শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ ডিসেম্বর, ২০২০ ২৩:২২

ওয়ানডে ২০২০

লিটনের ১৭৬-ই সেরা

মেজবাহ্-উল-হক

লিটনের ১৭৬-ই সেরা

ক্রিকেটে ২০২০ সাল হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের জন্য স্বপ্নের এক বছর। প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিশ্বকাপ জয়। বড়দের ক্রিকেটেও শুরুটা হয়েছিল অমিত সম্ভাবনা নিয়ে। কিন্তু করোনাভাইরাস সব এলোমেলো করে দিয়েছে। তার পরও পরিসংখ্যানের আলোয় ওয়ানডে ক্রিকেটে বছরটা তো টাইগারদেরই। কারণ, ২০২০ সালে মাত্র যে তিনটি ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশ তাতেই উজ্জ্বল রেকর্ডবুক। বছরের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলেছেন বাংলাদেশের ওপেনার লিটন কুমার দাস।

সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে তার ১৭৬ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসটিই করোনার বছরে সেরা ইনিংস। মজার বিষয় হলো, দ্বিতীয় সেরা ইনিংসও টাইগারদের দখলে। সে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধেই ১৫৮ রানের আরেকটি ইনিংস খেলেন ড্যাসিং ওপেনার তামিম ইকবাল।

বছরে গড় রানের হিসাবেও সবার ওপরে বাংলাদেশের এ দুই ওপেনার। লিটনের ১৫৫.৫ ও তামিমের ১৫৫। মাত্র তিন ম্যাচ খেলে লিটন করেন ৩১১ রান, তামিম ৩১০। দুই ব্যাটসম্যানই দুটি করে সেঞ্চুরি হাঁকেন।

যদিও মোট রানের হিসাবে সবার ওপরে অস্ট্রেলিয়ার সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের অধিনায়ক অ্যারোন ফিঞ্চ। ১৩ ম্যাচ খেলে তিনি করেছেন ৬৭৩ রান।

সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার লেগস্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। ১৩ ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ২৭ উইকেট। এ ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলার আলজারি জোসেফ ১৮ উইকেট নিয়ে রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। সম্প্রতি টেস্টে ভারতকে ৩৬ রানে প্যাকেট করে দেওয়ার নায়ক অসি বোলার জস হ্যাজলউল ১৬ উইকেট নিয়ে রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। বছরে সেরা বোলিং নেপালের তরুণ স্পিনার সন্দ্বীপ লামিচানের। যুক্তরাষ্ট্র্রের বিরুদ্ধে ম্যাচে মাত্র ১৬ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট।

জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে লিটনের সেই অসাধারণ ইনিংসটি এখন ওয়ানডে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সেরা ইনিংস। একই সিরিজের প্রথম ম্যাচে তামিম ১৫৮ করে নিজের রেকর্ড ভেঙেছিলেন। ঠিক পরের ম্যাচেই তামিমকে টপকে লিটন করেন ১৭৬।

ওই ম্যাচে একটা সময় মনে হয়েছিল হয়তো প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি দেখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আর হয়নি। তবে বছর শেষে লিটনের সে ইনিংসই সেরা হয়ে গেল। তা ছাড়া বছরের একমাত্র ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদও পেয়েছে।

জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে সিরিজের পর আর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হয়নি টাইগারদের। করোনার কারণে একের পর এক ক্রিকেট ম্যাচ স্থগিত হয়েছে বাংলাদেশের। অন্যরাও যে খুব বেশি ম্যাচ খেলতে পেরেছে তা নয়। তবে বছরের প্রথম তিন ওয়ানডে যে দুর্দান্তভাবে খেলেছে সূচির সব ম্যাচ খেলতে পারলে পরিসংখ্যানটা আরও হয়তো উজ্জ্বল দেখাত।

ওয়ানডের দলীয় পরিসংখ্যানেও ওপরের দিকে জ্বলজ্বল করছে বাংলাদেশের নাম। কারণ এ বছরে টাইগারদের জয়ের হার শতভাগ। তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয়। করোনা মহামারীর বছরে এ এক সুখস্মৃতিই বটে। এ ছাড়া শতভাগ জয়ের রেকর্ড আছে কেবল শ্রীলঙ্কার। দ্বীপরাষ্ট্রটিও তিন ম্যাচ খেলে তিনটিই জিতেছে। আর কোনো দলের শতভাগ জয়ের কৃতিত্ব নেই।

আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড। তাদের জয় চারটি, হার চারটি। ভারতেরও জয়-পরাজয় চারটি করে। সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। ১৩ ম্যাচে তাদের জয় ছয়টি, হার সাতটি।

করোনা মহামারী বিশ্ব ক্রিকেটকে হুমকির মুখে ঠেলে দিলেও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় ও লিটন-তামিমের ক্যারিশমাটিক ব্যাটিংয়ের জন্য বছরটি টাইগারদের কাছে স্মরণীয় হয়েই থাকবে।

 

 


আপনার মন্তব্য