেবা নিশ্চিত করে কমিশনমুক্ত হাসপাতাল গড়ার। আমরা রোগীদের সে আস্থা অর্জন করতে পেরেছি। বিশেষ চক্রের যারা কমিশন নিয়ে রোগী ভর্তি করায় আমরা হাসপাতালের কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ত হতে দিইনি। আমাদের চেষ্টা ছিল ছাড় যদি কিছু দেওয়া যায় সেটা রোগীদের দেব। শুরু থেকে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম, আমরা সেটা বাস্তবায়ন করেছি। অল্প খরচে ভালো মানের সেবা পাওয়ায় দেশব্যাপী আমাদের সুনাম আছে।’
তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়িকভাবে আমরা কতটুকু সফল তা বলতে পারব না, তবে যে লক্ষ্য নিয়ে শুরু করেছিলাম তা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। বেসরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে দেশের মানুষের অনেক অভিযোগ আছে। তবে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই আমরা অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের রক্ষা করে চলছি। কারণ আমরা সেবায় বিশ্বাস করি।
সেজন্যই এ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। তাই রোগী এলেই অযাচিত কোনো টেস্ট কিংবা অপারেশন বা এমন কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয় না। সবকিছু পর্যালোচনা করেই রোগীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ফলে আমাদের হাসপাতালে রোগীরাই মূল প্রচারের কাজ করেন। রোগীরা সন্তুষ্ট হয়ে ফিরে গিয়ে অন্যদের কাছে সুনাম করেন। তাই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমরা কতটা সফল তা থেকে নৈতিকভাবে কতটা সফল বলতে পারি।’
মো. শাহ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে ১৭০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন।
সব সময় সেবা দিয়ে যাচ্ছেন প্রায় ১৫০ জন নার্স ও ৬০০ দক্ষ কর্মী। এ ছাড়া হাসপাতালে ১২টি আইসিইউ শয্যা, ১২টি সিসিইউ, ১০টি এইচডিইউ এবং ৮টি এনআইসিইউ রয়েছে। ১০ বছর আগেও দেশে তেমন ভালো চিকিৎসাসেবা ছিল না। সরকারি হাসপাতালে থাকলেও অধিক চাপ থাকায় সেটা নিয়েও মানুষ কথা বলে। তাই মূলত বেসরকারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ফলে দেশে এখন কিডনি প্রতিস্থাপন, হার্টের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা হচ্ছে।’
লুবানা জেনারেল হাসপাতাল ও কার্ডিয়াক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আমাদের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সেবার পরিধি বেড়েছে। হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো বিশেষায়িত সেবা মিলছে এসব হাসপাতালে। অনেক দেশ ভিসা বন্ধ করে দিলেও আমাদের রোগীদের সেবা পেতে সমস্যা হচ্ছে না। অনেকে ভেবেছিল বিদেশ যেতে না পেরে অনেক রোগী মারা যাবে, ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে আসবে। কিন্তু দেশের এই হাসপাতালের চিকিৎসকরাই সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলছেন মুমূর্ষু রোগীদের।